“আপনার একটি তারিফ বা মূল্যায়ন একজনের একটি দিনকে সম্পূর্ণ পাল্টে ফেলতে পারে, এমনকি তার জীবনেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আপনার একটি শব্দ বা বাক্যই এমন একটি পরিবর্তন আনার জন্য যথেষ্ট।”

– মার্গারেট কুজিন্স।

মূল্যায়ন বা তারিফ হল এমন একটি জিনিস যা কোনো কিছুর মান বা কদর বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এখানে মূল্যায়ন বলতে আমরা আর্থিক দিকটিকে নির্দেশ করছি না, যেখানে মূল্যায়ন মানে হলো কোনোকিছুর দাম বা আর্থিক মূল্য বাড়িয়ে দেয়া।

মূল্যায়নের কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা প্রক্রিয়া নেই। আপনি যদি কাউকে তারিফ বা তার কাজের মূল্যায়ন করতে চান, তাহলে তা   অনেকভাবে করা যায়। ছোটখাটো কিছু শব্দ বা ভঙ্গি দিয়ে খুব সহজেই আপনি তা করতে পারেন৷ যেমন, কারও কথা খুব মনযোগ দিয়ে শোনা৷ এতে করে যে বলছে, তার মনে হবে আপনি তার কথায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। আবার ধরুন, তার কথা শেষে আপনি তাকে ছোট একটি ধন্যবাদ দিয়ে দিলেন৷ এতে করে তিনি খুশিই হবেন। আবার কারও কোনো কাজে আপনি সামান্য সাহায্য করলেন। এতে করে তিনি আপনার প্রতি সদয় হবেন এবং নিজের কাজের প্রতিও আগ্রহ সৃষ্টি হবে। আবার আপনি সরাসরিই কারও কাজের তারিফ করে তাকে বুঝিয়ে দিতে পারেন তার কাজের বা কথার মূল্যায়ন। সুতরাং, আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারিফ বা মূল্যায়ন খুব সহজেই করা যায়, এবং তা খুব সহজেই একজন মানুষকে তার কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাতে পারে।

তবে আজ আমরা আপনাকে কিভাবে মূল্যায়ন বা তারিফ করতে হবে তা বলতে যাচ্ছি না। আজ এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যায়নের বা তারিফের জন্য কি রকম বা কি ধরণের পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রয়োজন হয়। এখানে আমরা আজ এমন পাঁচটি অবস্থার কথা বলতে যাচ্ছি।

সংস্কৃতি

সংস্কৃতি হল এমন একটি বিষয়, যা আপনার মজ্জায় অবস্থান করে৷ যা জন্মগতভাবে আপনি প্রাপ্ত। যা বললেই আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না। এখানে আপনি যা চান তাই করতে পারবেন না৷ সমাজ হোক, পরিবার হোক বা ছোট বড় কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজস্ব একটি সংস্কৃতি আছে৷ আর সেই সংস্কৃতি হলো ওই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য। কখনো কখনো মানুষ জানতেই পারে না যে, সে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের বা সংস্কৃতির মাঝে অবস্থান করছে। কিন্তু, এই বৈশিষ্ট্যের দ্বারাই সে প্রতিনিয়ত প্রভাবিত হচ্ছে। আর এই সংস্কৃতি যদি তার জন্য ভালো কিছু না নিয়ে আসে, তাহলে সে কখনোই অন্যকে মূল্যায়ন বা তারিফ করতে পারবে না। তাই সংস্কৃতিকে বুঝতে হবে।

কৃতজ্ঞতাবোধ

কৃতজ্ঞতা একজন মানুষের জীবনে পূর্ণতা এনে দেয়৷ এটি মনের বন্ধ দরজা খুলে দিয়ে আলোর পথ দেখায়। এটি খাবারকে ভোজ হিসেবে এবং অপরিচিতকে বন্ধু ভাবতে সাহায্য করে। যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে কার্পন্য করেন না, তারা অন্যের জীবনের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। এটি মানুষকে আন্তরিক হতে শেখায়। আমরা যখন অনুভব করি আমরা কিছু পেয়েছি, তখনই আমরা কিছু দেয়ার চেষ্টা করি৷ আমরা নিজেকে যত বেশি মূল্যায়ন করতে পারি, ততোই আমরা অন্যকে মূল্যায়ন করতে পারি।

বৈচিত্র্য

মানুষ নিজে নিজে বৈচিত্র আনতে পছন্দ করে৷ কিন্তু বৈচিত্র্য যদি নিজেই মানুষের জীবনে চলে আসে, তখন সে তা সাগ্রহে মেনে নিতে পারে না৷ এটি মেনে নেয়ার মত মনের জোর থাকতে হবে৷ তাহলে মানুষ নিজের জীবনের মূল্যায়ন করতে পারবে। সাথে সাথে অন্যের জীবনকেও মূল্যায়িত করতে পারবে।

বিভিন্নরকম ক্রিয়াকলাপ  

সমাজ, সংস্কৃতি, পরিবারে থাকতে হলে কিছু নিয়মকানুন বা ক্রিয়াকলাপের সাথে জড়িত থাকতে হয়৷ এগুলো মানুষের জীবনকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়৷ এগুলো মানুষকে নিজেকে খুশি রাখতে, অন্যকে আনন্দ দিতে সাহায্য করে৷ তখন মানুষ একে অন্যের মূল্যায়ন করতে পারে খুব সহজেই।