স্কুলের কথা মনে আছে? আপনার সেই সহপাঠীর কথা যে কিনা কোন কিছু মাত্র ২বার পড়লেই মুখস্থ করে ফেলত? অথবা একটি অঙ্ক বা কঠিন কোন বিষয় একবার পড়েই বুঝে যেত? যেখানে অনেকেই হয়ত সারারাত পড়েও কোন কিছু মনে রাখতে পারতো না? আবার অনেকের তেমন কোন মেধা না থাকা সত্ত্বেও দিন রাত খেঁটে স্কুলে খুব ভাল ফল করত তাহলে প্রশ্ন আসে কোনটা বেশি দরকার? মেধা নাকি পরিশ্রম? এই প্রশ্ন অনেকদিন থেকেই চলে আসছে আসুন আমরা একটু দেখি কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য একজন মানুষের মেধা না কাজ তাকে সফল করে তোলে

মেধার স্বপক্ষে যুক্তিঃ

১। জন্মগতভাবে মেধা আসেঃ একজন মানুষ যে বিষয় পারদর্শী হয় তা তার জন্মগতভাবে আসে। যেমন কেউ খুব সুন্দর ছবি আঁকে। এটা তার জন্মগত মেধা। কেউবা অঙ্কে খুব ভাল। কেউ আবার খুব ভাল কবিতা লেখে। এসব কিছুই তার মধ্যে জীনগতভাবে আছে।

২। সফলতার জন্য মেধা জরুরিঃ সফলতার অন্যতম উপাদান হল মেধা। একজন মানুষের মেধা না থাকলে সে খুব বেশিদূর যেতে পারে না। যেমন একজন মানুষ একদমই ছবি আঁকতে পারে না। এখন তাহলে সে ছবি আঁকার মত বিষয় নিয়ে খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। পারলেও সেটা তার জন্য অনেক কষ্টসাধ্য হবে। তাই সফলতার জন্য মেধা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

৩। পরিশ্রম প্রকৃত মেধার অন্তর্ভুক্তঃ শুনতে অন্যরকম লাগলেও এটা সত্য যে কঠোর পরিশ্রম নিজেই জন্মগত মেধার অন্তর্ভুক্ত। দেখা যায় অনেকে আছে কঠোর পরিশ্রম করতে পারে। তেমন অসুবিধা হয় না তার। আবার অনেকেই আছে সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে উঠে। বা তেমন পারে নাসবাই কঠোর পরিশ্রমী হতে পারে না

৪। প্রকৃত মেধা ভাল কর্মী তৈরি করেঃ আপনি যেই ক্ষেত্রে ভাল মানে আপনার যে মেধা রয়েছে সেই ক্ষেত্রে আপনি অনেক ভাল কাজ করতে পারবেন। আপনি ওখানে আপনার সর্বোচ্চটা দিতে পারবেন। কারণ বিষয়টা আপনার মধ্যে রয়েছে আগে থেকেই।

পরিশ্রমের স্বপক্ষে যুক্তিঃ

১। কঠোর অনুশীলন সফলতার শিখরে নিয়ে যায়ঃ আপনার যে মেধা আছে সেটাকে যদি আপনি যত্ন নিয়ে পরিচর্যা করেন এবং কঠোর অনুশীলন করেন তাহলে আপনি সফলতার সবচেয়ে উচ্চতায় উঠতে পারবেন। মেধাকে আপনি জ্বালানির সাথে তুলনা করতে পারেন। যা আপনাকে চলতে সাহায্য করবে। কিন্তু আপনি কীভাবে চলবেন এবং কতদুর যাবেন তা আপনার পরিশ্রম ঠিক করবে।

২। মেধা নষ্ট হতে পারেঃ সঠিক চর্চা এবং পরিশ্রমের অভাবে অনেক সময় মেধা নষ্ট হয়। আমরা এর অনেক উদাহরণ দেখতে পাই আমাদের চারপাশে। অনেক ছেলেমেয়েই অর্থের অভাবে ভাল পড়াশুনা করতে পারে নাকিন্তু দেখা যায় সে অনেক মেধাবী। অথবা কারো হয়ত খুব ভাল কবিতা লেখার গুন আছে। কিন্তু কোন কারনে সে এই গুনটির চর্চা করতে পারে নাইফলে তার মেধাটি নষ্ট হয়েছে। তাই মেধার সাথে পরিশ্রম সমভাবে জরুরি।

৩। পরিশ্রমে অনেকসময় মেধা তৈরি হয়ঃ অনেকের মধ্যেই দেখা যায় তেমন মেধা না থাকা সত্ত্বেও প্রচণ্ড কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার ফলে অনেকেই খুব ভাল কাজ করে। যদিও এই সংখ্যা অনেক কম। যেমন, কেউ হয়ত পড়াশুনায় তেমন ভাল না। কিন্তু অক্লান্ত পরিশ্রম দ্বারা সে দেখা যায় ঠিকই পরীক্ষায় খুব ভাল নাম্বার পাচ্ছে। তাই নিয়মিত চর্চা অনেক সময় মেধাবী তৈরি করে।

অনেক সময় দেখা যায় কেউ তার মেধার উন্নয়ন ঘটাতে ঠিকমত চর্চা করে নাতার মনে চলে আসে আমি তো এটা পারি। আমার তেমন কষ্ট করার দরকার নেই। এই কাজটি অনেক ভুল। কারণ মেধা থাকলেও সেটিকে যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। ঠিকমত যত্ন এবং পরিচর্যায় এই মেধার সাহায্যে অনেক ভাল একটি অবস্থানে যাওয়া যায়। মেধা বড় নাকি পরিশ্রম এই তর্ক সবসময় চলে আসছেতবে বলা যায় আসলে দুটোরই দরকার আছে। দুটি ব্যাপারই মানুষকে সফল করে তোলে। তাই কেউ আমার মেধা নেই বলে যেন হাল ছেড়ে না দেই। আবার মেধা আছে বলে সেটার যত্ন নিতেও যেন ভুলে না যাই।

তথ্যসূত্রঃ http://www.josephchris.com/natural-talent-vs-hard-work