বর্তমানে খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয় যোগাযোগ দক্ষতা।  শুধু বর্তমানে নয়, এটি অতীতেও প্রয়োজনীয় ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চাকুরী বলি আর নিজের ব্যবসা কিংবা যাই শুরু করার কথা বলি, যোগাযোগের দক্ষতা  ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তাই নয়, যোগাযোগের দক্ষতা মানুষের মাঝে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকেও বাড়িয়ে তোলে।  এর মূল উদ্দেশ্য হল নিজের মনের কথা বা উক্তি অপরকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়া। বিশ্বাস ও সম্মান অর্জনের জন্য সুখী সম্পর্ক ও দলগত কাজের জুড়ি নেই এবং সেজন্য  যোগাযোগ দক্ষতার উন্নতি করা খুবই প্রয়োজন।

অন্যের কথা বুঝতে পারার ক্ষমতা গড়ে তোলা এবং তা পরিচর্যার মাধ্যমে যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করার জন্য কিছু ছোট বিষয় মাথায় রাখতে হবে। চলুন জেনে নেয়া যাক এমনি কিছু টিপস সম্পর্কে যা আপনার যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

 

১. মানুষের প্রতি সঠিক মনোভাব রাখুনঃ

সাফল্যের একটি মূলনীতি হচ্ছে অন্য মানুষের সহযোগিতা  নিয়ে সফলতা অর্জন করা। ইতিহাসে একসময় মানুষ বল প্রয়োগ করে অন্যের ওপর প্রতিপত্তি লাভ করত, আর এখন মানুষ স্বেচ্ছায় আপনাকে সমর্থন করবে। এটা সম্ভব হয় অন্যের সাথে নিজের  যোগাযোগ দক্ষতার দ্বারাই। অন্যের প্রতি সঠিক মনোভাব থাকলে তবেই আপনি অন্যের সাথে যোগাযোগে সমর্থ হবেন। মনে রাখবেন আপনি অন্যের প্রতি যেমন মনোভাব প্রকাশ করেন, অন্যরাও আপনার প্রতি তেমনি মনোভাব প্রকাশ করে।

২.পরিস্থিতি বুঝুন:

প্রতিটি মানুষ নতুন কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিংবা নতুন পরিচয়পর্বে ভিন্ন আচরণ করে থাকে। যখন ব্যাপারটা নিজেদের মাঝে সহজ হয়ে আসে তখনও ব্যাক্তিভেদে আচরণ ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তবে আপনার কর্মীদেরকে জানুন।কার সাথে কিভাবে আলোচনা করলে কিংবা কথা বললে সবচেয়ে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে সেটা জানুন,সেভাবে আচরণ করুন।

 

৩. মনোযোগ দিয়ে শোনা:

অনেকেই কথোপকথনের কথা শোনার দিকে খুব একটা নজর দেয় না। এটা মোটেও ঠিক নয়। অন্যের কথা বুঝতে পারার জন্য  প্রথমেই নজর দিতে হবে কথাটা ভালোমত শোনার জন্য। মনোযোগ দিয়ে না শুনলে অনেক কিছুই খেয়াল করা হয়ে উঠে না। সেক্ষেত্রে দেখা যায় যে যখন কথার  উত্তরে কিছু বলতে যাবেন তখন কথা খুঁজে পাবেন না। এজন্য উচিত মনোযোগ দিয়ে বক্তার কথা শোনা। তাহলে কথোপকথন খুব সহজেই চালিয়ে যাওয়া যায় কোন রকম বাধা ছাড়া।

৪. শারীরিকভাষা বোঝার চেষ্টা করুনঃ

সফল যোগাযোগের ক্ষেত্রে কথা বলার মতই   মুখের অনুভূতি ও শারীরিক ভঙ্গিমাও গুরুত্বপূর্ণ। কথা বলার সাথে অঙ্গভঙ্গির প্রকৃত সমন্বয় মনের ভাবকে স্পষ্টতর করে তোলে ।শ্রোতাদের সাথে সংযুক্ত থাকার অন্যতম উপায় হল চোখে চোখ রেখে কথা বলা। চোখে চোখ রাখলে শ্রোতাদের সাথে সংযোগ তৈরি হয় এবং তারাও বক্তার বক্তব্যে আকৃষ্ট হয়।

 

৫. নিজের কথা অন্যকে বুঝাতে পারা:

নিজের বক্তব্যকে অন্যের কাছে ফুটিয়ে তুলতে পারাটাও যোগাযোগ দক্ষতার একটি  অংশ। কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে পারলে খুব সহজেই নিজের কথাকে অন্যের কাছে উপস্থাপন করা যায়। কথা বলার সময় খুব দ্রুত কথা না বলা, শ্রোতার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, শারীরীক অংগভঙ্গীর দিকে লক্ষ রেখে কথা বলা  ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের বক্তব্য সহজেই শ্রোতাকে বোঝান সম্ভব।

৬. সঠিক শব্দ ব্যবহারঃ

 

কথা বলার সময় সঠিক শব্দ ব্যবহার করা জরুরি। কোন শব্দ ব্যবহারে নিশ্চিত হতে না পারলে তা ব্যবহার না করাই শ্রেয়। সঠিক উচ্চারণ এবং কথা বলার গতি ও শব্দের তীব্রতাকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ যাতে অন্যদের আগ্রহ ধরে রাখা যায়। জড়তা কাটিয়ে কোন বিষয়ের ওপর স্পষ্ট বক্তব্য দিলে  শ্রোতারা তাতে মোনোযোগী থাকেন।

৭.কথোপকথনে মনোযোগী হোন:

যোগাযোগের জন্য মনোযোগ হলো মূল একটা বিষয়। যখন  কারও সাথে কতাহ বলবেন  তখন তার প্রতি পরিপূর্ণ মনোযোগ দিন। তার কথায় মনোযোগ দিন,প্রশ্ন করুন,উত্তর দিন,তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খেয়াল করুন। তাকে বুঝতে দিন যে তার প্রতি আপনার পূর্ণ মনোযোগ আছে। এতে করে যোগাযোগটা সহজ হয়ে যাবে।

৮.গলার স্বর নিয়ন্ত্রণে রাখুন:

আপনার গলার স্বর বলে দিবে আপনার প্রতি অন্য একজন মানুষের ধারণা কি। আপনি যদি গলা চড়িয়ে কথা বলেন তাহলে মানুষ সেটিকে আক্রমণাত্নক হিসেবে নিবে। আপনার প্রতি ধারনা হবে নেগেটিভ এবং শত্রুভাবাপন্ন। সবসময় পরিস্থিতি অনুযায়ী গলার স্বর ব্যবহার করুন। আপনার প্রতি সবার মনে ভালো ধারনা তৈরি করুন।

দক্ষ যোগাযোগকারি হওয়া তেমন কঠিন নয়। সঠিক জ্ঞান ও যুক্তিযুক্ত কর্মের মাধ্যমেই যোগাযোগ দক্ষতাকে শানিত করে তোলা সম্ভব।

 

https://www.wikihow.com/Communicate-Freely-with-People