রাগ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ছোট থেকে বড় সবারই কিঞ্চিৎ পরিমাণে হলেও রাগ আছেই। কেউ হয়তো রাগের বহিঃপ্রকাশ করে ফেলেন, আবার কেউ হয়তো সেটিকে নিজের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।

তবে রাগের প্রকাশ হোক আর নাই বা হোক, এর প্রভাব কিন্তু খুব একটা ভাল নয়। ব্যক্তিগত জীবনে তো বটেই, কর্মক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়ে যায়।

‘রাগ কি আর ইচ্ছে করে হয়?’- এটি অনেকের প্রশ্ন। নিজে থেকেই তো আর কেউ রেগে যেতে চায় না! সবাই চায় কিছুটা স্বস্তি, শৃঙ্খলতা আর ঝামেলা মুক্ত জীবন। কিন্তু হায়! এই স্বস্তির জীবন কে কাকে দেয় বলুন? ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে আবার ঘুমোতে যাবার আগ পর্যন্ত কত ঘটনাই না ঘটে যায়।সেগুলো দেখলে কারই বা মাথা ঠিক থাকে! সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে রাগ থেকে আমরা দূরে থাকতে চাইলেও ‘রাগ বাবাজী’ কিন্তু আমাদের সাথে সেঁটেই থাকে।

তাই রাগকে পুরোপুরিভাবে দূরে না ঠেলে রেখে কিছুটা আলগোছভাবে চলতে পারলেই অনেকটা বেঁচে থাকা যায়। আগেই বলেছি ব্যক্তিগত জীবন হোকবা কর্মক্ষেত্রে, রাগের প্রভাব ভাল নয়। তাই সকালেই যখন খুম থেকে উঠবেন তখন থেকেই মেজাজ হালকা করে নেয়াটা ভাল। কারণ, সকালেই যদি কোনোভাবে আপনার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, তাহলে সারাদিনের সকল কাজেই আপনার মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে। তাই ঘুম থেকে ওঠার পর এমন কোনো কাজ না করাই ভাল, যা করলে আপনি রেগে যাবেন। ধরুন পরিবারের কারও কোনো কথায় আপনার হয়তো অনেক রাগ হচ্ছে। এসময় আপনি যদি সেই কথায় এক পাও এগিয়ে যান, তাহলেই সব শেষ। তাই শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। যতটুকু পারছেন চেষ্টা করুন। নিজেকে সংযত রাখতে পারলেই আপনি অনেকটা সফল হয়ে যাবেন।

আবার ধরুন, আপনার যদি সকালে খবরের কাগজে চোখ বুলানোর অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে দেশের রাজনীতি, খুন-খারাপি, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি খবর চোখে পরবে। এগুলো দেখেই হয়তো আপনার মনে রাগ জন্মাবে। সত্যিই যদি আপনি মনে করেন যে, এধরণের খবরে আপনি ভীষণ রেগে যাচ্ছেন, তাহলে এসব খবর অন্ততপক্ষে সকালে এড়িয়ে চলুন।

সকালে মেজাজখারাপ হয়ে গেলে সেটা হয়তো আপনার চিন্তার বাইরে গিয়েও প্রভাব ফেলে দিতে পারে। আপনি নিজের অজান্তেই অনিচ্ছাকৃত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু একটা করে ফেলতে পারেন। আপনি যখন রেগে যাবেন, তখন হয়তো রাগকে দূরে সরানোর জন্য বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে নিজের কাজে ডুব দিবেন। আপনি হয়তো ভাবলেন নেতিবাচক চিন্তাগুলো বুঝি চলেই গেল। কিন্তু আদতে তা ঘটে না। এর রেষ থেকেই যায় অনেকক্ষণ পর্যন্ত।

একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনের এক কোণে রয়ে যাওয়া এই গুপ্ত রাগের প্রভাব বেশ অনেক সময় ধরে থাকতে পারে, যা পরবর্তিতে আপনার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতায় বেশ সজোরে আঘাত করতে পারে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের ভাষায়, আপনার মনে জমে থাকা রাগ খুব দ্রুত আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। এমনকি আপনি যদি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো কাজেও মনোযোগ দিয়ে থাকেন, তাহলেও সেই কাজে এর প্রভাব বেশ লক্ষণীয়।

রাগ আপনার বিচার ক্ষমতার প্রাথমিক স্তম্ভটিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে আপনি খুব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অন্যকে দোষারোপ করে ফেলতে পারেন। আর তখনই আপনি দলগতভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবেন। আপনার দলের অন্যান্য সদস্যরা আপনাকে ভাল চোখে দেখবে না। সুতরাং, আপনি কর্মক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে পরবেন।

এই গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, আপনি যখন রেগে থাকবেন তখন আপনি নিজেকে খুব বেশি পরিমাণে আত্মবিশ্বাসী বলে মনে করবেন এবং তখন কোনো চিন্তা ভাবনা ছাড়াই অনেক বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন স্বাভাবিক অবস্থায় সচরাচর করেন না।

তাই যখন কোনো কারণে আপনি রেগে যাবেন, তখন অন্য কোনো কাজে অগ্রসর হবার আগে কিছুটা সময় নিন। নিজের মনকে শান্ত করুন। আর প্রতিদিন এমন কিছু করুন, যাতে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও নিজেকে চাপমুক্ত রাখা যায়। প্রয়োজনে নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করুন। এতে করে মনে স্বস্তি ফিরে পাবেন।