পরিবর্তন জীবনের বৈশিষ্ট্য। জীবনে স্থায়ী বলতে কিছু নেই। সুস্থতা-অসুস্থতা, আনন্দ-বেদনা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সবই পরিবর্তশীল। পরিবর্তনগুলো জীবনের চিরাচরিত নীতি। যুগে যুগে ইতিহাসের ঘটনাগুলো ঘাটলে আমরা সব ক্ষেত্রে তার প্রমান পাই।

পরিবর্তন তো ঘটবেই তার নিজস্ব গতিতে, কিন্তু সেই পরিবর্তন যদি ইতিবাচক হয় তবেই সেসব পরিবর্তন জীবনে উন্নতি এনে দেয়। একজন সুযোগ্য মানুষ হিসেবে জীবনে উন্নতি অর্জন করতে, নিজের ইচ্ছা আর প্রচেষ্টার দ্বারা নিজের মাঝে কিছু পরিবর্তন আনা উচিত।

আসুন জেনে নেয়া যাক এমন কিছু পরিবর্তন সম্পর্কে, যেগুলো আপনার জীবনে এনে দিবে উন্নতি-

) প্রশ্ন করুনঃ দার্শনিক সক্রেটিসের মহান উক্তি গুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে ‘নিজেকে জানো’ ।

ঠিক তাই! নিজের উন্নতির জন্য সর্বাপেক্ষা জরুরী হচ্ছে নিজেকে জানা, নিজের মনের বাসনা জানা, আপন ইচ্ছের কথাগুলো শোনা। তাই সবকিছুর ব্যাপারেই প্রশ্ন করুন নিজেকে। ভাবার চেষ্টা করুন যেসব কাজগুলো করছেন সেগুলো ঠিক হচ্ছে কিনা। আপনি হয়তো একটি পেশায় খুব স্বচ্ছল আছেন, কিন্তু তাতে কি আপনার মন শান্তি পাচ্ছে, নাকি অন্য কোনো পেশায় চাকরি করার ইচ্ছা মনে পুষে রেখেছেন? কেন করছেন, কি করতে চাচ্ছেন? এসব প্রশ্নগুলোই আপনার জীবনে উন্নতি বয়ে আনবে।

) অনুমান শক্তি বাড়ানঃ সাফল্যের পথ কখনোই খুব সহজ নয় বরং সর্বদাই সমস্যাযুক্ত। এসব সমস্যাগুলো আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। আপনাকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সেগুলো মোকাবেলা করতে হবে। হঠাৎ করে সমস্যা আমাদের জীবনে আসলে সবাই একটু ভীত হয়ে যাই। মোকাবেলা করার প্রস্তুতিটুকুও নেয়ার সময় থাকে না তখন। তাই যে কাজে হাত দিবেন সেই কাজের সমস্যা সম্পর্কে আগেই ভাবুন। ভেবে নিজেই জোড়ালো অনুমান করুন যে কিসব সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তাহলে সেই সমস্যা মোকাবেলার করার জন্য আপনি প্রস্তুত থাকতে পারবেন। নিজ দক্ষতার দ্বারা অনুমান শক্তি বৃদ্ধি করুন।

) নতুন কিছুর চেষ্টা করুনঃ ভাবতে পারেন এখন আপনার যা যা দক্ষতা আছে তাই যথেষ্ট। কিন্তু এটা মনে রাখবেন, শেখার কোনো শেষ নেই। নিজেকে দিন দিন আরো উন্নত মানুষে পরিণত করতে না পারলে জীবনে উন্নতি আসবে না। তাই সব সময়েই নতুন কোন দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা অব্যহত রাখুন।

ভেবে দেখবেন, জীবনে এমন বহু কাজ করার ইচ্ছে হয়েছে আপনার যেগুলি শুধু দ্বিধা – ভয়ের কারণে করে উঠতে পারেননি। আপনার জীবন আপনাকেই যাপন করতে হবে। তাই নিজের বা অন্যদের ক্ষতি না করে যা যা করা সম্ভব জীবনে তা করে নিন, দ্বিধা বা ভয়বোধ ছেড়ে। উন্নতি আপনিই ধরা দিবে।

) অতীত উদ্দেশ্য পুনরায় বাস্তবায়ন করুনঃ কাঙ্খিত উন্নতির জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়ন। অনেক সময়ই দেখাযায় আমাদের অতীতের কিছু উদ্দেশ্য থাকে যা হয়ত নানাবিধ কারনে বাস্তবে রূপায়িত হয়নি। হয়ত আপনার মনে আজও সেসব উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে অনেক আপসোস কাজ করে। সেক্ষেত্রে হতাশ না হয়ে সেসব পুনরায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করুন। এমনও যদি হয় যে পূর্বে চেষ্টা করা হয়েছিলর সফল হোননি, তাহলেও ঘাবড়াবেন না। সবসময় যে ফলাফল এক হবে তা কিন্তু না। সুতরাং পুনরায় ভাবুন আর বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকুন।

 

) বড় পরিসরের সাথে সংযুক্ত থাকুনঃ স্বভাবতই আমরা হঠাৎ করে বড় কিছুতে নিজেদের যুক্ত করতে কিংবা বড় কোনও কাজে হাত দিতে ভীত থাকি। এতে করে অনেক সময় বড় বড় সম্ভাবনা হারিয়ে যায়। জীবনের উন্নতির পথে এসব অন্তরায়। বরং নেতিবাচক ভাবনা ঝেরে ফেলে সবসময় নিজেকে বড় ধরনের কাজের জন্য প্রস্তুত রাখুন। বড় বড় সংস্থা-সমিতি, ক্লাব ইত্যাদির সাথে নিজেকে যুক্ত রাখুন। ভয় ভীতি সফলতার ক্ষেত্রে বিরাট বাধা । সফল হতে হলে অবশ্যই বড় বড় পদক্ষেপ নেবার অভ্যাস করতে হবে।

) আত্নবিশ্বাস রাখুনঃ যদি আপনি নিজেকেই বিশ্বাস না করেন, কে করবে? নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন, আস্থাশীল হন নিজের উপর। আপনার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র আপনাকেই নিতে হবে। একটি ব্যাপারে ব্যর্থ হলেই হাল ছেড়ে দিবেন না। নিজকে নিয়ে অহংকার করাটা যেমন বোকামী তেমনি নিজেকে ছোট করে দেখাটাও বোকামী। সবসময় নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখুন।

এসব পরিবর্তন আপনার দক্ষতাকে বিকশিত করবে, দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দেবে। আপনার জীবনে উন্নতির গতি নির্ধারণ করে দেবে। এভাবেই জীবনে উন্নতির দেখা মিলবে।

 

https://www.success.com/article/6-mindset-shifts-that-will-improve-your-life