মানুষ নিজেকে কিছুটা সুশ্রী দেখাতে কত কিছুই না করে থাকে। তার মধ্যে পোশাক হচ্ছে অন্যতম। আর কর্মক্ষেত্রেও এখন পোশাকের বিশেষ মর্যাদা চোখে পড়ার মত। একজন ব্যক্তির সাজসজ্জা তাকে অন্যদের চোখে আকর্ষণীয় করে তোলে। অন্যদের চোখে তার পেশাদারি মনোভাব ফুটে ওঠে। সম্পূর্ণ মনোভাবটিই বদলে যেতে শুরু করে আশেপাশের মানুষের কাছে। আর এতে করে আপনি সাফল্যের পথে বেশ কিছুটা এগিয়েও থাকতে পারবেন।

আসুন সাজপোশাকের এমনই কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক আজ।

১। দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়

কর্মক্ষেত্রে সাজ-পোশাকের এত গুরুত্ব কেন? এরকম প্রশ্ন মনের এক কোণে উঁকি দিতেই পারে। অনেক ক্ষেত্রে অবশ্য আপনি নিজেও তার বিভিন্ন উত্তর খুঁজে বের করতে পারেন। তবে সহজ উত্তরটি হচ্ছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। দৃষ্টিভঙ্গির দৌলতে মানুষ অনেক কিছুই অর্জন করে ফেলতে পারে। পোশাকের কারণেই প্রথম দেখাতেই হয়তো আপনি আপনার বসের চোখে পড়ে যেতে পারেন। আর আলাদা ভাবে বসের চোখে পড়ার সুবিধাও কিন্তু বিস্তর। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি আপনার মতামত নিতে পারেন। কারণ এই সাজসজ্জা আপনার পেশাদারিত্বের প্রমাণ বহন করে।

২। আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে

পরিচ্ছন্ন  এবং সুন্দর পোশাকের দরুন আপনি নিজ মনেও শান্তি ফিরে পাবেন। এর ফলে কর্মক্ষেত্রে আপনার নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস টিকে থাকবে। যা আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে বহুগুণে। এর ফলে আপনার কাজের অগ্রগতি দেখে আপনার বস খুশি হয়ে প্রোমোশনটা হয়তো কিছু আগেই করে দিতে পারে। তাই সবসময় পরিচ্ছন্ন পোশাক পড়ুন।

৩। আত্মমর্যাদা অটুট রাখতে সহায়তা করে

আগেই বলা হয়েছে সাজ পোশাকের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির পেশাদারিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। আর কর্মক্ষেত্রে যার পেশাদারিত্ব যতবেশি, তার মর্যাদাও অন্যদের কাছে সবসময় ততবেশি থাকে। আর এভাবেই নিজের প্রতিও মানুষ শ্রদ্ধাশীল হয়ে পড়ে। তার আত্মমর্যাদা কয়েক ধাপ বেড়ে যায়।

 

৪। আকর্ষণম করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়

অন্যকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে একজন দলনেতার অনেক গুণ থাকা আবশ্যক। কথাবার্তা, চালচলন বা কন্ঠের দৃঢ়তা যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন পোশাকে পরিপাটিভাব। এ সকল বৈশিষ্ট্য একজন দলনেতার ব্যক্তিত্বকে অন্যদের নিকট দৃঢ় করে তোলে। এর ফলে তিনি খুব সহজেই অন্যদের কাছে শ্রদ্ধার পাত্রে পরিণত হন এবং তাকে সবাই পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করবে।

৫। তাৎক্ষণিকভাবে মিটিং-এ যোগ দেয়া

কর্মক্ষেত্রে কখন মিটিং চলে আসে তা আগে থেকে সবসময় বলা যায় না। ধরুন, আপনি একটি নামী প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এখন হঠাৎ যদি এই প্রতিষ্ঠানের কোনো বড় ক্লায়েন্ট বা খদ্দেরের সাথে আপনার মিটিং-এ যেতে হয়, আর আপনার পোশাক যদি তখন ভাল না হয় তাহলে আপনার দেহাবরণ দেখেই খদ্দেরের মনে একটি নেতিবাচক পর্দা নেমে আসবে। শুধু যে আপনার প্রতিই নেতিবাচক মনোভাব আসবে তা নয়, আপনার কারণে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতিও তিনি আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন আর তা থেকে আপনার প্রতিষ্ঠান একজন বড় খদ্দেরকে হারাবে, যার দায় ভার আপনাকেই নিতে হবে। তাই সবসময় পোশাকের প্রতি নজর রাখুন। যাতে এধরণের পরিস্থিতিতে আপনি খুব সহজেই খাপ খাওয়াতে পারেন এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করে উন্নতি লাভ করতে পারেন।

তবে কর্মক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে নির্দিষ্ট ড্রেসকোড বা পোশাকের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে। যেমন, অফিসে কখনো জিনস বা রঙ্গিন শার্ট পরে যেতে পারবেন না। কারণ অফিসের যে নিজস্ব পরিবেশ থাকে, তাতে এধরণের পোশাক সম্পূর্ণ বেমানান। তাই আপনার কখন ওই এর ব্যতিক্রম করা উচিৎ নয়। এতে করে আপনি অন্যদের চোখে হাসির পাত্রও হয়ে যেতে পারেন। যা আপনার সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই যখন নতুন কোনো কর্মক্ষেত্রে যাবেন, তখন সঠিকভাবে সেখানকার ড্রেস কোডগুলো জেনে নিন।আর সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করুন, দেখবেন সাফল্যের পথে আপনি তরতরিয়ে উঠে যাচ্ছেন।