প্রযুক্তি সবসময় বদলায়। এক যুগ আগেও যা ছিল কল্পনা বর্তমানে তা বাস্তব। Li-Fi হল এমন একটি যোগাযোগ প্রযুক্তি যা ভবিষ্যতে তার বিহিন মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হবে। আমরা এখন সাধারণত বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করছি যোগাযোগের ক্ষেত্রে। যার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। ধারনা করা হচ্ছে Li-Fi ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রে ব্যপকভাবে ব্যাবহার হবে।

স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাপক হেরাল্ড হেস ২০১০সালে প্রথম Li-Fi নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পরে তিনি নিজের একটি কোম্পানি খুলেন যার নাম PureLiFi। ২০১১ সালের অক্টোবরে আরও কিছু কোম্পানি যুক্ত হয় এবং কাজ শুরু করে। তাঁরা মুলত বেতার তরঙ্গের সাহায্যে তারবিহীন মাধ্যমে যোগাযোগের যে সীমাবদ্ধতা আছে সেগুলা দূর করতে কাজ করে। Li-Fi হল একটি দ্বিমুখী, দ্রুত গতির যোগাযোগ মাধ্যম যেটি আলোর সাহায্যে কাজ করে। এটি ওয়াই ফাই এর বদলে অথবা ওয়াই ফাই এর মত ব্যাবহার করা যাবে। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল সাধারণ যেসব স্থান তরিতচুম্বক স্পর্শকাতর সেসব স্থানে যেমন উড়োজাহাজ, হাসপাতাল, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যাবে।

Li-Fi এর বর্ণালি ১০০০০ গুন বড় বেতার তরঙ্গের থেকে। Li-Fi নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে এবং এর গতি বাড়ছে। ২০১৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত গবেষকরা এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ১.৬ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম হন একটি সিঙ্গেল রঙের LED  লাইট ব্যাবহার করে। ২০১৪র এপ্রিলে রাশিয়ান একটি দল যার নাম স্টিন্স কমান এর গতি সেকেন্ডে ১.২৫ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। একই বছর মেক্সিকান কোম্পানি সিসফট ১০ গিগাবাইট করেন। বর্তমানে ২৮ গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ডে এটি কাজ করতে পারে।

Li-Fi কাজ করে LED  লাইট কে অন এবং অফ করে। এটি এত দ্রুত কাজ করে যে মানুষের চোখ এটি ধরতে পারেনা। LED একটি সেমিকন্ডাক্টর হওয়ায় এর উজ্জলতা খুব দ্রুত বদলাতে পারে। Li-Fi এর একটি ট্রান্সমিটার ও একটি সেন্সর আছে যেটা দ্বিমুখী যোগাযোগকে নিশ্চিত করে।

Li-Fi ৭৭০০০ লাক্স সূর্যের আলোয় কাজ করতে পারে। মানুষের চোখ যদিও বুঝতে পারেনা তবু এটা রাতের বেলায় কিছুতা অস্পষ্ট হয়। Li-Fi এর মুখোমুখি কিছুর সাথে যুক্ত হওয়া লাগেনা যেটা রিমোট কন্ট্রোলে লাগে।

Li-Fi যদিও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেগুলা দূর করা সম্ভব। যেমন এটি খুব কম জায়গায় কাজ করতে পারে কারন আলো দেওয়াল ভেদ করতে পারেনা। কিন্তু এর ফলে এর নিরাপত্তা খুব শক্তিশালীহয়। Li-Fi পানির নিচে কাজ করতে পারে। পানির নিচের যানবাহনে এটি খুব ভাল ব্যবহার করা যাবে। পানির বাহনগুলো তার এর উপর নির্ভর করে।ফলে বেশি দূর যেতে পারেনা। কিন্তু Li-Fi এর ব্যাবহারে এটি বেশ দূর পর্যন্ত যেতে পারবে। এছাড়া হাসপাতালে ব্যবহার সহজ কারন এর প্রভাব মানুষের কিংবা হাসপাতালের যন্ত্রের উপর পরবেনা

এখন অনেক কোম্পানি Li-Fi নিয়ে কাজ করছে। খুব দূর নয় সেদিন যেদিন আমরা ঘরে ঘরে ওয়াই ফাই রাউটার এর বদলে Li-Fi লাগাবো।

তথ্যসূত্রঃ

https://factsc.com/li-fi/