সফল হতে কেইবা না চায়? প্রতিটা মানুষ তার নিজস্ব স্থান থেকে একজন সফল এবং প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে নিজেকে সবার মাঝে ভাবতে পছন্দ করেন। আর এজন্যই আমরা ইতিহাস ঘাটি সেসব ব্যক্তিদের, যারা কিনা আজ তাদের কর্মের দ্বারা নিজেদের আজও অমর করে রেখেছেন।

একজন সফল মানুষ আসলে এমনি এমনি সফলতার দেখা পায়না, তাদের এজন্য প্রচুর নিয়মনীতির  মধ্যে দিয়ে নিজেদের সব কিছু অতিবাহিত করতে হয়েছে। সফলতার পূর্বশর্তই হচ্ছে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন। নিজেকে সফলদের কাতারে দেখতে চাইলে আপনাকেও ঠিক তাদের মতই ভাবতে হবে।

সফল ব্যক্তিরা সর্বদা কয়েকটি বিষয় মেনে চলতেন। আসুন জেনে নেই সফলদের এমন কিছু নিয়মনীষ্ঠা গুলো সম্পর্কে যা আপনাকেও তাদের কাতারে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

 

।  নিজের উপর বিশ্বাস রাখুন

নিজের উপর বিশ্বাস তথা আত্মবিশ্বাসী হন। নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন না করতে পারলে কখনোই আপন লক্ষ্যে অভীষ্ট হওয়া যায়না। ইতিহাস ঘাটলে প্রতিটা সফল ব্যক্তিদের পিছনে দেখা যায় তাদের নিজেদের প্রতি আস্থার নিষ্ঠা। আমরা প্রত্যকেই মহৎ আর বড় কিছু করতে ইচ্ছুক। সাধারন মানুষ আর সফলদের মধ্যেকার মূল প্রভেদটাই হচ্ছে বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং সেই মতন কাজ করা। কিছু করতে গেলে আপনি নিজে করতে পারবেন নিজের মনে এমন একটা স্পষ্ট বিশ্বাসই হচ্ছে সেই কাজে সফলতা অর্জনের প্রথম ধাপ। আপনি যখন নিজের উপর আস্থাশীল হন যে সত্যিই আমি পারব  তাহলেই অন্য সবকিছু তখন সহজ হয়ে যায়।

।  বাধা অপসারণের মত সামর্থ্য রাখুন

আপনার চারপাশের বিশ্বটি আপনাকে আপনার সকল কাজে বাধা দেবার জন্য তৈরী থাকবে।  যদি আপনি ইতিমধ্যে নিজ লক্ষের সঙ্গে সংগ্রাম করে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এমনটা দেখেই আসছেন। ভাল কোন উদ্দেশ্যে নামতে গেলেই সমাজ-পরিবেশ-পরিস্থিতি অনেক সময় প্রতিকুল হয়ে দাঁড়ায়।  আপনি যদি সাধারণ একজন মানুষ হোন তাহলে সেসব বাধাই আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ  হয়ে যাবে, আর যদি হতে চান সফলতার পথিক তাহলে আপনাকে সেসব বাধা বিচলিত করবেনা। যদি সফল  ব্যক্তি হোন তবে আপনাকে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করবে না, আপনি আপনার কর্মদক্ষতা দ্বারা  সব নিয়ন্ত্রন করবেন। বাধা মোকাবেলা করার জন্য, আপনাকে সর্বদাই  প্রস্তুত থাকতে হবে।  নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে যা যা করা লাগে তাই করুন সকল বাধাগুলোকে কাটিয়ে।

সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন

সময় চলছে তার নিজ গতিতে। সময়ের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোই এখন দৈনন্দিন জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। যে কোনোও ক্ষেত্রে সফল  হওয়ার জন্য সময়ের সঠিক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই।

সময়গুলোকে নিজের মতন করে ভাগ করে নিন। আপনি আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো হিসাব করুন। এরপর সে কাজগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে একটি তালিকা করতে পারেন। আপনার তৈরি তালিকার কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজগুলো সবার আগে করুন। অবসর সময়টুকুও যেন নষ্ট না হয় সেদিকে মনোযোগী হন। একজন সফল ব্যক্তি তার প্রতিটা মুহূর্ত হিসেব করে চলেন। তাই সফলতার একটি বড় নীতিই হচ্ছে সময়ের যথার্থ ব্যবহার।

স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখুন

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।  তাই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যথেষ্ট খেয়াল রাখুন। শরীর ঠিক না থাকলে কোনো কাজই ঠিকভাবে করতে পারবেন না। আর শুধুমাত্র শরীরকেই না নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবুন, সেটাকেও ঠিক রাখুন।

সফলতা অর্জন করতে চাই নিরলস পরিশ্রম, কঠোর অধ্যবসায়, এসবই হচ্ছে সফলতার মূল মন্ত্র। আর এই পরিশ্রম সঠিকরূপে সম্পূর্ণ করার জন্য চাই সুস্বাস্থ্য।  যদি আপনি সুস্থই না থাকেন তাহলে সফলতার জন্য কাজগুলো কিভাবে করবেন?  যদি আপনার শরীর আপনার লক্ষ্যগুলি পরিচালনা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে আপনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়বেন।

তাই নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য এবং আপনার লক্ষ্যগুলি অর্জনের জন্য সর্বদা আপনাকে আপনার শারীরিক আর মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্যি নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।

কিছু বিষয় এড়িয়ে চলুন

সব বিষয়ে সমান দক্ষতা কারও পক্ষে সম্ভব না। স্বভাবতই একজন মানুষ সব বিষয় সম্পর্কে বিজ্ঞ না, তাই বলে যে আপনি সফলদের দলে ভিড়তে পারবেন না তা কিন্তু একদমই নয়। মনে রাখবেন, যাবতীয় সব নিয়ে আপনার জানবার প্রয়োজনও নেই। বরং আপনি যেটাই জানেন সেটার উপর সমস্ত মনোনিবেশ করুন। তাহলে সফলতা আসবেই। সর্ব বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গেলে বেশীরভাগ সময়ই কোনও কিছুর উপরেই দক্ষ হওয়া যায়না, সবই তখন খাপছাড়া হয়ে জানা হয়। তাই যেসব আপনার ভাল লাগেনা, যেসকল কাজে উৎসাহ  পান না সেসব কে এড়িয়েই চলুন। নিজের পছন্দের বিষয়েই আলোকপাত করুন। সেসবের উপরেই পরিশ্রমী হোন।

 

 

https://www.success.com/blog/the-5-non-negotiable-disciplines-of-a-high-achiever