ছোটবেলা থেকেই মানুষের স্বপ্ন থাকে বড় হয়ে সে কি করবে। কেউ শিক্ষক কেউ ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউ ব্যাংকার কেউ বা বিদেশ যাবে। আর এই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ আসে আমাদের এইচ এস সি পরীক্ষার পর। আর এই সময়টা বলতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারন এই সময়টাতেই কারও স্বপ্ন পুরন হয়, আর কারও ভাঙ্গে।

আমরা আজকে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু টিপস দেওয়ার চেষ্টা করব। এই ভর্তির আগের ৩ মাস  একজন ছাত্রকে তার বিগত ১২ বছরের শিক্ষা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে এই যুদ্ধে নামতে হয়। সাধারন পরীক্ষার মত এখানে শুধু পড়লেই হয় না। কিছু দক্ষতা এবং বিশেষ কৌশল জানা লাগে।

এখানে বেশ কিছু টিপস দেয়া হল বিগত বছরের বেশ কয়েকজন এর অভিজ্ঞতার আলোকে।

বেসিক খুব ভালভাবে গড়ুন [ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ]

ভর্তি পরীক্ষাতে ভাল করতে গেলে অবশ্যই একজন ছাত্রের ভিত্তি খুব ভাল হতে হবে। যদি সে বিজ্ঞান বিভাগের হয় তবে তাকে অবশ্যই পদার্থের মৌলিক সূত্রগুল খুব ভালভাবে বুঝতে হবে আবার তাকে রসায়ন এর গুরুত্বপূর্ণ বিক্রিয়া, মৌলের বৈশিষ্ট্য  ইত্যাদির উপর খুব ভাল দক্ষতা থাকা লাগবে।

formula quizbangla.com/study

আবার কেউ কমার্স নিয়ে পড়লে তাকে অবশ্যই তার মৌলিক বিষয়গুলোর উপর বেশ ভাল দখল থাকা লাগবে। ডেবিট ক্রেডিট ,মার্কেটিং ইত্যাদি নিয়ে তার স্বচ্ছ ধারনা থাকা লাগবে।

 

আর্টস এর ছাত্রদেরও তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয় খুব ভাল ভাবে পড়তে হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হবে আমাদেরকে একদম শুরু থেকে, ৯ম থেকে ১২ তম শ্রেণীতে যা পড়ানো হবে তার উপর ভাল দখল থাকা লাগবে। তাহলেই ভর্তি পরীক্ষাতে ভাল ফল করা সম্ভব।

বিগত বছরের প্রশ্ন পড়ুন

যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় বিগত বছরের প্রশ্ন থেকে অনেক কিছু কমন আসে। ভর্তি পরীক্ষাতেও এমন আসে। এজন্য যেই বিষয়ে পড়তে চান সেই বিষয়ের উপর প্রশ্নব্যাঙ্ক খুব ভালভাবে পড়তে হবে। মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকাquizbangla.com study বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নব্যাঙ্ক পাওয়া যায়। সেগুল সংগ্রহ করে মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতে হবে সেগুলার ওপরে।

নিয়মিত খবরের কাগজ পড়ুন

ভর্তি পরীক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ সাধারন জ্ঞান। প্রায় প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষাতেই সাধারন জ্ঞান থেকে বেশ কিছু প্রশ্ন আসে। আর কিছু প্রশ্ন আসে সাম্প্রতিক বিষয়ের উপর। এজন্য নিয়মিত খবরের কাগজ থেকে শুরু করে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স পড়তে হবে। সাম্প্রতিক বিষয়ের উপর নজর রাখতে হবে। একটু বাইরের বই পড়তে হবে। তাহলে সাধারন জ্ঞানে ভাল নাম্বার পাওয়া যাবে বলে আশা রাখা যায়। এছাড়া বাংলাদেশ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ অংশটি থেকে খুব ভাল জ্ঞান থাকা লাগবে।

মূল বই পড়ুন

যেকোনো বিষয়ের মূল বই পড়ুন। মূল বই টা খুব ভালভাবে পড়তে হবে। অন্য বই পড়তে হবে তবে কোন অবস্থাতেই মূল বই বাদ দেওয়া যাবেনা। কারন মূল বই পড়লে ভিত্তি টা পরিষ্কার হবে এবং সকল প্রশ্ন মূলত মূল বই থেকেই আসে।মনে রাখতে হবে পরিশ্রম ছাড়া কোন অবস্থাতেই সফলতা আসেনা। তাই পরিশ্রম করতে হবে। আর নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে। কোন অবস্থাতেই ভেঙ্গে পড়া যাবেনা।

ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ান

ইংরেজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য। ইংরেজির জন্য শুরু থেকেই ভাল ধারনা থাকা লাগবে। গ্রামার এর প্রতিটা অংশ যেমন transformation, narration, completing sentence, voice, right form of verbs এগুলার উপর বেসিক খুব ভাল থাকা লাগবে। বেশি বেশি করে অনুশীলন করতে হবে। Vocabulary বাড়াতে হবে। কারন এখান থেকেও প্রশ্ন আসে।

রোজ চর্চা করুন

প্রকৌশলী এর ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে গনিত থেকে অনেক ছোট ছোট প্রশ্ন আসে, এজন্য রোজ অনশিলন করুন সেগুলো। বিগত বছর থেকে শুরু করে মূল বই এর অঙ্ক খুব ভালভাবে দেখতে হবে। সাথে সময়টাও খেয়াল রাখা লাগবে। এছাড়াও নিজে নিজে মডেল টেস্ট এর মত পরীক্ষা দিলে অনেকটা উপকার পাওয়া যাবে।

ভর্তি পরীক্ষাতে সবাই সফল হয়না। কারন পর্যাপ্ত আসন আমাদের নেই। তারপর ও সবাই চাই একটি ভাল প্রতিষ্ঠানে পড়তে। তাই কোথাও সুযোগ না পেলেও ভেঙ্গে না পড়ে যেই সুযোগ পাওয়া যাবে সেটার সঠিক ব্যবহার করতে পারলে জীবনে সফলতা আসবেই। সঠিক বিচার বুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে জীবনে সফলতা আসবে। সবার সফলতা কামনা রইবে আমাদের পক্ষ থেকে।