অ্যাসিস্ট্যান্ট এসিস্টেন্ট

মানুষ পড়া’! কথাটা প্রথমত একটু অপরিচিত হলেও আমরা সবসময়েই সচেতন বা অবচেতনে এটা করে থাকি। ব্যাখ্যা করে বললে, অন্যের ভাবভঙ্গি দেখে তার সম্পর্কে আমরা যা বোঝার চেষ্টা করি, তাই হচ্ছে কোনো মানুষকে পড়া বা মন পড়া।

মানুষ পড়াকে আমরা পর্যবেক্ষণ করাও বলতে পারি। যাদের বই পড়ার অভ্যাস আছে, তারা কখনো না কখনো ডিটেকটিভ বই অবশ্যই পড়েছেন। আর ডিটেকটিভদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা কত উঁচু পর্যায়ে থাকে তার প্রমাণ বিভিন্ন গল্পেই আমরা পেয়ে থাকি। পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আপনাকে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে না। চোখ, কান খোলা রেখে চললেই দেখবেন আপনি অনেক কিছু বুঝতে পারছেন, মানুষের মনের কথাও অনেকটা ধরতে পারছেন।

দৈনিক জীবনযাপনে হয়ত এরকম পর্যবেক্ষণ না থাকলেও চলে। কিন্তু আমাদের চারপাশের কিছু মানুষের মনের খবর তো রাখাই লাগে। প্রতিদিন যাদের সাথে চলাফেরা করা হয়, যাদের সাথে একই ছাদের নিচে থাকতে হয় তাদের মনের কথা কিছুটা বুঝতে হয়ই। তবে শুধু মুখভঙ্গি দিয়ে কাজ হয় না, সাথে সাথে তাদের ব্যক্তিত্বের উপরেও কিছুটা জ্ঞান রাখতে হবে। একেক ব্যক্তিত্বের মানুষকে একেকভাবে বুঝতে হয় এবং সেই অনুযায়ী তাদের সাথে আচরণ করতে হয়।

জনপ্রিয় লেখক টনিজিয়েরি এবং লেখক ও বক্তা ড: রবার্ট রহাম তাদের একটি বইতে চার ধরণের ব্যক্তিত্বের কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর সাথে এও উল্লেখ করেছেন যে, এসব ব্যক্তিত্বের মানুষের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হয়।

সবাইকে যোগাযোগের দুটি ধারণা সম্পর্কে জানাতে তারা এই বইটি লিখেছেন। সেগুলো হল:

১।প্রত্যেক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তির যোগাযোগ করার ক্ষমতা ভিন্ন; এবং

২।একেক ব্যক্তিত্ত সম্পন্ন মানুষ একেক রকম গতিতে তথ্য গ্রহণ ও যোগাযোগ সম্পাদনা করে থাকেন। মানে কেউ হয়তো খুব দ্রুত যোগাযোগ করতে পারে, কেউ আবার ধীরে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

তারা ব্যক্তিত্বকেও বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করেছেন। আর এর জন্য তারা একটি মডেল ব্যবহার করেছেন যা DISC মডেল হিসেবে পরিচিত। মডেলটি গত শতাব্দীর আরেকটি মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা মানুষের ব্যক্তিত্বকে দুটি ভাগে ভাগ করেছিল। একটি হল Extroverted (বহির্মুখী/মিশুক) এবং আরেকটি হল Introverted (অন্তর্মুখী).

কিন্তু DISC মডেলটি মানুষের ব্যক্তিত্বকে চার ভাগে বিভক্ত করেছে। বোঝানোর সুবিধার্থে নামগুলো ইংরেজিতে লিখেই বলা হল:

১।Dominant/ কর্তৃত্বপূর্ণ (extroverted, task-oriented);

২। Inspiring/উৎসাহদানকারী (extroverted, people-oriented);

৩। Supportive/সহায়তাকারী (introverted, people-oriented);

৪। Cautious/হুঁশিয়ারি (introverted, task-oriented)।

যেসব ব্যক্তি অধিক কর্তৃত্বপূর্ণ, তাঁরা খুব দ্রুত তথ্য পেতে চান। তবে তারা পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলো জানতে আগ্রহী নন। গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মোট জনসংখ্যার ১০-১৫% মানুষ এই ব্যক্তিত্বের হয়ে থাকেন।

যাদের ব্যক্তিত্বে দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি (উৎসাহদানকারী) বিদ্যমান, তারা প্রায়শই দ্রুত তথ্য পেতে চান। তবে তাদের আগ্রহ বিস্তারিত জানায়। আবার এসব মানুষ বেশ বন্ধুবৎসলও হয়ে থাকেন। মোট জনসংখ্যার ২৫-৩০% এই ধরণের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পরে থাকেন।

যাদের ব্যক্তিত্বে তৃতীয় বৈশিষ্ট্য বা সহায়তার বিষয়গুলো দেখা যায়, তারা সব তথ্য ধাপে ধাপে এবং বিস্তারিতভাবে জানতে চান, কিন্তু সময় নিতে চান কিছুটা বেশি। এরা মানুষের সাথে সম্পর্ক তৈরিতেও বেশ পারদর্শী। ৩০-৩৫% মানুষের ব্যক্তিত্ব এই বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে।

যারা হুঁশিয়ারি অর্থাৎ চতুর্থ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন তারা খুব ধীরে ধীরে এবং অনেক বেশি বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। কারণ তারা এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে থাকেন। ২০-২৫% মানুষ এই স্তরে বিরাজমান।

তাহলে চলুন দেখা যাক, কিভাবে আপনি এই মডেল ব্যবহার করে মানুষের মন পড়তে পারবেন।

ধরুন, আপনি একজন Extroverted (বহির্মুখী/মিশুক) এবং আপনার স্ত্রী একজন Introverted (অন্তর্মুখী) ব্যক্তি। আপনাদের দুজনের ব্যক্তিত্ব দুধরনের। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আপনাদের দুজনার দুজনকে অবশ্যই বুঝতে হবে। তাই আপনি যদি আপনার স্ত্রীর মনকে পড়তে চান, তাহলে প্রথমেই আপনি DISC মডেল অনুযায়ী তার ব্যক্তিত্বকে খুঁজে বের করুন। Introverted ব্যক্তিরা DISC মডেল এর S এবং C এর পর্যায়ে বিদ্যমান। সুতরাং, এই বৈশিষ্ট্যের মানুষের আচরণ কেমন এবং সেই অনুযায়ী কিভাবে আপনি আচরণ করলে আপনার স্ত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন তা সহজেই বুঝতে পারবেন।

আপনি যদি DISC মডেলের প্রত্যেকটি বৈশিষ্ট্য ভালভাবে বুঝতে পারেন, তাহলে খুব সহজেই অন্যকে বুঝতে পারবেন এবং অন্যরা কিসে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে তাও বুঝতে পারবেন। এতে করে আপনার সাথে অন্যদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

 

সুত্র