শারীরিক শক্তি আর স্বাস্থ্য নিয়ে মোটামুটি সবাই কম-বেশী সচেতন। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্য ও শক্তি নিয়ে এখনও ভালভাবে সচেতনতা সবার মাঝে দেখা যায়না। বাস্তবে নিজেকে এগিয়ে নেয়ার জন্য যতটা শারীরিক শক্তির প্রয়োজন তারচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক শক্তি বা দৃঢ়তার।

একজন যোগ্য ও শীর্ষ কর্মী হতে কিংবা যেকোনো ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে, নিজের ইচ্ছা, প্রচেষ্টা এবং শৃঙ্খলার প্রয়োজন। এসব করতে গেলে সামনে অনেক রকম বাধাই আসবে, যেগুলো থেকে উদ্ধারের উপায় হচ্ছে নিজের মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করা।

মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ সর্বদা মানসিক দৃঢ়তার খোঁজে ইচ্ছুক থাকে। মানসিক দৃঢ়তার দ্বারাই সে নিজের সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করে। দৈনিক কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করতে পারেন। চলুন জেনে নেয়া যাক কিছু কাজ সম্পর্কে, যেগুলো মানসিকভাবে দৃঢ় করে তুলবে আপনাকে।

শেখার ইচ্ছা: আমরা তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে বাস করছি। তাই শেখার ইচ্ছাপূরণ এখন অনেক সহজ। কিন্তু এখনও সবাই শিক্ষার জন্য সমস্ত সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছে না। মানসিকভাবে দৃঢ় মানুষ কখনও শিক্ষা গ্রহণকে ক্লান্তিকর প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন না, বরং তারা তাদের মানসিক শক্তি বিকাশের জন্য শিক্ষা গ্রহণকে, প্রয়োজনীয় রুটিন হিসেবে ধরে নেয়।

মানিয়ে নেবার প্রবণতা: পরিবর্তন জীবনের স্বভাবিক এবং চলমান একটি প্রক্রিয়া। এই পরিবর্তন ইতিবাচক বা নেতিবাচক দুধরনেরই হতে পারে। এক্ষেত্রে হতাশ না হয়ে সব ধরনের পরিবর্তনের সাথে মোকাবেলা করতে হবে। জীবনে চলার ক্ষেত্রে অনেক কিছুই ঘটবে আপনার সাথে। সেসব নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে , উন্নতির অন্তরায় না ভেবে আপন উন্নতির সহায়ক হিসেবে সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।

উদার মনের অধিকারী হোন: সবসময় সচেষ্ট থাকুন পরোপকারে, বিভিন্ন কাজে অন্যদের সহায়তা করতে, ভালো ব্যবহার করতে। কেউ ভুল করলে ক্ষমা করে দিতে পারা শিখুন। এর মাধ্যমে জীবনে নেতিবাচক আবেগের পরিমাণ কমে আসবে। জীবনে নেতিবাচক আবেগের পরিমাণ কমিয়ে ইতিবাচক আবেগের পরিমাণ বাড়াতে পারলে দেখবেন মানসিকভাবে অনেক শক্তি পাবেন।

ব্যাতিক্রমী চিন্তা করুন: মানসিকভাবে দৃঢ় মানুষ নিজেদের পথ নিজেরাই তৈরি করে। কখনও কখনও আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে, সাধারন চিন্তা চেতনার বাইরেও কিছু ব্যতিক্রমী চিন্তা করতে হবে আপন লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য। নিজের অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কি কি অপরিহার্য নিজেই ভাবুন এবং সেসকল বিষয়ের উপর মনোযোগী হোন।

আত্নবিশ্বাস রাখুন: যদি আপনি নিজেকেই বিশ্বাস না করেন, কে করবে? নিজের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন, আস্থাশীল হোন নিজের উপর। আপনি নিজেই যদি মানসিক ভাবে দুর্বল হোন এবং ভাবেন, নাহ আমার দ্বারা হবেনা। তাহলে আসলেও আপনি সফলতার দেখা পাবেন না। তাই মানসিক দৃঢ়তার জন্য আত্মবিশ্বাস একান্ত জরুরী।

দায়িত্ববান হোন: একজন দায়িত্ববান মানুষ কখনোই একসাথেঅনেকগুলো দায়িত্ব গ্রহণ করেনা। কোন একটি দায়িত্ব নিয়ে তা শেষ করতে না পারলে তা আপনাকে মানসিকভাবে অনেক যন্ত্রণা দিবে। তাই দায়িত্ব নেয়ার আগে দায়িত্ববান হোন। নিজের ক্ষমতা বুঝেই কাজে হাত দিন। আর যেই কাজ আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা স্বীকার করে নিন।

আত্মসচেতনতা: নিজের নিকট সঠিক প্রশ্নই সঠিক সমাধান দেয়। নিজের আবেগ, শক্তি এবং দুর্বলতা বোঝার জন্য আত্মসচেতনতা প্রয়োজন। নিজের ক্ষমতা অন্যের হাতে যেন চলে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। নিজের কর্মসূচির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখবেন। এমনকি অনেক চাপের মাঝেও দৃঢ় থেকে নিজের কর্মদক্ষতা অটুট রাখুন। ব্যর্থতা, ভুল ইত্যাদি আত্মসচেতনতার দ্বারা মোকাবেলা করুন।

অতীতের ভাবনা ছাড়ুন:অতীতে যা ঘটে গেছে তা আপনি চাইলেও কখনোই বদলাতে পারবেন না,তাই অতীত নিয়ে বসে থেকে, মানসিক অশান্তি বাড়িয়ে, বর্তমান সময় নষ্ট করবেন না। মানসিকভাবে দৃঢ় হতে হলে অতীত নিয়ে ভাবনা বাদ দিয়ে বর্তমান সময়টাকে নিয়ে চিন্তা করুন। বর্তমান সময়টাকে কিভাবে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায় তাই ভাবুন।

নিজের উপর ভরসা রেখে, বিশ্বাস রেখে নিজের কাজগুলো মনযোগ দিয়ে করুন, দেখবেন সকল কাজে সফলতা পাবেন আর মানসিকভাবেও অনেক দৃঢ় হতে পারবেন। এভাবেই আপনি চাইলে অন্যদের তুলনায় আপনার মানসিক দৃঢ়তা অনেকাংশেই বাড়িয়ে নিতে পারবেন আর নিজেকে এগিয়ে নিতে পারবেন অনেকদূরপর্যন্ত।

 

https://www.success.com/article/8-daily-habits-to-build-your-mental-strength