চাকরি জীবনে উন্নতি এবং উচ্চপদবী লাভের আশায়ই হোক অথবা হোক দেশসেবার মহান ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে – আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষই আছেন যারা নিজেদের সুযোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চান| আপনিও যদি নিজেকে একজন সফল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাহলে তরুণ বয়স থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করুন| নেতৃত্বের দক্ষতা বিকাশে কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলবেন তা জানতে অনুসরণ করুন নিচের কার্যকরী উপদেশগুলো|

 

সবসময় কিছু না কিছু শিখতে থাকুন

নেতৃত্ব এবং শিক্ষা একে অপরের জন্য অপরিহার্য” – জন এফ. কেনেডি 

বলা হয়ে থাকে যে, কেউ নেতা হয়ে জন্মান না বরং জন্মানোর পর থেকে তিলে তিলে নিজেকে নেতা হিসেবে গড়ে তোলেন| একজন সফল নেতা হওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় হল আপনার লক্ষ্য হিসাবে শুধুমাত্র নেতা হবার ইচ্ছেটাকে উপেক্ষা করা এবং শিক্ষায় মনোনিবেশ করা| বলা বাহুল্য যে, আপনি যদি একজন নেতা হতে চান, মনোনিবেশ করতে পারা এবং শেখার ক্ষমতা আবশ্যক। কেননা, নেতৃত্ব হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা সময়ের সাথে সাথে বিকশিত হয়। আর এই বিকাশ শুধুমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব| সত্যিকারের নেতারা সর্বদাই শিখতে থাকেন কিভাবে নিজেদের দুর্বলতা গুলোকে ভেঙেচুরে ব্যক্তিত্বের মাঝে সুনেতাসুলভ গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো যায় তা নিয়ে কাজ করতে থাকেন |

 

সৎ এবং স্বচ্ছ জীবন যাপন করুন

সততাই সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা” – বেঞ্জামিন ফ্র্যাংকলিন

ভালো নেতা হতে হলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, সততার কোনো বিকল্প নেই| একজন অসৎ মানুষ হয়তো জীবনে উন্নতি করতে পারেন কিন্তু তিনি একজন সফল নেতা কখনোই হতে পারবেন না| নেতাদের লক্ষ লক্ষ অনুসারী থাকেন| অসৎ ব্যক্তিকে কেউই অনুসরণ করতে চান না| একজন মানুষ হিসেবে যদি আপনি সৎ হতে না পারেন, আপনার নিজের পরিবারও আপনার উপর আস্থা রাখতে চাইবে না| আর সেখানে হাজারো মানুষকে প্রভাবিত করতে চাওয়ার স্বপ্ন তো বালখিল্যতা| অতএব, এখন থেকেই যেকোনো কাজ করার আগে, যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন, আপনি অসৎ কিছু করছেন বা প্রশ্রয় দিচ্ছেন না তো?

 

ইতিবাচক হোন, আত্মবিশ্বাস রাখুন এবং অনুপ্রাণিত করুন 

মানুষের মন যা ধারণ করে বা বিশ্বাস করে, তাই অর্জন করে” – নেপোলিয়ন হিল

একজন সফল নেতা হাজারো মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন| অনুপ্রাণিত করতে চাইলে প্রয়োজন ইতিবাচক মনোভাব| তাই, একজন সফল নেতা হতে চাইলে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হওয়া অত্যাবশ্যক| ইতিবাচক মনোভাব জীবনকে সহজ করে| আপনি যদি নিজেই বিশ্বাস করতে না পারেন যে আপনি একদিন একজন সফল নেতা হবেন, তাহলে আপনি কোনোদিনই নেতা হতে পারবেন না| তাই নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন| একইসাথে, নিজের ইতিবাচকতা অন্যের মাঝে স্থানান্তর করার ক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে| অন্যদের মাঝে নিজের ইতিবাচকতা ছড়িয়ে দিতে জানতে হবে| অনুসারীদের মাঝে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করতে জানতে হবে| তাহলেই সম্ভব হবে অন্যদেরকে ভালো কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারা, সম্মিলিতভাবে কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয় এমন কিছু অর্জন করতে পারা|

 

ভালো শ্রোতা হোন এবং যোগাযোগ রক্ষা করুন

 

মানুষ যখন কথা বলে, তা ভালোভাবে শুনুন বেশিরভাগ মানুষই অন্যদের কথা ঠিকভাবে শোনে না.” – আর্নেস্ট হেমিংওয়ে

 

বলার চেয়েও শুনতে পারাটা বেশি জরুরি| কারণ, ঠিকঠাক শুনতেই যদি না পারেন তো বুঝবেন কিভাবে আপনি ঠিক এবং প্রাসঙ্গিক কথাই বলছেন? তাই, আগে শুনুন, তারপর উত্তর দিন| সফল নেতারা ধৈর্য্যশীল হন, তারা মনোযোগ দিয়ে, সময় নিয়ে অন্যদের কথা শোনেন, বুঝতে চেষ্টা করেন, তারপরেই না নিজেরা মন্তব্য করেন| একজন মনযোগী শ্রোতাকে সবাই পছন্দ করেন| নেতারা শোনার মতো মানসিকতা রাখলেই না পরে অনুসারীরা তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলতে আসেন| আর এইভাবেই অনুসারীদের কাছে বাড়তে থাকে নেতার গ্রহণযোগ্যতা| যেই নেতা নিজে একজন মনোযোগী শ্রোতা, তার জন্যে গণমানুষকে বোঝা, তাদের আরো কাছে যাওয়া এবং একজন বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে তাদের অনুপ্রাণিত করা অনেক সহজ হয়ে যায়|

 

মনে রাখবেন যে, আপনি এখন তরুণ| এগিয়ে যাওয়ার জন্য আপনার রয়েছে অনেক সময়। তাই কঠোর পরিশ্রম করুন, উৎসাহী থাকুন এবং উপরোক্ত উপায়গুলো অনুশীলন করুন| মনে রাখবেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তিই আপনাকে আপনার কাঙ্খিত গন্তব্যে নিয়ে যেতে পারে আর কার্যকরী অনুশীলনই পারে আপনার মাঝে সুনেতৃত্বের গুণাবলী গঠন করতে|

 

সুত্র:

https://articles.bplans.com/top-15-tips-successful-young-leader/

https://www.kangan.edu.au/students/blog/become-a-successful-leader