অন্যের জন্য কিছু না করে আপনি একটি দিনও অতিবাহিত করতে পারবেন না।

 

কিন্তু সত্যিকারের নিঃস্বার্থ ব্যক্তি এই যুগে খুঁজে পাওয়াটা মুশকিল। আর বিশেষ করে একারণেই এই যুগে মানুষ তার প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পায় না। একজন স্বার্থপর ব্যক্তি কখনো অন্যকে বিশ্বাস করে না, কারণ সে অন্যকেও স্বার্থপর ভাবে। তার মাথায় সবসময় ঘুরপাক খেতে থাকে মানুষ কখনো তাকে কোন ব্যাপারে সাহায্য করবে না, সবসময় তার ক্ষতি করার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এগুলো হচ্ছে একজন স্বার্থপর ব্যক্তির মনের কোণে জমে থাকা কিছু আবর্জনা।

 

আসুন জেনে নেয়া যাক, মনোবিজ্ঞানীদের মতে একজন স্বার্থপর ব্যক্তি কিভাবে তার নিজের জীবনকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

 

স্বার্থপরতা দ্বন্দ্ব বাড়ায়

আপনি যখন স্বার্থপরের মত আচরণ করবেন, তখন আপনি সব কাজে বেশি করে তর্কে জড়িয়ে পরবেন এবং অন্যদের সাথে আপনার মতবিরোধ দেখা দিবে। খেয়াল করে দেখবেন স্বার্থপর মানুষেরা বেশিরভাগ সময়ই রেগে থাকেন। তাই তাদের সাথে অন্যদের সমস্যা লেগেই থাকে।

 

স্বার্থপরতা আপনার আনন্দ কেড়ে নেয়

এটি আপনার আনন্দ কেড়ে নেবে কারণ আপনি প্রতিটি কাজেই কিছু না কিছু খুঁত খুঁজে বের করবেন। যার ফলে আপনি নিজের কোন কাজেও সন্তুষ্ট হবেন না। একই সাথে অন্যের কাজেও খুশি হবেন না। যার ফলে আপনি হতাশায় পড়ে যাবেন। জীবনের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলবেন।

 

স্বার্থপরতার কারণে মানুষ অবাস্তব প্রত্যাশা করে

স্বার্থপরতার ফলস্বরূপ অন্যদের কাছ থেকে আপনার প্রত্যাশা বেড়ে যাবে। আপনি সবার কাছ থেকে এমন একটা কিছু চাইবেন, যা তাদের পক্ষে আদৌ দেয়া সম্ভব না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, আপনি চাইবেন অন্যরা যাতে আপনার প্রতি যত্নশীল হোক। দেখা যাবে অন্যরা আপনার প্রতি ঠিকই যত্নশীল, কিন্তু আপনি তার থেকেও বেশি কিছু চাচ্ছেন। আর সেটাই হয়তো তাদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। মোটকথা, স্বার্থপর ব্যক্তিরা কখনো অল্পে সন্তুষ্ট হতে পারে না।

 

সমালোচনা মেনে নেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যায়

আমদের প্রত্যেককেই জীবনে কখনো না কখনো সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হতে হবে। কিছু সমালোচনা কিন্তু আমাদের জন্য পজিটিভ। এই সমালোচনার ফলে আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। ফলে পরবর্তীতে আমরা আরও ভালভাবে কোনো কাজ করতে পারি। কিন্তু যে ব্যক্তি স্বার্থপর, তিনি কখনই কোনো ধরনের সমালোচনা শুনতে রাজি নন। তিনি ধরেই নেন, তিনি যা করছেন তা সবসময়ই ঠিক করছেন। এবং তিনি এটিও ধরে নেন যে, তার সত্যিকারের বন্ধু সবসময় তার পজিটিভ দিকগুলোর দিকেই নজর রাখবে এবং তার নেগেটিভ দিকগুলোকে এড়িয়ে যাবে। আর যখন কোন বন্ধু তার সমালোচনা করে, তখন তিনি সেই বন্ধুকে শত্রু ভাবতে শুরু করেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। তিনি একেবারেই একা হয়ে যান।

 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, একজন স্বার্থপর ব্যক্তি জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই উন্নতি লাভ করতে পারেন না। প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি হোঁচট খেয়েই যাবেন। সাফল্য কখনো তাকে ধরা দেবে না।

 

এবার চলুন তো, আমরা স্বার্থপর ব্যক্তি সম্পর্কে উপরে যেসব কথা বলেছি সেগুলোকে একবার উল্টে দেই! দেখা যাক, আমরা কোনো সাফল্যের দেখা পাই কিনা।

 

নিঃস্বার্থতা বন্ধুত্ব বজায় রাখে

একজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তি কখনো অপরকে অসম্মান করে কথা বলেন না। তিনি কখনো রেগে যান না। কখনো অন্যের কাজকে হেয় করেন না। আপনি যদি একজন নিঃস্বার্থ মানুষ হন, তাহলে দেখবেন অন্যদের কাছ থেকে আপনি কি পরিমাণ শ্রদ্ধা এবং ভালবাসা পাচ্ছেন। আপনি যখন অন্যের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবেন, তখন তারাও আপনার বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবে। তাহলে ভাবুন একবার, নিঃস্বার্থ মানুষেরা কখনো কি নিজেকে একা মনে করতে পারেন? অবশ্যই না। আর মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি একা নন তার দরজায় সাফল্য এসে কড়া নাড়বেই ।

 

জীবনকে উপভোগ করতে পারে

যে ব্যক্তি কারণে অকারণে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ান না, যিনি সব কাজেই প্রেরণা খুঁজে পান, যিনি অন্যকে হেয় করে কথা বলেন না, যিনি অন্যের উপকার করে মনে শান্তি খুঁজে পান, যাকে সবাই পছন্দ করে তিনি কিভাবে জীবনের প্রতি আকর্ষণ হারাবেন? তার কাছে জীবন হচ্ছে উপভোগের বিষয়।

 

অল্পতেই সন্তুষ্টি

নিঃস্বার্থ ব্যক্তি সবসময় অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদের কাছ থেকে উপকারের বিনিময়ে তিনি কিছুই চান না, প্রত্যাশা তো দূরের কথা। তাই তিনি সর্বদা মনে শান্তি অনুভব করেন।

 

নাকেহ্যাঁতে রূপান্তর করতে পারে

একজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তি সম্পর্কে সমালোচনা করার ক্ষমতা কেউ রাখে না। কিন্তু তারপরও যদি কেউ তাঁর কোন একটি দিকের সমালোচনা করেও থাকে, তাহলে তিনি সেটাকে খুব সহজেই মেনে নিতে পারেন। তিনি জানেন, এই সমালোচনা হচ্ছে তাঁর জীবনকে সঠিক পথে নেয়ার একটি চালিকাশক্তি মাত্র। তিনি যেকোনো নেগেটিভ বিষয়কে পজিটিভ বিষয়ে রূপান্তর করতে পারেন।

 

তাহলে আপনি নিজেই একবার ভেবে দেখুন, যে ব্যক্তি সবরকম স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে, যার চরিত্রে এই দিকগুলো প্রতীয়মান, যাকে সকলে বন্ধু মনে করে, যিনি সকলের উপকারে সর্বদা হাত বাড়িয়ে দেন, যিনি জীবনকে উপভোগ করতে জানেন তিনি কিভাবে সফল না হয়ে থাকতে পারেন?

 

সুত্রঃ

https://www.success.com/blog/real-success-begins-where-selfishness-ends

https://relevantmagazine.com/life/4-ways-selfishness-ruins-your-life