নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে দাঁড় করাতে গেলে অনেকগুলো গুণ তো অবশ্যই থাকা চাই। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ইচ্ছাশক্তি ইত্যাদির পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার সামর্থ্য একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং এভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

সঠিক আর কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত দুটি ধারণা বিদ্যমান।

প্রচলিত ধারণা- ১ ‘সর্বদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত’

র্বোচ্চ স্তর থেকে আসা সিদ্ধান্তগুলোই যে সবসময় সঠিক হবে তা কিন্তু নয়। বরং প্রায়শই দেখা যায় যে, এভাবে সমস্যার সমাধান না হয়ে উল্টো চাপের সৃষ্টি হয়।

যদি কোন ব্যক্তি তার সমমানের চিন্তাবিদদের সাথে আলাপ-আলচনার মাধ্যমে সেগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় তা অনেক বেশী ফলপ্রসূ হয়ে থাকে।

প্রচলিত ধারণা- ২ ‘ঐক্যমতে ভালো সিদ্ধান্ত তৈরি হয়’

একজন হয়তো খুব ভাল একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যা তার মতে সর্বোত্তম, কিন্তু একক সিদ্ধান্ত দলগত কর্মের ক্ষেত্রে সবসময়ে কার্যকরী নাও হতে পারে কেননা তা ঐক্যমতহীন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। একরোখা উপায়ের চেয়ে দলগত ঐক্যমতে নেয়া সিদ্ধান্ত একটি দলগত কর্মে শ্রেয় ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে সক্ষম। এক সিদ্ধান্তের মাঝে কোন বৈচিত্র্য থাকে না তাই এটি কার্যকরীতার দিক থেকে পিছিয়ে পরে। সুতরাং ভালো কর্মোৎপাদনের জন্যে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কোন তুলনা হয় না।

দলকে সঠিক নেতৃত্ব দিতে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিম্নের ছয়টি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পারেন।

পুরনো সিদ্ধান্ত কখনই ভুলবেন না

আমাদের জীবনে এমন অনেক সমস্যাই আসে যা ইতিপূর্বে হয়তো আরও ঘটেছে। সেক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সমাধানের পদ্ধতিকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আবার আগেরবার সমাধান হয় নি দেখে যে একই পথে এবারো হবেনা এমনটা ভাবাও ঠিক নয়। যদি একই ধরণের সমস্যাই থেকে যায় কিন্তু মাত্রায় পরিবর্তন এসে থাকে তাহলে পূর্ববর্তী চিন্তার সাথে আরো নতুন ভাবনাধারার সংযোজন ঘটিয়ে কর্ম সম্পাদন করা যেতে পারে।

২। ধীরস্থিরভাবে অগ্রসর হউন

যে কোন কঠিন ও জটিল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সিদ্ধান্ত পেতে তাড়াহুড়ো করলে সিদ্ধান্তে বাধা চলে আসে। সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশ্নের আবির্ভাব হয়, আর সেগুলোর উত্তর খুব ভেবে চিন্তে বের করতে হয়।

অনেক সময় দেখা যায় সময়ের স্বল্পতা থাকে, তাতে করে খুব দ্রুত ভেবে ফেলতে হয়। কিন্তু তাই বলে কোনো চিন্তা-ভাবনা না করেই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ নয়। স্বল্প সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে চিন্তা করে তবেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

৩। অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন

যার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বা একই পরিস্থিতিতে পরেছেন এমন কারো সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। আপনার নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিক কিনা তা যাচাই করতে একজন ভাল বন্ধুর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বেশি সহায়তা করবে।

মন দিয়ে শুনুন

সবার মতামত মনোযোগের সাথে শুনুন। কোনো কিছুকে না এড়িয়ে বরং ভাবুন। নিজেকে প্রশ্নের সম্মুখীন করুন। মনে আসা সকল প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করুন। এ সময় অন্যের মতামতও ভাল করে শুনুন। এভাবে সবকিছু মাথায় রেখে গভীরভাবে চিন্তা করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন।

অতিরিক্ত নয়, সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন

সঠিক এবং ভাল একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যার আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ করাটা জরুরী। একটি সমস্যার সকল দিক ভালভাবে জানলে তবেই সেটির সমাধান বের করা সহজ হয়। সিদ্ধান্ত নেবার জন্য তাই প্রয়োজনে সময় নিন। ভালভাবে জানুন কেন কিছু হচ্ছে এবং কিভাবে হচ্ছে। সঠিক ও প্রয়োজনীয় তথ্যের খোঁজ যেকোন কাজে আপনাকে উপযুক্ত পন্থা দেখিয়ে দেবে।

নিখুঁত’ নয়, প্রয়োজন ‘পর্যাপ্ত’ মানের সিদ্ধান্ত

১০০ ভাগ ঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা আসলে কদাচিৎ দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একটি নিখুঁত সিদ্ধান্ত না নেয়া গেলেও, ভালো ও চিন্তা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া কর্ম সম্পাদনের জন্যে জরুরি হয়ে পরে।

যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত দিক বিবেচনা করা খুবই জরুরী। যে কোনো সিদ্ধান্ত সবসময় পারফেক্ট হয় না। এটি মেনে নিলে দেখবেন মনের উপর থেকে কিছুটা চাপ কমে গেছে।

অনেক কিছু জানলাম আজ। কিন্তু এগুলো সহায়ক মাত্র। এমন অনেক বিষয় আছে যার দ্বারা আপনি নিজেই নিজের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারবেন। যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্ত দিক বিবেচনা করতে হবে। এক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি অন্যান্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন।

 

সুত্রঃ https://www.success.com/article/6-ways-to-make-better-decisions