কোনো লক্ষ্য হঠাৎ করেই অর্জন করা যায় না। একজন সফল ব্যক্তির চিন্তা ভাবনা, কাজ করার ধরণ এবং কোনো একটি লক্ষ্য অর্জনে তাদের স্বতন্ত্র পথ নির্বাচন অন্যান্য ব্যর্থ ব্যক্তির থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সফল ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্যে আমরা বেশকিছু মিল খুঁজে পাই। তবে সেসব জিনিস মোটেও খুব বেশি বড় জিনিস নয়। তারা খুব ছোট জিনিসগুলোকেই এমনভাবে করে, যা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে বিশাল সহায়তা করে।

তেমনই কিছু জিনিস এখানে তুলে ধরা হল যা সফল ব্যক্তিরা ভিন্নভাবে করে থাকে।

তারা সামঞ্জস্যতার অনুগামী

সফল ব্যক্তিরা তাদের লক্ষ্যগুলোকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করেন। তাই বলে তারা কিন্তু কোন ক্ষুদ্র লক্ষ্যকেই কম গুরুত্ব দেন না। প্রতিটি লক্ষ্যে তারা সমান ভাবে কাজ করে যান। আর এটিই হচ্ছে তাদের সফলতার প্রথম সূত্র।

তারা প্রতিদিনের লক্ষ্য স্থির করে রাখেন

সফল ব্যক্তিরা প্রতিদিনের কাজের বিস্তারিত চিন্তা করে রাখেন। কারণ তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেভাবে করেই হোক না কেন, তারা তাদের লক্ষ্যে পৌঁছবেনই। তাই তারা পরবর্তী দিন কি করবেন তা আগের দিনই ঠিক করে রাখেন।

তারা তাদের সম্পর্কগুলোর যত্ন নিয়ে থাকেন

একজন সফল ব্যক্তি বিশ্বাস করে থাকেন যে তিনি একা একা কারও সহায়তা ছাড়া কখনো তার সাফল্যে পৌঁছতে পারেন না। তাই তারা তাদের চারপাশের সেসব ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে থাকেন, যারা তাদের সফলতার একটি বিশেষ অংশ হতে পারেন। আর এসব ব্যক্তিদের সাথে সম্পর্ক যাতে সবসময় টিকে থাকে তাই তারা সর্বদা সচেষ্ট থাকেন।

তারা কখনো কোন কাজ থামিয়ে রাখেন না

একটি কাজ থামিয়ে অন্য একটি কাজ শুরু করা খুবই বাজে কাজ। কোনো সফল ব্যক্তি এধরনের কাজকে খুবই অপছন্দ করেন। একটি কাজ শেষ হবার পরই কেবল তারা আরেকটি কাজ শুরু করে থাকেন।

পরিকল্পনাকে কাজে রূপান্তর

কেউ যদি কেবল কোনো পরিকল্পনা করে বসেই থাকে, তাহলে সে পরিকল্পনার কি কোনো ফসল পাওয়া যাবে? পরিকল্পনা যতক্ষণ পর্যন্ত না কাজে রূপান্তরিত হবে সে পরিকল্পনা একটি ব্যর্থ পরিকল্পনা। আর সফল ব্যক্তিরা কোনো পরিকল্পনাকে শুধু পরিকল্পনাতেই বন্দি করে রাখেন না।তারা তাদের প্রত্যেকটি পরিকল্পনাকে সফল একটি কাজে রূপান্তর করে থাকেন।

নিজের সাথে আলোচনা করা

নিজের সাথে কথা বলা বা কোনো কাজ নিয়ে আলোচনা করা খুবই স্ব-উদ্দীপক একটি কাজ। সফল ব্যক্তিরা সর্বদা যে কোন পরিকল্পনা করার পূর্বে নিজেই নিজের সাথে একটা আলোচনা করে ফেলেন। সেই পরিকল্পনার ভালমন্দ খুঁজে বের করেন। সেই সাথেতারা নিজেকে সবসময় কর্মোদ্যম রাখার জন্য কিছু পজিটিভ কথা বলে থাকেন, যেমন: আজ দিনটি আমার জন্য খুবই ভাল একটি দিন; আমি সফল হবো; আমি এই বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে অবদান রাখবো ইত্যাদি। এধরনের কথা আপনার কাজে উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।

সুস্থ থাকা

আপনি যখন কোন কাজ করেন তখন আপনার শরীর একটি বাহন হিসেবে কাজ করে। আর সেই বাহনকে কার্যকরী রাখতে হলে তাকে জ্বালানী সরবরাহ করতে হবে। সেই জ্বালানী কিন্তু শুধু ভাল খাওয়াদাওয়া করলেই পাওয়া যায় না, তার সাথে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যায়াম করতে হয়। আর এই ব্যায়াম শুধু আপনার স্বাস্থ্যেরই উন্নতি করবে না, এটি আপনার মানসিক প্রশান্তিও এনে দিতে একটি কার্যকর পন্থা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৪৫ মিনিট করে সপ্তাহে ৬ দিন শারীরিক ব্যায়াম করতেন। ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ প্রতিদিন কিছুক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করে থাকেন শরীরকে

যোগব্যায়াম

অনেকেই যোগব্যায়াম করতে চান না। তারা ভাবেন এটি হচ্ছে খুবই পুরাতন একটি পদ্ধতি। হ্যাঁ, এটি খুবই পুরাতন একটি পদ্ধতি, কিন্তু সবচেয়ে কার্যকরী একটি উপায়। এটি একই সাথে শরীর এবং মনের উপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তাই সফল ব্যক্তিরা যোগব্যায়াম কে তাদের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন।

খুব সকালে ঘুম থেকে উঠা

মাইক্রোসফট এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা খুবই ভোরে ঘুম থেকে উঠেন। তারা এটিকে তাদের জীবনের একটি অংশ করে ফেলেছেন। যারা খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেন, তারা তাদের সকালটিকে খুব ভাল উপভোগ করে থাকেন। কারণ, সকালটি থাকে অন্যান্য বেলার চেয়ে খুবই শুদ্ধ এবং পরিষ্কার।

পরিশেষে বলতে হয়, সাফল্য জিনিসটি খুব একটা সহজে অর্জন করা যায় না। আবার ছোট ছোট কিছু বিষয়ে যত্ন নিলে তা সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। আর সফল ব্যক্তিরা সবমসময় এসব বিষয়েরই যত্ন করে থাকেন কিছুটা ভিন্ন উপায়ে।

 

সুত্র