ব্যক্তিগত উন্নয়ন মানুষ মাত্রই আকাঙ্ক্ষা করে।  কিন্তু সবার ইচ্ছা যেমন বাস্তবতায় রূপ নেয় না তেমনি আবার অনেকেই কিছুটা কৌশলী মনোভাবের কারণে খুব সহজেই নিজের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়। আর তাদের কাছে এই কৌশলটি হলো ব্যক্তিগত  উন্নয়ন পরিকল্পনা।

বিষয়টি ভারিক্কি ধরনের কিছু নয় কিংবা এমন নয় যে কারো পক্ষে এমন ধরনের পরিকল্পনা করা অসম্ভব।  আমি বলবো, আমরা সবাই প্রতিনিয়ত শতকোটি পরিকল্পনা করে যাচ্ছি কোনটি বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, আবার কোনটি নিচ্ছে না, কোন সমস্যা নেই- আবার নতুন করে পরিকল্পনা, পরিকল্পনার যাচাই বাছাই করণ … এভাবেই চলছে।

ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও এই ধরনের কিছু পরিকল্পনা সমষ্টি যা আপনাকে সুন্দরভাবে আপনার গন্তব্যে পৌঁছে দেবে । আমি এখানে যে কৌশল গুলো নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি  আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনার কাজটা কিভাবে করলে  দূরদর্শী ও বাস্তবসম্মত হতে পারে সে সম্বন্ধে ধারণা দিবে।

 

আপনার গন্তব্য স্থির  করুন

ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনার সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হল একটি সুনির্দিষ্ট  লক্ষ্য স্থির করা।  নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির না করলে কোনভাবেই আপনি এই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন না। এইজন্যই সর্বাগ্রে স্থির করুন, আপনি ঠিক কোন জায়গায় পৌঁছতে চান । এরপরে আপনি এই লক্ষ্য অর্জনের বিভিন্ন ধাপ গুলো কে চিহ্নিত করুন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজগুলোকে লিপিবদ্ধ করুন।

 

আপনার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করুন

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থিরীকরণ’ এর পরবর্তী ধাপ ই হল – আপনার বর্তমান অবস্থাকে পর্যালোচনা করা। আপনার কোন ধরনের দক্ষতা অথবা যোগ্যতা আছে যা  আপনাকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে। এর সাথে সাথে চিন্তা করুন আপনার লক্ষ্য অর্জনের জন্য আপনার মধ্যে কোন কোন ধরনের দক্ষতার সমাবেশ ঘটাতে হবে। আপনার মধ্যে যে ধরনের দক্ষতাগুলো অর্জনের প্রয়োজনীয়তা আছে সেগুলোর প্রতি মনোযোগী হন।

 

আপনার সময়কে বিভক্ত করুন

আপনার বর্তমান অবস্থান  থেকে আপনার গন্তব্যে যাওয়ার সময়  নির্ধারণ করুন। এর ফলে আপনি হিসাব করতে পারবেন আপনার হাতে কতটুকু সময় আছে যার মধ্যে আপনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে, আর এজন্যই আপনি সুনির্দিষ্টভাবে আপনার সময়কে বিভক্ত করবেন  যাতে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।  সর্বোপরি এর ফলে আপনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতা  অর্জন করতে পারবেন।

 

সবসময় একটি ব্যাকআপ পরিকল্পনা রাখবেন

স্থান-কাল ভেদে অনেকসময়   পরিকল্পিত অনেক কাজ সুচারুভাবে সম্পাদন করা সম্ভবপর হয় না। বিভিন্ন কারণে আপনার অনেক আগেই স্থিরকৃত কাজটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে বাধা প্রাপ্ত হতে পারে।   এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় বরং  কিছুটা স্বাভাবিক।  ঠিক এই কারনেই আপনার পরিকল্পনার মধ্যে সবসময়ই একটি ব্যাকআপ পরিকল্পনা রাখবেন যা আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অসম্পাদিত কাজটিকে সম্পাদন করতে সাহায্য করবে।

 

মাইলফলক তৈরি করুন

আপনার সামগ্রিক লক্ষ্য অর্জনের মধ্যবর্তী অর্জনগুলোকে এক একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেন। এর ফলে একটি মাইলফলকে অর্জিত সাফল্য আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে পরবর্তী মাইলফলকের দিকে ধাবিত হতে। অথবা কোন কারনে একটি মাইলফলকে   কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত না হলে, আপনি অতি সহজেই আবার চেষ্টা চালাতে পারবেন।

 

পরিকল্পনা বিভক্ত করুন

এবার আপনার পুরো পরিকল্পনাটিকে ছোট ছোট খণ্ডে বিভক্ত করুন,  সাপ্তাহিক অথবা পাক্ষিক অথবা মাসিক।  এর ফলে আপনি নিজেকে যাচাই করার সুযোগ পাবেন।  নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপনি যে পরিকল্পনাগুলো করেছিলেন, সেগুলো কি আপনি অর্জন করতে পেরেছেন ?  অথবা মোট পরিকল্পনার কত অংশ আপনি বাস্তবে রূপ দিতে পেরেছেন ?

এভাবেই বিভক্তিকরনের মাধ্যমে আপনি আপনার দক্ষতার সীমারেখাকে যাচাই করার পাশাপাশি কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আপনি আরো উৎপাদনক্ষম হবেন, তা  নির্ধারণ করতে পারবেন।

 

প্রকৃতপক্ষে, একটি ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনা হল জীবনযাত্রার প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত পর্যালোচনা করা যা কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞানের উন্নতির মাধ্যমে লক্ষ্য বাস্তবায়নের সুবিধা দেয়। ব্যক্তিগত উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন পর্যায়ে যাওয়ার মাধ্যমে, আপনি বহু মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবেন।

এই অন্তর্দৃষ্টি আপনি যে ধরনের জীবন যাপন করতে চান তার ওপর আরো স্পষ্টতা এবং আস্থা প্রদানের জন্য কাজ করবে এবং একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য অর্জনে আপনি যে গুণাবলী এবং দক্ষতা অর্জন করতে চান সেগুলো অর্জনের মাধ্যমে আপনাকে করবে সু-সজ্জিত।

 

https://www.topuniversities.com/blog/why-you-need-make-personal-development-plan

https://www.skillsyouneed.com/ps/personal-development.html