একটি প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকটাই সংশ্লিষ্ট নেতাদের ব্যক্তিত্বের ওপর নির্ভর করে। নেতৃত্ব এমন একটি গুণ যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলমান প্রক্রিয়ায় বিকাশ লাভ করে। সফল নেতারা সবসময় শেখার মধ্যেই থাকেন এবং কিভাবে তার অনুসারীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে পারবেন সেই চিন্তায় থাকেন।

জীবনে কোনো না কোনো সময় আপনাকেও নেতৃত্বের হাল ধরতে হয়। এমনকি সংসারটিকে সুন্দরভাবে চালাতেও নেতৃত্ব দিতে হয়। সুষ্ঠু নেতৃত্ব একটি বিশেষ গুন। একটি দলের উপর নিজের কৃতিত্ব বজায় রাখা অনেকটাই কঠিন তবে অসম্ভব কাজ নয়।  এখানে একজন ভাল নেতা হতে হলে কি কি অভ্যাস থাকা উচিত তার কিছু ধারণা দেয়া হলোঃ

 

অভ্যাস # : সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন

মানুষের জীবনে সময় কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যিনি সময়ের ব্যাপারে সচেতন তার সাফল্য অনিবার্য। দায়িত্বশীল ব্যক্তি সময়ের সদ্ব্যবহার করে, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে যোগ্যতা প্রমাণ করে। অনেক যোগ্য ব্যক্তি সময়ের অবহেলা করে নিজেকে অযোগ্য ব্যক্তির কাতারে শামিল করে। সফল ব্যক্তিরা সঠিক সময়ে সঠিক কাজ সম্পন্ন করে। বস্তুত সময়ের সদ্ব্যবহার না জানলেই মানুষ কাজের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। চেষ্টা করুন প্রত্যেকটি কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগে শেষ করতে।  সফল নেতা হতে হলে সময়জ্ঞান থাকতেই হয়। প্রতিটা মুহূর্তের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই একজন সাধারণ ব্যক্তিত্ব নেতায় পরিণত হতে পারেন।

অভ্যাস # : প্রতিনিধিত্ব করা শিখুন

একজন ভালনেতা হবার প্রথম আর প্রধান শর্ত হলো প্রতিনিধিত্ব করতে পারা। একজন ভাল নেতা হওয়ার একটা সমস্যা সে তখন নিজে নিজে সবকিছু করার চেষ্টা করে। তিনি সেসময় শুধু নিজেকেই যথাযোগ্য ভাবে, নিজের কাজ আপনার কর্মীদের চেয়ে ভাল মনে হয়। কিন্তু এমন মনোভাব নিয়ে সফল নেতা হওয়া যায়না একজন মহান নেতা জানেন যে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হচ্ছে অন্যদেরও উন্নয়নের সাথে সংযুক্ত করা,দলগত ভাবে কাজ করা। আপনার যদি প্রতিনিধিত্ব করার দক্ষতা না থাকে তাহলে কর্মীরা আপনার কথা মান্য করবে না। সেজন্য দলের সবাইকে সাথে নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করে সামনে এগোনো উচিত।

অভ্যাস # : বার সংগে যুক্ত থাকা

ভাল নেতার একটা বিশেষ গুণ সবার সাথে মিশতে পারা। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি মানুষ সম্পর্কে ধারনা থাকা। যদিও আধুনিক সময়ে যোগাযোগের জন্য ইমেইল,ফোন এমন অনেক কিছুই বর্তমানে সহজ উপাদান, কিন্তু কার্যকর নেতারা মুখোমুখি কথা বলার গুরুত্ব বুঝতে পারে। কি ঘটছে তা খুঁজে বের করার সবচেয়ে ভাল উপায় হল আপনার অফিস থেকে প্রত্যেকের সাথে কথা বলার জন্য বের হওয়া, প্রত্যেক সপ্তাহে সময় আলাদা করা- রিসেপশনিস্ট, সরবরাহ ক্লার্ক এমনকি দলের সমস্ত  সদস্যদের জন্য। তা না হলে যখন সমস্যার উদ্ভব হবে যখন আপনি লোকেদের জিজ্ঞাসা ঙ্করবেন যে তারা কী করছে, কি ভাল কাজ করছে এবং কি ভাল কাজ করতে পারে, তখন আপনি সঠিক তথ্য পাবেন না। সেজন্য একজন ভাল নেতা হিসেবে প্রকাশ পেতে সবার সাথে ভাল যোগাযোগ রাখুন,সব দিকে নিজের দৃষ্টি রাখুন।

 

অভ্যাস # : গভীরভাবে শুনুন

সব কিছু শুনে গভীর বিবেচনার মাধ্যমেই সফল নেতা হওয়া সম্ভব।অন্যের কথোপকথনের সময় তা গভীর ভাবে শ্রবণ করুন, সে কি বলতে চায় বুঝুন। এবং কথোপকথন বিচার বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করুন। আপনাকে যা বলা হচ্ছে বা লোকে আপনার সম্পর্কে যা বলছে মন দিয়ে শুনুন,তা নিয়ে ভাবুন। প্রত্যেকের কথাকে গুরুত্ব দিন,তাদের মতামত নিন। এই ধরনের শ্রবণ বিশ্বাস এবং সম্মান তৈরি করে, এবং এটি ভাল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। যেকোন সুসম্পর্কের জন্য অন্যদের কথা শোনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকরা কী চায় এবং তাদের কী দরকার সে ব্যাপারে ভাল নেতারা মনযোগ দেয়। তারা তাদের সহকর্মীদের কথাও শোনে এবং যেকোন নতুন আইডিয়াকে স্বাগত জানায়।

অভ্যাস # : সর্বদা নতুনের চিন্তা করুন

ভাল নেতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো সর্বদা “নতুন কিছু করার” মানসিকতা। সবসময় নতুন কিছু বা নতুন আইডিয়া কে গ্রহণ করুন। এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। নতুন কিছু সফলভাবে করতে পারবেন। একজন মহান নেতা সবসময় পরবর্তী বড় বড় ধারণা নিয়ে চিন্তা করেন। সফল নেতারা প্রত্যেকের থেকে নতুন ধারণা পেতে তাদের উৎসাহিত  করেন। সেই সফল নেতা হয়, যার দলের সদস্যরা উল্লেখযোগ্য নতুনত্ব তৈরি করবে। সবার মেধার মূল্যায়নের জন্য তাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দিতে হবে। তাদের চিন্তা ও নতুন ধারণা সৃষ্টির স্বাধীনতা দিতে হবে। একজন আদর্শ নেতা নিজের চিন্তাধারা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেন এবং অন্যদেরটাও গ্রহণ করেন।

 

https://www.success.com/article/5-habits-that-will-make-you-a-better-leader