একজন পরীক্ষক শিক্ষার্থীর ধরন বিবেচনা করবেন না। তিনি দেখবেন একজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষার খাতায় কেমন উপস্থাপন করে। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকরা যে বিষয় গুলো গুরুত্ব দেন তা হল- খাতার সৌন্দর্য, বানানের প্রতি গুরুত্ব, নিয়মানুসারে বাক্য গঠন, নির্ভেজাল তথ্য উপস্থাপন, অপ্রয়োজনীয় শব্দ বা ভাষা পরিহার, কটা কাটি না করা, অপ্রসঙ্গীক বিষয় উপস্থাপন না করা, প্রশ্নোত্তরের ধারাবাহিকতা থাকা, প্রয়োজনীয় মার্জিন থাকা, উদ্দীপক ও পাঠ্য বইয়ের মিল বন্ধন, গঠনমূলক ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।

সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের এই পদ্ধতিতে উত্তর উপস্থাপনের কৌশল বা নিয়ম গুলো সম্পর্কে জানতে হবে। এখন আমরা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর [ সৃজনশীল উত্তর ] লেখার কৌশল গুলো জানব।

 

শুধু গণিত ও ইংরেজী বিষয় ব্যতীত সকল বিষয়ের  সৃজনশীল প্রশ্ন  [ সৃজনশীল উত্তর ]  পদ্ধতি একই রকম। সুতরাং এই পদ্ধতিতে উত্তর দেওয়ার কৌশলও একই রকম।

প্রশ্নঃ (ক) জ্ঞান মূলকঃ প্রদত্ত নম্বর-১

এই অংশে সাধারণত কী, কে, কখন, কোথায়, কাকে বলে, এই ধরনের প্রশ্ন থাকে। এর উত্তর একটি শব্দ, একাধিক শব্দ অথবা একটি বাক্যে দেওয়া যেতে পারে। তবে একটি উত্তর একটি বাক্যে দিলে ভাল হয়। এই অংশের উত্তর সরাসরি পাঠ্য বই থেকে এক কথায় বা এক বাক্যে সঠিক উত্তর দিতে হয়। কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষনের দরকার হয় না।

 

প্রশ্নঃ (খ) অনুধাবন মূলকঃ প্রদত্ত নম্বর- ২ (১+১)

এখানে দুইটি অংশ থাকে। প্রতিটি অংশের নম্বর-১। জ্ঞান মূলকে-১, চিন্তন বিশ্লষনে-১। এই ক্ষেত্রে উত্তরটি দুইটি প্যারায় দিতে হয়। এই অংশে সাধারণত কী বোঝায়, ব্যাখ্যা কর, বর্ণনা কর, কোন এ ঘটনা ঘটে ইত্যাদি জাতীয় প্রশ্ন থাকে। এটি হল মূল বিষয় বস্তুর জ্ঞান আকারে লেখা।

দ্বিতীয় প্যারায় ঐ মূল বিষয় বসতুটি কয়েকটি বাক্যে নিজের ভষায় ব্যাখ্যা করে, বুঝিয়ে বা বিশ্লেষন করে লিখতে হবে। এটি হল অনুধাবন অংশ। এটি ৩-৪ বাক্যের বেশি হবে না। মনে রাখতে হবে অনুধাবন মূলক প্রশ্নের উত্তর সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫ বাক্যের মধ্যে শেষ হবে।

 

প্রশ্নঃ (গ) প্রয়োগ মূলকঃ প্রদত্ত নম্বর- ৩ (১+১+১

এই অংশে কোনো একটি প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে, বর্ণনা করতে অথবা কোনো সূত্র, তত্ত্ব, নিয়ম, নীতি, পদ্ধতি ইত্যাদি প্রয়োগ করে কিছু নির্ণয় করতে হয়। এই অংশের উত্তর তিনটি প্যারায় লিখতে হবে।

প্রথম প্যারাঃ

প্রথমের উত্তরটুকু মূল বা জ্ঞান মুলক আকারের। উত্তরটি সর্বোচ্চ একটি বাক্যে শেষ করতে হবে।

দ্বিতীয় প্যারাঃ

উদ্দীপক ও প্রশ্নটি ভালভাবে পড়ে কোন প্রসঙ্গে উত্তর করতে বলা হয়েছে তা বুঝে উত্তর করতে হবে। প্রশ্নের বিষয়ের সাথে পাঠ্য বইয়ের মূল পাঠের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করতে হবে। এটি হল ব্যাখ্যেয় বা অনুধাবন অংশ। এই প্যারা সর্বোচ্চ ৪ বাক্যে শেষ করতে হবে।

তৃতীয় প্যারাঃ

এই অংশে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। এটির মাধ্যমে উদ্দীপক মূল পাঠের একটি সম্পর্ক স্থাপিত হবে। এটি হল অর্জিত জ্ঞান এবং অনুধাবনকে প্রয়োগ করার ক্ষমতা। এই প্যারা ৭-৮ বাক্যে শেষ করতে পারলে ভল হয়। প্রয়োগ অংশ সর্বোচ্চ ১২ বাক্যে লেখা বাঞ্ছনীয়।

 

প্রশ্নঃ (ঘ) উচ্চতর দক্ষতা মূলকঃ প্রদত্ত নম্বর- ৪ (১+১+১+১)

 

এখানে কোনো একটি প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করে এর থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে বা ধারনা করতে বলবে কিংবা উদ্দীপক থেকে কোনো একটি প্রসঙ্গ, উক্তি বা বিবৃতি মূল্যায়ন করতে কিংবা কোনো একটি ঘটনা বিশ্লেষন করতে বলবে।

এই অংশ শিক্ষার্থী বা পরীক্ষার্থীদের চারটি অংশ বা প্যারা করে লিখতে হবে। প্রত্যেক প্যারার নম্বর-১।

প্রথম প্যারাঃ

উত্তরের শুরুতে উক্ত প্রসঙ্গটি প্রথমে সংজ্ঞায়িত করে নিতে হবে। মূল উত্তরটুকু অর্থাৎ জ্ঞান মূলক আকারে এক বাক্যে লিখতে হবে বা লেখার চেষ্টা করতে হবে।

দ্বিতীয় প্যারাঃ

এখানে প্রশ্ন অনুযায়ী উদ্দীপক নিয়ে চিন্তন শক্তি ব্যাখ্যা বা বিশ্লষন করতে হবে। যে প্রসঙ্গে প্রশ্ন থাকবে সেই প্রসঙ্গটি নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লিখতে হবে। এই অংশটি হল অনুধাবনমূলক। এটি ২-৩ বাক্যে শেষ করতে হবে।

তৃতীয় প্যারাঃ

এখানে উদ্দীপক ও মূল পাঠের সম্পর্ক আলোচনা করতে হয়। উদ্দীপক থেকে প্রসঙ্গটির ও মূল পাঠের সম্পর্ক প্রয়োগ করতে হয়। এটি প্রয়োগ মূলক। এই প্যারা ৪-৫ বাক্যে শেষ করতে হবে।

চতুর্থ প্যারাঃ

এখানে শিক্ষার্থীকে উদ্দীপক, মূল পাঠ্য বিষয়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, জীবন ব্যবস্থা ইত্যাদির সাথে মিল রেখে নিজের অনুভূতি বিশ্লেষন করতে হবে।

কোন একটি  উক্তি মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো ঘটনা ঘটার পিছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। অর্থাৎ প্রশ্ন যে রকম থাকবে তার আলোকে উত্তর লিখতে হবে। উত্তরের এই অংশটি হল উচ্চতর দক্ষতা অংশ। এই প্যারাটুকু ৭-৮ বাক্যে শেষ করতে হবে। উচ্চতর দক্ষতা মূলক অংশটুকু সর্বোচ্চ ১৫ বাক্যে লিখতে হবে।

 

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর  [ সৃজনশীল উত্তর ]  তৈরির আগে সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করা শিখতে হবে। তাহলে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর  [ সৃজনশীল উত্তর ] তৈরি সহজ হবে। প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে ভুল সংশোধন করতে হবে। এতে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। মনোযোগ সহকারে পাঠ্য বই গুলো পড়তে হবে।

পাঠ্য বইয়ের তত্ত্ব, তথ্য, সূত্র, বিধি, পদ্ধতি ইত্যাদি আলোচনায় বাস্তব ঘটনা টেনে আনতে হবে বা বাস্তব উদাহরণ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে। শিক্ষকদের নির্দেশ মত কাজ করতে হবে।

তথ্য সূত্র: