একজন পাঠকের কাছে আপনার লেখাটি পড়ে কখন ভালো লাগবে? যখন আপনার লেখাটি সহজবোধ্য এবং আকর্ষণীয় হবে। যেকোনো কিছু সহজভাবে লেখার গুনটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় একটি গুন। যখন আপনি কোনকিছু লেখা শুরু করবেন আপনাকে সেই লেখাটিকে নিজের মতন করে উপস্থাপন করতে হবে।

তারপর আপনার পুরো লেখাটাকে ভালোভাবে দেখুন এবং এটাকে যতটুকু সম্ভব সহজভাবে গুছিয়ে তুলুন। সবসময় এটা খেয়াল রাখবেন, আপনার লেখাটা যেন অনন্য হয় এবং অন্য কারো সাথে মিলে না যায়।

সর্বপ্রথম আপনি যেই বিষয়ের উপর লেখা শুরু করতে যাচ্ছেন সেই বিষয়টি সম্পর্কে আগে ভালোভাবে জেনে নিন। প্রচুর পরিমাণে ঘাটাঘাটি করুন, অনলাইনে এই বিষয়ের উপর অন্য কারো লেখাগুলো পরুন। আপনি যদি আপনার লেখাটাকে নিজের মত করে সুন্দর করে লিখতে চান তাহলে ভালোভাবে সেই লেখার মুল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জেনে নেয়া হচ্ছে সর্বোত্তম কাজ।

আপনি বার বার আপনার লেখার বিষয়বস্তু নিয়ে ভালোভাবে পড়ালেখা করুন যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি পুরো বিষয়টিকে সঠিকভাবে বুঝতে পারেন। পড়ার সময় কিছু বিষয় নোট করে রাখতে পারেন, যার মাধ্যমে আপনি সহজেই এটাকে সাজিয়ে তুলতে পারেন। প্রতিটি অনুচ্ছেদ পড়ার পর একটু থামুন, এবং আবার পুনরায় পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন যে এখানে আসলে কি বলা হয়েছে। এমনভাবে পড়বেন যেন মনে হবে পুরো বিষয়টি আপনি অন্য কাউকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

কখনই আপনি যেই পড়াগুলো পড়ছেন সেগুলো থেকে হুবুহু শব্দগুলো নিবেন না। আপনি যদি কোন উক্তি তুলে না ধরেন তাহলে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার লেখাতে যেন নিজের ভাষায় সবকিছু লেখা থাকে। সবার থেকে আলাদা কিছু আপনি যেন আপনার পাঠক কে উপহার দিতে পারেন, এই বিষয়টি মাথায় রাখবেন সবসময়।

কিছু শব্দ আপনি বাদ দিতে পারবেন না মাঝে মাঝে, মুল লেখা থেকেই সেগুলো আপনাকে নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কোন বৈজ্ঞানিক শব্দ ব্যবহার করতে চান আপনার লেখায় তাহলে মুল লেখাতে যেটা পাচ্ছেন সেটাই আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করবেন যেন, আপনার লেখায় মুল লেখার শব্দগুলোর সাথে কোন মিল না থাকে। কেউ কেউ ভাবে যে সে যদি তার লেখার মধ্যে ব্যবহার করা

শব্দগুলোতে মুল বিষয়বস্তুতে ব্যবহৃত শব্দগুলোর সমার্থক শব্দ ব্যবহার করা যায় তাহলে তার অনেক সময় বেঁচে যাবে। এই কথাটিকে যেমন অনেক বেশি বাজে মনে হয়, ঠিক তেমনি আপনার এই ধরণের লেখাগুলোকেও অনন্য হিসেবে ধরা যাবেনা এবং এটা মুল লেখার একটি প্রতিলিপির মতই ধরা হবে যতক্ষণ না আপনি বাক্যের মুল ধরনটিকে না বদলাবেন।

আপনার লেখাটিকে নিজের ভাষায় নিজের মত করে গড়ে তুলুন। এমনভাবে উপস্থাপন করুন যেন আপনি এমন কারো জন্য লেখাটি লিখছেন সে আপনার লেখার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছুই জানে না। পুরো বিষয়টিকে আপনার নিজের বাক্য ব্যবহার করে, আপনি আপনার এই কাল্পনিক পাঠক কে বুঝিয়ে বলুন।

আপনার লেখার বিষয়বস্তুকে সঠিকভাবে প্রমাণ করার জন্য বিভিন্ন উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারেন। যদিও আপনি পুরো লেখাটা নিজের ভাষায় ই লিখেছেন, আপনাকে অবশ্যই লেখাটির মুল উৎস নিয়মানুযায়ী এবং নিজের লেখার ধরণের উপর ভিত্তি করে উল্লেখ করে দিতে হবে। প্রায় ই মুল লেখা পড়ার সময় লেখার মধ্যেই অথবা পাদটিকা বা শেষটিকায় প্রথম বন্ধনী দিয়ে সেই লেখার উৎস উল্লেখ করার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।

একটি বাক্য বা একটি অনুচ্ছেদ লেখার পড়ে সেটাকে মুল লেখার সাথে মিলিয়ে দেখুন। মুল বিষয়টিকে সুন্দরভাবে এবং সহজভাবে এক অথবা দুই বাক্যে বোঝানোর চেষ্টা করুন। এরপর আবার আপনার পুরো লেখাটিকে পড়ে দেখুন যে আসলেই আপনার লেখাতে মুল বিষয়বস্তুর উল্লেখ আছে কিনা।

কোন কঠিন অথবা বুঝতে অসুবিধা হয় এমন বাক্যগুলোকে গুছিয়ে লেখুন। মাঝে মাঝে সাজাতে গিয়ে অথবা মুল লেখা থেকে নিজের লেখাটিকে আলাদা করতে গিয়ে আপনার নিজের লেখাটির মান খারাপ হয়ে যায়। আপনার খেয়াল রাখতে হবে যাতে লেখার মান সবসময় ঠিক থাকে।

প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে যতটুকু সম্ভব লেখার মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করবেন। লেখা গুছাতে যেয়ে অনেক সময় প্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ পড়ে যায়। লেখা যেমন সহজবোধ্য করা জরুরী ঠিক তেমনি লেখার মান ঠিক রাখতে হলে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেয়া সবচেয়ে বেশি জরুরী কাজ।

পাঠককে আপনার লেখা পড়ার জন্য লেখাটিকে আকর্ষণীয় করে তোলার দ্বায়িত্য টা আপনার ই। আপনার লেখার মধ্যে পাঠক যখন ই নতুন কিছু খুঁজে পাবে, নতুন স্বাদ খুঁজে পাবে তখন ই আপনার লেখা পাঠক আবার পড়বে। একটি সুন্দর এবং সহজবোধ্য লেখার মুল্য বড় বড় বই পুস্তকের জ্ঞানের চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে।

Wiki How