স্নাতক ডিগ্রী যে বিষয়েই হোক না কেন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রী হিসেবে অনেকেই এমবিএ করতে চান। বর্তমানের প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরীর বাজারে এমবিএ ডিগ্রীধারীদের চাহিদা অনেক বেশি। দেশীয়, ব্যাংক, বহুজাতিক অথবা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ চাকরির নিয়োগে পূর্বশর্তই থাকে এমবিএ। আসুন জেনে নেয়া যাক বর্তমান চাকরির বাজারের চাহিদা, গ্রহণযোগ্যতা, পাঠদানের মান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ৫টি এমবিএ প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিবরণ।

 

১. ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট-এ অধ্যয়ন করা অনেকেরই স্বপ্ন। প্রতিবছর খুব সীমিত সংখ্যক আসনের জন্য হাজারো পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও হাতেগোনা কিছু তুখোড় মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর এখানে অধ্যয়নের সুযোগ হয়। চাকরির বাজারে আকাশচুম্বী চাহিদা দেখেই আইবিএ এমবিএর মান সহজেই অনুধাবন করা যায়। বছরে একাধিকবার এমবিএ ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়ে থাকে। নিয়মিত ব্যাচের পাশাপাশি চাকরিজীবীদের জন্যও এক্সিকিউটিভ এমবিএ করার সুযোগ রয়েছে। এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য যেকোনো বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশনের পাশাপাশি দরকার তিন বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা।

 

২. ব্যবসা শিক্ষা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের এমবিএ নি:সন্দেহে দ্বিতীয় স্থানের দাবিদার। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে পারা অনেকের কাছেই পরম সৌভাগ্যের বিষয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বিবিএ সম্পন্ন করেছেন তারা সরাসরি এমবিএ কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। যারা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসেছেন, তাদের জন্য এই অনুষদের অধীনে সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রাম (ইএমবিএ) চালু করা হয়েছে। সাধারণত মোট ৮টি বিভাগে ৭০ জন হিসেবে প্রতি ব্যাচে ৫৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে থাকে। এখানেও ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীকে যোগ্যতার প্রমাণ করতে হয়।

 

৩. নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যবসায় প্রশাসন শিক্ষার জন্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় সুপরিচিত। মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি দক্ষ, যোগ্যতাসম্পন্ন ও উত্তর আমেরিকা হতে ডিগ্রী সম্পন্ন করা শিক্ষক, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, গবেষণার যথাযোগ্য পরিবেশ, সমৃদ্ধ পাঠাগার, ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম এবং শিক্ষা-সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলে ইতোমধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। উত্তর আমেরিকার শিক্ষা নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয় বলে এখানে সব কোর্স ওপেন ক্রেডিটে নেয়া হয়। (কোর্স সম্পন্ন করার ধারা ও একেকটি কোর্সের সময়সীমা শিক্ষার্থীরা নিজেরাই নির্ধারণ করে থাকে)। উত্তর আমেরিকার গ্রেডিং সিস্টেমের কারণে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ প্রোগ্রামের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। রেগুলার এমবিএতে স্নাতক শেষ করে যে কেউ পরীক্ষা দিয়ে এখানে ভর্তি হতে পারে। এক্সিকিউটিভ এমবিএ করতে হলে নূন্যতম তিন বছরের ব্যাচেলর ও পাঁচ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

৪. ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়

সম্প্রতি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের যৌথ উদ্যোগে করা র‍্যাংকিং এ প্রথম হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় উন্নত শিক্ষার মান বজায় রেখে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ দ্বারা পরিচালিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের হার এবং কর্মজীবনে সাফল্যও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় লক্ষণীয়। সকল পরীক্ষায় শতকরা ৫০ ভাগ নম্বর বা ২.৫০ সিজিপিএ থাকলেই কেউ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ পাবে। ইএমবিএ প্রোগ্রামেও একই যোগ্যতা প্রযোজ্য; এ ক্ষেত্রে কমপক্ষে চার বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

 

৫. ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের অন্যতম সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটে (আইবিএ) ৬০ ক্রেডিটের এমবিএ ডিগ্রির জন্য ভর্তি হওয়া যায়। এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করতে নুন্যতম দুই বছর সময় প্রয়োজন। এখানে বর্তমানে সপ্তাহান্তিক এমবিএ বা Weekend MBA করার সুযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র শুক্রবারে ক্লাস হওয়ায় অনেক চাকরিজীবী এবং গৃহিণীরা Weekend MBA – এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এছাড়াও, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকেও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করা যায়। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে এমবিএ করতে হলে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। এছাড়া এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের কোনো ক্ষেত্রেই জিপিএ ২.৫ এর কম থাকা যাবে না।

 

এই আর্টিকেলটিতে গবেষণালব্ধ র‍্যাংক অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে উল্লেখ করা হয়নি। আপনার মতামতের পার্থক্য থাকলে মন্তব্য করতে ভুলবেন না।