বর্তমান জীবনে অধিক ব্যস্ততায় আর সুযোগের অভাবে আমরা খুব সুস্থ জীবন যাপন করতে পারছিনা। প্রায় প্রতিটা ঘরেই এখন রোগ বালাই লেগে আছে। অল্প বয়সেই কঠিন রোগ ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধছে। বিশেষত মহিলারা চল্লিশের উপর গেলেই প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাড় ক্ষয়, অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে উঠা, হৃদরোগ ইত্যাদি রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এখন আমাদেরকে আগে থেকেই সাবধান হতে হবে এবং কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা মানতে হবে যেন একটি সুন্দর স্বাভাবিক সুস্থ জীবন আমরা কাটাতে পারি। আমাদের আজকের এই লেখাটি একটি সুন্দর সুস্থ জীবন গড়ার লক্ষ্যে লেখা হয়েছে।

১। খাবার খান দেখে শুনেঃ আমাদের দেশের খাদ্য ইদানিং অনেক বেশি ভেজাল সমৃদ্ধ। বেশিরভাগ খাবারে থাকে ভেজাল। এছাড়াও খাবার রান্নার ভুল পদ্ধতিও আমাদের অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়। তাই খাবার গ্রহনে অনেক সচেতন হতে হবে। আপনার খাবার পদ্ধতি কেমন হবে তা নিছে দিচ্ছি।

  • চেষ্টা করুন প্রচুর ফল খেতে। বর্তমানে অনেক ফলে ওষুধ দেওয়া থাকে। তাই চেষ্টা করুন একটু দাম বেশি হলেও ভাল ফল খেতে। ছাদে, বারান্দায় অথবা খালি জমিতে ফলের গাছ লাগাতে পারেন। ফলে প্রচুর ভিটামিন আর এন্টি অক্সিডেন্ট থাকে। রোগ প্রতিরোধে ফল অনেক ভাল।
  • আমরা সবাই ঝাল মশলা খাবার খেতে অভ্যস্ত। তবে এই ধরনের খাবার শরীরের জন্য ভালনা তেমন। তাই মশলা একটু কম করে খেতে চেষ্টা করুন। প্রথমে হয়ত খারাপ লাগবে। আস্তে আস্তে অভ্যাস হয়ে যাবে। লবন, তেল ইত্যাদি অধিক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • সপ্তাহে একদিন অন্তত চেষ্টা করুন মাছ মাংস খাওয়া বাদ দিতে। শুধু সবজি খাবেন। সবজি যত বেশি খাবেন তত শরীরের জন্য ভাল। সালাদ ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ুন।
  • অবশ্যই সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দিবেন না। সকালবেলা পেট ভরে নাস্তা খাবেন। চিনিজাতীয় খাবার বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। কারন আমরা যে চিনি খাই তা শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকারক। আর বাইরের ফাস্টফুড? একদম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুন। বাচ্চাদের টিফিন অবশ্যই নিজে বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবেন।
  • পানি, ফলের রস ইত্যাদি খাওয়ার চেষ্টা করুন প্রচুর পরিমানে। তবে কোমল পানীয় বাদ দিবেন।

২। ঘরের বাহিরে যানঃ বাহিরে যাওয়া বলতে ঘরের বাহিরে বের হন এবং হাঁটার কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ুন। প্রতিদিন সকাল অথবা বিকালে হাঁটতে বের হন। এতে মন হালকা হয়, শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়। সম্ভম হলে ভারী ব্যায়াম করা শুরু করতে পারেন। শরীরকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক রাখতে অবশ্যই আমাদের ব্যায়াম করা প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট ব্যায়ামও অনেক উপকারি। তাই মোবাইল কম্পিউটার, ট্যাব ইত্যাদিকে কিছু সময়ের জন্য দূরে ঠেলুন। আর বাইরের প্রকৃতির সাথে কিছু সময় কাটান। আর আপনি এগুলো করতে পারলে যা হবেঃ

  • হৃদরোগের ঝুকি কমবে।
  • হাড় ক্ষয় কম হবে।
  • স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পাবে।
  • বার্ধক্য দেরীতে আসবে।
  • পেশি শক্ত হবে।

৩। ঘুম হবে ঘুমঃ ঘুম অত্যন্ত জরুরি আমাদের শরীরের জন্য। পরিমিত ঘুম আমাদেরকে তরতাজা করে। কাজে মন বসায়। আর শরীর ভাল রাখে। রাত জাগাকে অবশ্যই বাদ দিন। কারন দিনের ঘুম রাতের ঘুমের মত কাজ করে না।

৪। চিন্তা করে কি লাভ?ঃ জীবনে যত কষ্ট কঠিন সময় আসুক, চিন্তা কম করুন। এটা মনে রাখবেন যা আপনার পাওয়ার তা আপনার কাছে আসবেই। আর যা আপনার না তা আপনি পাবেন না। আর পৃথিবীর সবাই কোন না কোনভাবে কস্টে আছে। তাই চিন্তা কম করুন। চিন্তা করলে সমাধান আসেনা। উলটো শরীর এবং মনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

৫। ভাল সঙ্গীদের সাথে থাকুনঃ জীবনে ভাল সঙ্গী অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনি তাদের সাথে থাকলে তাদের জীবন যাত্রা আপনাকে প্রভাবিত করবে এবং আপনি ভাল অনুভব করবেন। মাঝে মাঝে ঘুরতে যান তাদের সাথে। দেখবেন আপনি অনেক ভাল থাকবেন। শরীর ও মন উভয় দিক থেকেই।

৬। পরিষ্কার থাকুনঃ এই ব্যাপারটি কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত গোসল করাই শুধু না। আপনার আশপাশের সবকিছু পরিষ্কার রাখুন। আপনি যে ঘরে থাকেন কিংবা যে স্থানে আপনি কাজ করেন ওই স্থানটি পরিস্কার এবং গোছানো রাখুন। জামা কাপড়, ব্যাগ, জুতা, পানির বোতল এমনকি যে কলম বা ফোন আপনি ব্যবহার করেন সেগুলো পরিস্কার রাখুন।

তথ্যসূত্রঃ https://www.gaiam.com/blogs/discover/15-easy-ways-to-be-healthier

https://www.verywellfit.com/simple-ways-to-live-a-healthy-lifestyle-1231193