লিংকডইন এর কথা কম বেশি সবাই শুনে থাকবেন। এটিও একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।কিছুটা ফেসবুকের আদলে হলেও এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি মূলতইউনিভার্সিটি পড়ুয়া তরুনছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের চাকরিজীবীদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। এসব পর্যায়ের প্রোফেশনাল ব্যক্তিরা যাতে একে অপরকে খুব সহজেই খুঁজে পেতে পারেন তারই ব্যবস্থা করে দিয়েছেলিংকডইন নামের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

বর্তমানে এমাধ্যমে চাকরিদাতাদের বিচরণও বেশ চোখে পড়ার মত। তারা তাদের যোগ্য কর্মী খুঁজে পেতে আজ লিংকডইন এর শরণাপন্ন হচ্ছে। বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরির বিজ্ঞপ্তি এখন এই মাধ্যমেই দিয়ে থাকে। এছাড়াও কখনো কখনো দেখা যায় যে ওই চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানই তাদের যোগ্য লোককে খুঁজে নিচ্ছেশুধু চাকরিপ্রার্থীদেরলিংকডইন প্রোফাইল দেখে। আর তাই একটি উন্নতমানের লিংকডইন প্রোফাইল তৈরিও আজ বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে আজও এ বিষয়গুলোতে চাকরিপ্রার্থীরা বেশ পিছিয়ে রয়েছে। আর তাই আজ তাদের কথা চিন্তা করেই আমাদের এই লেখাটি।

আজথাকছে কিভাবে একটি ভাল এবং আকর্ষণীয় লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি করা যায় তারই কিছু টিপস।

চোখে পড়ার মত একটি শিরোনাম লিখুন

স্বয়ংক্রিয়ভাবেই লিংকডইন প্রোফাইলে আপনার নামের নিচেইশিরোনাম লিখার জন্য একটি ঘর দেয়া থাকে। সাধারণত এটিকে সবাই বর্তমানচাকরিরপদবীলিখতে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আপনি যদি সেখানে বর্তমান পদবী না লিখে এক লাইনের এমন একটি বাক্য লিখে দিতে পারেন যাতে একই সাথে আপনার বর্তমান অবস্থান, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ পায়, তাহলে তা আপনার প্রোফাইলের কার্যকারিতা বেশ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবে। যেমন ধরুন, আপনি যদি একটি প্রতিষ্ঠানের ‘বিপননবিশ্লেষক’বা ‘মার্কেটিং এনালিস্ট’হয়ে থাকেন তাহলে এই পদবীটি শিরোনামে দেয়ার বদলে লিখতে পারেন,“Quick-thinkingmarketingprowithaneyeforcatchy,viralcontent.”এই লাইনটিনিঃসন্দেহেআপনার চাকরিদাতাকে আপনার সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা দিয়ে থাকবে, যা আপনার পদবী দ্বারা প্রকাশ করতে পারবেন নাকখনোই।

পেশাদারী মনোভাবের একটি ছবি ব্যবহার করুন

লিংকডইন প্রোফাইলে সবার প্রথমেই যা সবার চোখে পড়বে তা হল আপনার একটি ছবি। তাই প্রোফাইলের ছবি অবশ্যই এমন হতে হবে যা দেখে কেউ যেন চোখ ফিরিয়ে নিতে না পারে।

অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মত লিংকডইনে ইচ্ছে করলেই যেকোনো ছবি দেয়াটা অপেশাদারি ব্যক্তিত্বের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে। তাই পেশাদারী মনোভাব প্রকাশ পায় সমসময় এমন ছবি ব্যবহার করুন।হাসিমুখেছবি তুলুন, যাতে করে বোঝা যায় যে আপনি কর্মী হিসেবে সবকিছু আনন্দ সহকারে গ্রহণ করতে প্রস্তুতএবং আপনি আপনার কর্মক্ষেত্রে অগ্রসরমান একজন ব্যক্তি।চেষ্টা করুন আপনার মাথা এবং কাঁধ পর্যন্ত যাতে ছবিটি থাকে। আর ছবিটির ব্যাকগ্রাউন্ড বা পিছনের পরিবেশও যাতে পেশাদারী মনোভাবের সৃষ্টি করে থাকে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি ব্যাকগ্রাউন্ডটি সাদা রঙের হয়ে থাকে।

প্রোফাইল সামারিতে ছোট ছোট শব্দ বা কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন

লিংকডইন প্রোফাইলের এই সামারি সেকশনে আপনার কাজের বিভিন্ন দিকগুলো ফুটিয়ে তুলবেন। এই সেকশনটি আপনার ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ ঘটাবে।ছোট ছোট অনুচ্ছেদ আকারেআপনি কি করতে পছন্দ করেন, এখন কি করছেন এবং আপনি নিজেকেকোথায়দেখতে চাচ্ছেন এগুলো সম্পর্কে ধারণা দিয়ে থাকে এই সামারি সেকশনটি।

আপনার স্কিলস বা দক্ষতাগুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে ফুটিয়ে তুলুন

শিরোনাম এবং সামারি সেকশনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে আপনার অভিজ্ঞতার এই অংশটি। এপর্যায়ে আপনি গতানুগতিক জীবনবৃত্তান্ত যেভাবে লিখে থাকেন অনেকটা তাই করবেন। আপনার বর্তমানআর অতীত কর্মক্ষেত্রএবং সেখানে আপনার অর্জিতঅভিজ্ঞতাগুলো আকর্ষণীয় করেবিস্তারিত ফুটিয়ে তুলবেন। এই বিস্তারিত তথ্য থেকেই চাকরিদাতারা আপনার পূর্বের কাজের ধরণ সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং তাদের বর্তমান চাহিদার সাথে আপনার অভিজ্ঞতাগুলো মিলছে কিনা তা খতিয়ে দেখবে।

আপনার অর্জনগুলোকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন

কর্মক্ষেত্রেআপনার অর্জনগুলো এই অংশে যোগ করে দিন। এটি হতে পারে আপনার পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত কোনো প্রশংসাপত্র বা কোনো ট্রেইনিং সেশন থেকে প্রাপ্ত প্রশংসাপত্র। এই অংশে আপনি ইচ্ছে করলে আপনার বিভিন্ন প্রোজেক্টের নমুনার লিংকও যোগ করে দিতে পারবেন। এগুলো চাকরিদাতাদের নিকট আপনারমূল্য বহুগুণেবাড়িয়ে দিবে।

আধুনিক সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগে আপনি যদি নিজেকে চাকরিরএই প্রতিযোগিতার বাজারে টিকিয়ে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে হবে।সুতরাং, আপনারলিংকডইন প্রোফাইল যতই আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে চাকরিদাতেদের নিকটআপনার মূল্যায়নও ততই বেড়েযাবে।

 

 

https://www.success.com/article/5-tips-to-build-a-linkedin-profile-thatll-get-you-noticed