জগৎ সংসারে দু একজন বন্ধু নেই – এমন লোক খুঁজে পাওয়া অতি দুষ্কর। একজন ভালো বন্ধু অনেক সময় আপনজনের সীমারেখা ও অতিক্রম করে যায়। তাই বলে বন্ধু বলতে ই ভালো – তা কিন্তু নয়। জীবন চলার পথে পারিবারিক জীবনের বাইরে প্রত্যেক ব্যক্তির ই একটা পরিচিত বলয় গড়ে উঠে, আর তাদের মধ্য দিয়ে ই এক বা একাধিক জনের সাথে ভালো লাগার তাগিদে অথবা এক সাথে ওঠা বসার কারণে অথবা অভ্যাসের মিল থাকার কারণে সম্পর্কটা আর একটু গভীর হয়ে বন্ধুত্বের দিকে যায়। আর এভাবে ই শুরু হয় একে অপরের দ্বারা প্রাভাবিত হওয়ার পালা।

একজন মানুষের চিন্তা ভাবনা সবসময় ই তার পরিবেশ ও সঙ্গের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। মুক্তমনের মানুষ তার বন্ধুকে সহজ, সরল ও স্বাভাবিক হতে ই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করবে। বিপরীতে সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার অধিকারী ব্যক্তি তার সঙ্গীর জগতটাকেও অনেক ছোট করে ফেলে।

ব্যক্তির সার্বজনীন উন্নতির পেছনে তার চারপাশের মানুষগুলোর উন্নত চিন্তাধারা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। “উন্নতি” এই শব্দটার অর্থ একেকজনের কাছে একেক রকম মানে হতে পারে, ঠিক তেমনি “আপনার ভালো অবস্থান” এই কথাটার মানেও ভিন্ন মানুষদের কাছে ভিন্ন রকম হতে পারে।

আজকাল কেউ যখন ভালো কিছু করতে যায় সেটা নিয়ে হাসিঠাট্টা করা কিংবা ভুল বের করা নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়।  কোনকিছুর সমালোচনা করা মানুষের অভ্যাস হয়ে দাড়িঁয়েছে। বর্তমান সংস্কৃতি ই টা ই এমন যে, সবকিছুতেই নেতিবাচক মনোভাব ধারণ ও লালন করাটাই শিল্প। আর এই চিন্তাধারার অনুসারীরা বেশির ভাগ সময়ই হতাশাগ্রস্থ থাকে।

এরা কারও ভালো দিকগুলোকে প্রস্ফুটিত হতে তো দেয় ই না বরং বিরুপ মন্তব্য করে কিংবা খারাপ দিকগুলোকে বের করে এনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কাজে সচেষ্ট থকে।

ব্যক্তি জীবনে বন্ধুর প্রয়োজন যেমন বেশি, এর প্রভাব টা তার চেয়ে ও বেশি। একজন ভালো বন্ধু জীবনে অনেক সম্ভাবনার পথগুলোকে দেখিয়ে দিতে পারে এবং সেগুলোকে বাস্তবে রুপ দিতে আলোক বর্তিকা  হিসেবে ও কাজ করতে পারে। এর বিপরীতে একজন খারাপ বন্ধু হতে পারে জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিকগুলোর জন্য দায়ী।

আর এজন্য ই বন্ধু নির্বাচনের সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। এমন সঙ্গ থাকা উচিত নয় যে ভালো গুনগুলোকে নষ্ট করে উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বন্ধু নির্বাচন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, যাকে নিয়ে ভাবছেন অথবা যার সাথে পরিচিত হয়েছেন তিনি কি নিজের মধ্যে ভালো কিছু ধারণ করেন – যা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কিংবা প্রশংসনীয়।  কেননা, একজন ভালো বন্ধু আপনার সৃজনশীলতাকে আবিষ্কার করে আপনার মধ্যে আত্মবিশ্বাসী মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, আপনার দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আরও অনুপ্রাণিত করবে।

আপনি যদি কৌতূহলী হন, তারা আপনাকে বিশ্বের প্রতি নতুন মনোভাব আনতে সাহায্য করবে। আপনি যদি রোমাঞ্চের পেছনে ছুটতে ভালোবাসেন, তারা আপনাকে না থামিয়ে সেটার প্রতি আরও আগ্রহ দেখাবে।

প্রতিনিয়ত খবরের কাগজে বা টেলিভিশনে আমরা নেতিবাচক সব জিনিস দেখে অভ্যস্ত। যত দ্রুত নতুন কোন চাল-চলন অথবা নতুন কোন কিছু আমাদের সমাজে আসে, তার চেয়ে বেশি দ্রুত সমালোচকরা এই জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনার দিকে ধাবিত হয়। আপনার বন্ধুবেশী মানুষগুলো এই সমালোচকদের অন্তর্ভুক্ত হলে, তাদেরকে পরিহার করে চলার পথ কন্টকমুক্ত করাটা অতীব জরুরী।

আমরা প্রায় ই সামাজিক দায়বদ্ধতা অথবা গ্রহণযোগ্য কোন কারণে নিজ পছন্দের বাইরের মানুষদের  সান্নিধ্যে সময় কাটাতে হয়। এসব ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রেখে কাজটি সমাধান করাই শ্রেয়। শুধু মনে রাখে হবে, সম্পর্কের সীমারেখা। পরিচিত সবাই বন্ধু নয় – সহকর্মী, সহপাঠী , সহযাত্রী এরা ও তো আছে।

আবার বন্ধুর ও তো শ্রেণিবিন্যাস আছে – কার ও সাথে হাই হ্যালো, কার ও সাথে রেষ্টুরেন্টের চায়ের টেবিল পর্যন্ত সীমারেখা। আর এদের মধ্য থেকেই সবচেয়ে ভালো যে বন্ধুটি সে তো দরজায় এসে কড়া নাড়বে। বলাবাহুল্য, দরজায় কড়া নাড়া বন্ধুটি হতে হবে সবচেয়ে পরীক্ষিত।