আমরা সবাই রয়্যাল সোসাইটির নাম জানি। রয়্যাল সোসাইটি অফ লন্ডন হল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শিক্ষিত সমাজ যেখানে সাধারণ জ্ঞান বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিজ্ঞানী, অধ্যাপকরা কাজ করে থাকেন। ২৮ নভেম্বর ১৬৬০ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদর দফতর হল ইংল্যান্ডের লন্ডনে।

 

জন ইভেনলি

রয়্যাল সোসাইটির শুরুটা হয় কিছু পদার্থবিদ এবং দার্শনিকদের নিয়ে। তারা বিভিন্ন স্থানে তাঁদের মিটিং করতেন। তাঁরা ফ্রান্সিস বেকনের বিজ্ঞান নিয়ে নতুন ধারনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এই উদ্বেগ গ্রহন করেন। তাঁরা প্রায়ই গ্রেশাম কলেজে তাঁদের মিটিং করতেন এবং এসব সাক্ষাতের ফলেই তাঁরা এই সোসাইটি গঠন করতে সক্ষন হন। জন ইভেনলি এই সোসাইটি গঠন করতে ভূমিকা রাখেন। রাজা চার্লস ২ এই সোসাইটির অনুমোদন করলে লর্ড ব্রঙ্কার নামের একজন গণিতবিদ এই সোসাইটির প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পান।

এই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিভিন্ন বিখ্যাত মানুষ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলেন আইজ্যাক নিউটন। ১৭০৩ থেকে ১৭২৭ সাল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায় তিনি তাঁর অধিনে থাকা অন্যান্যদের উপর বিভিন্ন অত্যাচার করেন। ১৭০৫ সালে গ্রেশাম কলেজ আর ব্যবহার করা যাবেনা বলে সোসাইটির নিকট খবর আসে। তাঁরা নতুন স্থান খুঁজতে থাকেন। সোসাইটি দুইটি বাড়ি কিনে নেয় ফ্লিট স্ট্রিট এর ক্রেন কোর্টে ১৭১০ সালে। ১৭৪০ সালের দিকে সোসাইটি কিছুটা আর্থিক সঙ্কটে পরে।

আইজ্যাক নিউটন

১৭৮০ সালে সোসাইটি আবারও তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তন করে। এবার তাঁরা সমারসেট হাউসে যান। এই সম্পত্তিটি তৎকালীন রাজার সরকার তাঁদের দান করেন। জোসেফ বাঙ্কস ১৭৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই আবাস বদলানোর কথা ভাবছিলেন। সমারসেট হাউস যদিও আগের থেকে বড় ছিল কিন্তু সোসাইটির ফেলোরা সেটা পছন্দ করেন নি। কারন লাইবেরি ঘর ছিল খুব ছোট। এবং তাঁদের সংরক্ষিত জিনিস রাখার মত জাদুঘর ছিলনা। পরে তাঁরা তাঁদের জাদুঘর ব্রিটিশ জাদুঘরের সাথে জুড়ে দেন ১৭৮১ সালে। এবং লাইবেরি ঘরকে বড় করা হয়। যেখানে মিটিং ও বসত।

উনিশ শতকের শুরুতে সোসাইটির পতন দেখা দেয়। তখন ১৮৩০ সালে ৬৬২ জন ফেলোর মধ্যে মাত্র ১০৪ জন অবদান রাখেন তাঁদের বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল “ ফিলসফিকাল ট্রানজেকশন” এ। এভাবে বিভিন্নভাবে সোসাইটি যখন পতনের কাছে যেতে থাকে তখন কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় প্রতি বছর একবার ফেলো নেওয়া হবে। এবং ১৫ জনের বেশি হবেনা। এই সংখ্যা ১৯৩০ সালে ১৭ এবং ১৯৩৭ সালে ২০ জন হয়। বর্তমানে ৫২ জন এই সংখ্যা। এর ফলে সোসাইটিতে ভাল প্রভাব পরে। কারন এর ফলে ফেলোর বেশিরভাগ থাকে বিজ্ঞানী এবং অল্প সংখ্যক থাকে রাজনৈতিক ও অন্যান্য বিভাগ থেকে। এবং ফেলোর সংখ্যা কমে যায়। সেই সময় থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত ফেলোর সংখ্যা ৪০০ থেকে ৫০০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

উনিশ শতকের মাঝে সোসাইটি আবার তাঁদের ঠিকানা পরিবর্তন করে। এবার তাঁরা বারলিংটন হাউসে আবাস গাড়েন। রয়্যাল একাডেমী এবং অন্যান্য সোসাইটিও সেখানে স্থানান্তর হয়।

বারলিংটন হাউস

সোসাইটিতে ১৯০২ সালে প্রথম একজন মহিলাকে ফেলো হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তাঁর নাম ছিল মারজুরি স্টেফেনসন। কিন্তু সোসাইটির আইনজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন একজন মহিলা কখনোই ফেলো হতে পারেনা। পরবর্তীতে ৩৩৬ জন ফেলোর সমর্থনে ১৯৪৫ সালের ২২ মার্চ সোসাইটিতে প্রথম মহিলা ফেলো নির্বাচিত হয়।

বর্তমানে এই সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হলেন ভেঙ্কটরমণ রামকৃষ্ণান। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সোসাইটি কাজ করে চলেছে।

তথ্যসূত্রঃ

https://en.wikipedia.org/wiki/Royal_Society