“পড়তে ভাল্লাগে না”, “পড়ার টেবিলে মন বসে না”, “পড়া মনে থাকে না”। পড়া মনে না থাকা নিয়ে এমন হাজারো সমস্যা বা হতাশার কথা মানুষের মুখে মুখে ঘুরে। আসলে লেখাপড়া কাজটা কোন হতাশার বিষয় নয়। নিয়ম মাফিক পড়ালেখা করলে, সহজ কিছু টিপস্ মেনে চললেই হতাশাজনক এই বিষয়টিই আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হতে পারে।

* পড়তে বসার আগে একটু হাঁটা-হাঁটি করতে হবে। খালি হাতে হালকা ব্যায়ামও করা যেতে পারে। এতে মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মস্তিষ্কের কর্ম দক্ষতা ও ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি পরীক্ষিত বিষয়।

* পড়তে বসার পূর্বে প্রত্যেকের একটা টার্গেট ঠিক করে নিতে হয়। যেমন- কী পড়বেন? কোথা থেকে শুরু করবেন? কতটুকু পড়বেন, কয়টি বই পড়বেন? এটা কিন্তু খুব জরুরী।

* অনেকের ধারনা পড়ালেখা সারা দিন-রাতের ব্যাপার। সারা দিন রাত পড়া লেখা করলে তবেই ভাল ফল পাওয়া যায়। কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ আগ্রহের সাথে পড়ালেখার একটা গভীর সম্পর্ক আছে। আর এই আগ্রহ সারা দিন রাত সময় সমান ভাবে থাকে না। সাধারণত আগ্রহটা শিক্ষার্থীদের সকালের দিকে বেশি থাকে। গবেষনায় দেখা গেছে- যে পড়াটা সকালের আধা ঘন্টায় হয়ে যাচ্ছে, তা রাতে করতে এক ঘন্টা বা তার বেশি সময় লাগছে। অবশ্য এই আগ্রহ ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন হয়। তাই নিজেরটা নিজেকে বুঝতে হবে। যখন আগ্রহ বেশি থাকবে তখন কঠিন এক ঘেয়ে বিষয় গুলো পড়তে হবে এং আকর্ষনীয় বিষয় গুলো অন্য সময় পড়তে হবে।

* একটানা পড়ালেখা করা অনেক সময় একঘেঁয়েমির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তখন অনেক সহজ বিষয়ও মাথায় ঢোকে না। মন অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। একটা গবেষনায় দেখা গেছে মানুষ কোন কাজে একটানা ২৫ মিনিটের বেশি মনোযোগ দিতে পারে না। তখন তার মন বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে ৫/১০ মিনিটের একটা বিরতি নিতে হবে। দরকার পড়লে দাঁড়াবেন, হাঁটাহাঁটিও করতে পারেন। তবে সেটা রুমের ভিতরে হলে ভাল হয়। চা, কফি, অন্য পানীয় বা হালকা কিছু খেতে পারেন। এতে আগ্রহটা আগের অবস্থানে চলে আসবে। তবে সব থেকে ভাল হয় চুপ করে চেয়ারে একটু আরাম করে বসা। খেয়ল রাখতে হবে বসার সময় পা দুটো যেন মেঝেতে লেগে থাকে। তবে একটা কথা খেয়াল রাখতে হবে, এসময় টিভি, কম্পিউটার মোবাইল কিংবা গল্পে মাতবেন না, এতে বিরতির সময় ৫ মিনিট থেকে ২ ঘন্টায় পৌঁছে যাবে।

* পড়া মুখস্ত করার সময় উচ্চঃস্বরে পড়া উচিৎ। এভবে পড়লে আপনার মস্তিস্ক অন্য দিকে টার্ন করার সুযোগ পায় না। আশে পাশের শব্দ কানে পৌঁছায় না। আপনার বলা কথা গুলো মস্তিস্ক সহজেই ধারণ করতে পারে। ফলে তাড়াতাড়ি মুখস্ত হয়। কিন্তু আস্তে পড়লে মাথায় অন্য চিন্তা ভিঁড় করতে পারে, আপনি অন্য মনস্ক হয়ে যেতে পারেন।

* পড়ালেখা সহজ করার জন্য কয়েকটা পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন ধরুন কনসেপ্ট ট্রি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্রথমে একটা অধ্যায় ভালোভাব পড়তে হবে। এরপর অধ্যায়টা সুবিধা মত কয়েকটি অংশে ভাগ করে ফেলতে হবে। প্রতি ভাগের একটি করে সারমর্ম বের করতে হবে। খাতায় একটি গাছ এঁকে তার পাতায় সারমর্ম লিখতে হবে। প্রতিদিন গাছটাতে চোখ বুলালেই ঐ অধ্যায়টি মাথায় স্থায়ী হয়ে যাবে।

* কী ওয়ার্ড পদ্ধতিকেও কাজে লাগাতে পারেন। যেমন- মুঘল সম্রাটদের নাম সহজে মনে রাখার জন্য এই বাক্য টি মনে রাখতে পারেন “বাবার য়েছে বার জ্বসারিল ষধে”। (বাবর – হুমায়ন – অাকবর – জাহাঙ্গীর – সাজাহান-  ঔরঙ্গজেব)। এছাড়া “পাগুটাদীপ্তি” শব্দটি দিয়ে সকল কারকে ৭মী বিভক্তির উদাহরণ দিতে পারেন। এরকম মজার মজার জিনিস আপনি নিজেও তৈরি করে নিতে পারেন।

* যারা ইতিহাস পড়েন তারা কালরেখা পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন। উল্লেখযোগ্য বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা নজরে এলে নিচে দাগ দিয়ে প্রতিদিন এক বার করে পড়তে হবে। তাহলে খুব সহজে ঐ বই সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা হবে।

* কোন একটা বিষয় পড়ার সাথে সাথে লিখলে সহজে মনে থাকে। কারণ এক বার লিখলে তা ৩ বার পড়ার কাজ করে। ইংরেজী পড়তে হলে আগে তার অর্থ জানতে হবে। বানান গুলো ভালো করে পড়তে হবে এবং সাথে সাথে লিখতে হবে।

* পড়ার সাথে সাথে যদি বিষয় ভিত্তিক ছবি আঁকা যায় তবে সেটা অনেক বেশি কার্যকরী হয়। জ্যামিতি এবং বিজ্ঞান বিষয়ে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রশ্নের সাথে মিল রেখে একটি সঠিক চিত্র আঁকা যায়, তাহলে দেখা যাবে বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে গেছে।

* ক্লাশে মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষকদের আলোচনা প্রয়জোনে নোট করতে হবে। ঐ নোট এবং বই মিলিয়ে নিজের মত হ্যান্ড তৈরি করতে হবে। এভাবে নিজে নোট করে পড়লে অনেক বেশি মনে থাকে।

* সুযোগ থাকলে পড়ালেখার বিষয় নিয়ে সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে। এতে তাদের ও নিজের উপকার হয়। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিষয়টি মস্তিস্কের স্থায়ী স্মৃতিতে পরিনত হয়।

* সর্বোপরি সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনে মেডিেশন করতে হবে। খেলাধুলা করতে হবে। শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রম দিতে হবে। কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত  পানি পান করতে হবে। “আমিই পারি”- এই আত্নবিশ্বাস থাকতে হবেে।

—————————————————————————————————-

তথ্য সূত্র: