বিদ্যা সাধনার বস্তু, সাধনা করে ই কেবল বিদ্যার সাগর পাড়ি দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সাধনা বলতে মনোযোগ ও অধ্যবসায় কে বোঝানো হয়েছে। পড়াশোনায় সফলতা অর্জন করা ও নিজকে প্রতিনিয়ত জ্ঞানসমৃদ্ধ করতে মনোযোগ বৃদ্ধির ( মূলতঃ শারীরিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রকে বোঝনো হয় ) কোন বিকল্প নেই। শারীরিক পরিশ্রম ও কার্যকলাপের মাধ্যমে পড়াশোনায় উন্নতি সাধন করা সম্ভব।

বিষয়টিতে অবাক হওয়া ই স্বাভাবিক যে পড়াশোনা বা শিক্ষার সাথে শারীরিক কার্যকলাপের সম্পর্ক কোথায় ?

পড়াশোনার সাথে কায়িক পরিশ্রমের এ সম্পর্ক নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো –

 

শারীরিক পরিশ্রমের উপকারীতা

১। মজবুত হাড় ও মাংসপেশী গঠনে সাহায্য করে

২। মনোযোগ বৃদ্ধি করে

৩। অসুস্থতার ঝুঁকি হ্রাস করে

৪। ঋতুভিত্তিক রোগসমূহ থেকে নিরাপদ রাখে

৫। কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে

৬। হতাশা কমায়

৭। মনে প্রফুল্লতা আনে

 

শারীরিক পরিশ্রম বা কায়িক শ্রমের উপকারীতা সম্পর্কে তো ধারণা পাওয়া গেল, এবার দৃষ্টিপাত করা যাক কীভাবে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের মাধ্যমে শারীরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়।

শারীরিক পরিশ্রম বলতে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যায়ামাগারে কাটানো কে বোঝায় না বরং দৈনন্দিন স্বাভাবিক কিছু ক্রিয়াকলাপের অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে অতি সহজে ই শারীরিক কার্যক্ষমতার উন্নতি সাধন করা সম্ভব । এখানে কিছু উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করা হলো –

 

কার্যবিরতি

পড়াশোনা বা কাজের একঘেঁয়েমি হতে মুক্ত থাকার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর পর বিরতি নেয়া অত্যাবশ্যক – যা মস্তিষ্ক কে সতেজ রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে । অল্প সময়ের এই বিরতিতে পাশের কফি হাউসের এক কাপ কফি বা টং দোকানের এক কাপ চা শরীরের সব ইন্দ্রিয় কে পুনরায় জাগিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট । সতেজ মস্তিষ্ক আর কর্মক্ষম ইন্দ্রিয় মনকে নিমিষেই প্রফুল্ল করে দেয়, আর প্রফুল্ল মন ই পারে সকল একঘেঁয়েমি দূর করে সার্থক কাজের নিশ্চয়তা দিতে কিংবা পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে ।

 

দল গঠন

সমবয়সী বা সমমনা লোকদের নিয়ে দল গঠন করে প্রাতঃভ্রমণ কিংবা সান্ধ্যভ্রমণ শারীরিক অলসতা দূর করে মনকে চাঙা করে এবং দলীয় অনুভূতি মনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা যোগানোর মাধ্যমে  কার্যক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দেয় ।

 

বিনোদনমূলক সংগঠন ও গঠনমূলক ক্লাবের সাথে সম্পৃক্তিতা

পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজ ( কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, গান ), ক্লাব (ক্রিকেট ক্লাব, ফুটবল ক্লাব, দাবা ক্লাব ) ও সংগঠন ( রোভার স্কাউট, বি এন সি সি ) এর সাথে সম্পৃক্তিতা শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা কে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয় ।

 

শিক্ষাসফর

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পাঠ্যপুস্তক অর্জিত শিক্ষার তুলনায় প্রত্যক্ষ শিক্ষা অনেক গুণ বেশি কার্যকর । আর সে কারণেই নিয়মিত লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষাসফরে অংশগ্রহণ করা উচিত । এতে বিনোদনের সাথে শিক্ষার গুণগতমান ও বৃদ্ধি পায় ।

 

বিভিন্ন ইভেন্টসে সক্রিয় অংশগ্রহণ

স্কুল কিংবা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইভেন্টসে সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবলমাত্র শারীরিক ও মানসিক কার্যক্ষমতা কে ই বাড়ায় না, বরং এই ধরণের সম্পৃক্তিতা পড়াশোনার মান উন্নয়নের সাথে সাথে উন্নত চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক ভূমিক পালন করে ।

এভাবে ই দৈনন্দিন স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপের মধ্য দিয়ে শারীরিক কার্যক্ষমতা কে বাড়িয়ে নেয়া যায় – যা কি না কার্যক্ষম মানসিক শক্তির ই নামান্তর । কে না জানে, একটা সুস্থ দেহে সুস্থ মন বাস করে। নিয়মিত এ ধরনের কায়িক শ্রম শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মন কে রাখে ক্রিয়াশীল এবং ক্রিয়াশীল মন ই  পড়াশোনায় উদ্দীপনা যোগায় ও ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীলতা আনে ।

 

তথ্যসূত্রঃ https://students.ubc.ca/health-wellness/self-help/physical-activity-recreation