আপনি কি অন্যের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অত্যন্ত সংবেদনশীল? অথবা আপনি কি জানেন এমন কাওকে? উচ্চ সংবেদনশীলতা বহিরাগত অর্থাৎ সামাজিক কিংবা পরিবেশগত বা অভ্যন্তরীণ মানে আপন ব্যক্তিগত  যেমনই হোক না কেন এই উদ্দীপনার ফলাফল অনেক ক্ষেত্রে তীব্র শারীরিক,  এবং মানসিক প্রতিক্রিয়া হিসাবে কাজ করে।

যদিও সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়ার মতো অনেক ইতিবাচক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন শ্রবণ এবং সম্পর্ক দৃঢ় করার মতো বৃহত্তর দক্ষতা,  সহানুভূতি, এবং অন্যের চাহিদা ও চাহিদার সম্বন্ধে আরও ভাল ধারণা করা। তাই মূলত বলা যায়, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তি হচ্ছে উভয় রকম, একই সাথে আশীর্বাদ আবার অভিশাপ।

সংবেদনশীলতা থাকা ভাল। কারন এটি আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে এই সংবেদনশীলতা ভাল কিছু বয়ে আনেনা। বরং মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীলতা নিজেকে সব কিছু থেকে দূরে ঠেলে দেয়, করে তোলে নেতিবাচক মানুষ। বিশেষ করে কোনও সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে সেটা হোক প্রেমের কিংবা বন্ধুত্বর অথবা যে কোনও সম্পর্কের সময় এটি বাজে রূপ ধারণ করে। স্বভাবতই সংবেদনশীল মানুষ সম্পর্কে সহজভাবে জড়াতে পারেনা। অনেক উদ্বেগ, নেতিবাচক অনুভূতি, ভয়, লজ্জা, অভিমান ইত্যাদি তাদের তাড়া করে বেরায়।

সমাজে এমন মনোভাবের লোকের বসবাস অনেক। কিন্তু তাই বলে তাদের এড়িয়ে না চলে কিভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ সঙ্গে কার্যকরী যোগাযোগ করতে পারা যায় তার প্রতি দৃষ্টি দেয়া উচিত। সেজন্য সবার আগে প্রোয়জন এমন ব্যক্তদের চেনা। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তি সবসময় গভীর গভীর অনুভবের দ্বারা পরিচালিত হয়। কিছু দিক রয়েছে যেগুলো দ্বারা খুব সহজেই এমন সংবেদশীল ব্যক্তি চেনা যায়।

আসুন জেনে নেই এমন কিছু দিক সম্পর্কে।

১।প্রায়ই চিন্তিত থাকে এবং উদ্বেগ কাজ করে অন্যদের চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে। সর্বদা অন্যে কি ভাবল সেটাই মাথায় ঘুরে।

২। ব্যক্তিগতভাবে সব কিছু নিজের নিতে নিতে থাকা। কেও কোন কিছুর বিষয়ে নেতিবাচক কিছু মন্তব্য করলে সেটাই নিজের দিকে টেনে নেয়া।

৩। অপ্রত্যাশিত ভয় পাওয়া। যা কিনা এমনকি অপেক্ষাকৃত ছোট পরিস্থিতিতেও।

৪। অন্যদের সাথে কোনোও কর্মে অগ্রসর হবার সময় প্রায়ই নেতিবাচক প্রত্যাশাগুলি কাজ করে (যেমন, “তারা আমাকে পছন্দ করবে না”,”তারা না জানি ভাববে”)।

৫। অন্যদের সাথে যোগাযোগ করার সময় প্রায়ই নেতিবাচক আবেগ অনুভূত হয়। যেমন, চাপ, উদ্বেগ ইত্যাদি কাজ করে।

৬। অন্যান্য লোকেদের সাথে তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র অপ্রীতিকরতার কারণেই সব শেষ করে ফেলা। নাহয় সব শেষ হয়ে গেল এমন ধারনা করা।

৭। আঘাত এবং হতাশা সহজেই নিজের মাঝে অনুভব করে এবং তা প্রবলরূপে ভাবিত করে।

৮। শারীরিক, রিলেশনাল, সামাজিক, কাজ, আর্থিক, বা অন্য পরিস্থিতিতে প্রায়ই অন্যদের সাথে আত্মনির্ভরশীলতা কাজ করে। এছাড়াও, নেতিবাচক সামাজিক তুলনা থেকে অসন্তুষ্ট অভিজ্ঞতাও কাজ করে।

৯। প্রায়ই নেতিবাচক অনুভূতি নিজের মধ্যে গোপন করা। বিশ্বাস করে তারা খুব শক্তিশালী, অবাধ্য, বিব্রতকর,কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তি নিজের ভিতরে অনেক নেতিবাচক ধারনা আর আবেগ ধরে রাখে।

১১। প্রায়ই অন্যদের সঙ্গে নেতিবাচক আবেগ নিয়ে আলোচনা করে থাকে, কারণ তাদের জীবনের অনেক নেতিবাচক ঘটনা রয়েছে। সেগুলোর উপর ভর করেই নিজেও সামনে অগ্রসর হয়না,অন্যদেরও নিরুতসাহিত করে।

১১। কঠিন সময় পার করে যখন তার সম্পর্কিত সমালোচনা করা হয়। সসমালোচনা সহজ ভাবে নিতে পারেনা। এমনকি যখন যুক্তিসঙ্গত এবং গঠনমূলক সমালোচন করা হয় তখনও।

১২। নিজের মতের উপরই অটল থাকে। নিজের ভুল ধ্যান ধারনা যদি ভুল প্রমাণিত হয় তবুও মনে মনে সেটার উপরই ভর করে থাকে।

১৩। বাস্তব বা অনুভূতির দিক থেকে সর্বদা উত্তেজিত থাকে। সামান্য অনুভূতি গুলিকে খুব বড় করে দেখে আর সেসবের উপর  মাত্রাতিরিক্ত আচরণ করে।

১৪। প্রায়ই গ্রুপ বা সম্মিলিত কোনোও পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনা। বরং এসব পরিস্থিতিতে বিরক্তিকর অনুভূতি হয়, অস্বস্তিকর অনুভব করে।

১৫। রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এরা খুব বেশি আবেগী আর মানসিক ভাবে উত্তেজনাকর হয়। এদের মাঝে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার সময় অনেক আত্নসচেতনতা কাজ করে।