চাহিদানুযায়ী কর্মক্ষেত্র পছন্দ করা ও সেখানে যোগদান করা সর্বদাই অনেক চ্যালেঞ্জিং। এর জন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থা থেকে ই ছোট ছোট প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা। এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় কিভাবে উপযুক্ত কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা যায়।

১. অনলাইন প্রোফাইল তৈরী করা:

বর্তমান সময়ে ফেসবুক প্রোফাইল ও সি.ভি হিসেবে কাজ করে। এজন্য এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, ভার্চুয়াল উপস্থিতি যেন অন্যের কাছে উপস্থাপনযোগ্য হয়। কেননা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোই বর্তমানে আপনার ব্যাক্তিত্বের পরিচয় বহন করে।

২. বিভিন্ন প্রতিষ্টানের সাইটে সিভি জমা দেওয়া:

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা ও কেন আপনি অন্যদের থেকে পৃথক তা বোঝানো এবং আপনার অতিরিক্ত যে স্কিল আছে তার পরিচয় দেয়া। কেননা, সাধারণের সাথে নিজের পার্থক্য গড়ে দেখাতে না পারলে বিশেষ কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। সুতরাং লক্ষ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য সিভি তৈরী করা ও সে অন্যায়ী নিজের স্কিল গড়ে তোলা।

৩. নিয়োগকারী দের সাথে কথা বলা:

সাধারণত আপনার কাছ থেকে কি আাশা করা হচ্ছে অথবা আপনার কর্মক্ষেত্র আপনার কাছ থেকে কি আশা করে তার একটা স্বচ্ছ ধারণা নিন যাতে নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। আর এর জন্য নিয়োগকরী দের সাথে পরিষ্কার কথোপকথন করতে হবে।

৪. প্রতিটি সুযোগ এর ভিন্ন ধারার প্রস্তুতি বা বৈচিত্র্যতা:

ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সিভি দেয়া এবং সে অনুযায়ী স্কিলসেট ঠিক করা, নিজেকে উপস্থাপনযোগ্য করা ও প্রস্তুতি নেয়াটা সবসময় ই চ্যালেঞ্জিং হলেও তা অতীব জরুরী ও অবশ্য করণীয় পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী ও তাদের চাহিদা অনুঅয়ী নিজেকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন, ব্যাস আপনার নজর কাড়তে অসুবিধা হবে না।

৫. সম্পর্কের সুবিধা নেয়া:

হোক বৈধ বা কিঞ্চিত নীতিবিরোধী, সুসম্পর্কের সুবিধা নেয়ার মাঝে অন্যায় কিছু নেই। যদি পরিচিত কেউ আপনার পছন্দের কোনো প্রতিষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে থাকে তখন তাদের সুপারিশ নেয়াটা অনেক কাজে দেয়। তবে, পরিচিত কেউ নেই? কোনো সমস্যা নেই, নিজের পরিশ্রম, মেধা আর কৌশল দিয়ে সুপারিশ ডিঙিয়ে আপনিপ হতে পারেন অধিক গ্রহণযোগ্য যদি সাভাবে নিজেকে তৈরী করা সম্ভব হয় তো।

৬. কর্মক্ষেত্রের জন্য অধিকতর প্রস্তুতি:

কেবল প্রথম শ্রেণী ই নয়, এখন প্রতিযোগিতা মুলক সময় আর তাই প্রতিযোগিতা টা ও অনেক বেশি। এজন্য পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি যার বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা যত বেশি থাকবে, তার জন্য অন্য প্রার্থীদের থেকে নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে রাখতে পারবে। বিভিন্ন শিক্ষাসফরের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জনপদে ও দেশের বাইরে ভ্রমণ আপনার মধ্যে সৃষ্টি করবে এক বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা যা কাজে লাগাতে চাইবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।

৭. পছন্দের প্রতিষ্ঠানের উপর গবেষণা করা:

যে প্রতিষ্ঠানের সদস্য বা অংশ হতে আগ্রহী, তার উপরে করুন গবেষণা। কোন ধরণের কর্মী তাদের পছন্দ, কর্মীদের মধ্যে কোন গুনাবলি তারা আাশা করে, কর্মীর কাছ থেকে তারা কী আাশা করে প্রভৃতি আরো বিষয়াদিতে প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকার লক্ষ্যপূর্বক ভবিষ্যত পরিকল্পনা সাজানো।

৮. ছোট ক্ষেত্র যেন হাতছাড়া না হয়:

কেবল সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানে যোগদানের ধান্দায় যেন নষ্ট না হয়ে যায় তুলনামূলক ছোট প্রতিষ্ঠানে যোগদানের সুযোগ সম্ভব হলে ছোট প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু করা ও পরবর্তীকালে পছন্দীয় স্থানে যোগ দেয়া সম্ভব। প্রারম্ভিক অবস্থায় নিজেকে কোনো কিছুর সাথে নিজেকে জড়িত রাখতে পারলে তা বাড়তি আত্নবিশ্বাসের জোগান দেয়।

৯. চিন্তা-ধারা ও নিজের জগত কে বর্ধিত করা:

নিজের দৃষ্টিকোণ অথবা জগতটা কে বৃহৎ করতে হবে যাতে কোনো সংকীর্ণতা স্থান না পায়। বেশি বড় স্বপ্নের পিছে ছুটতে যেয়ে যেন ছোট স্বপ্নগুলো হারিয়ে না যায় সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে। তবে ছোট ছোট স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমেই এক সময় পূর্ণ হয় বড় স্বপ্ন।

 

সদা আত্মবিশ্বাসী থাকতে হবে, নিজের প্রতি নিজের বিশ্বাসে যেন চিড় না ধরে। জীবনে চলতে গেলে হোঁচট খাওয়াটাই স্বাভাবিক তবে তা যেন হয় স্বল্প সময়ের জন্য। কোনো বিপদে উদ্যম হারানো যাবে না, নিজের প্রতি পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

Source:

https://www.savethestudent.org/student-jobs/10-ways-to-boost-your-job-prospects-whilst-studying.html