।। সময়ের একফোঁড়, অসময়ের দশফোঁড় ।।

ছোট্ট এই কথাটি ই সময়ের সদ্ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট । সময়ের সুষম বন্টন ও সঠিক ব্যবহার ই নিশ্চিত করতে পারে সাফল্য । কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সময়ের উপযুক্ত ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই । বিশেষ করে ছাত্রজীবনের প্রতিটি মূহুর্ত কাজে লাগানোর মাধ্যমে যে কেউ সাফল্যের দরজায় কড়া নাড়তে পারে ।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্যি যে, ছাত্রজীবনে সময়জ্ঞানের অভাবে অথবা সময়ের সাথে তাল রাখতে না পেরে জীবন দৌড়ে অনেকে পিছিয়ে থাকে অথচ সময়ের কাজ সময়ে করার মাধ্যমে একজন ছাত্র অনায়াসেই বিজিতের স্থানটি নিশ্চিত করতে পারে।

অনেক ছাত্র ই আছে যারা দৈনন্দিন ছাত্রসুলভ কাজে সময় দিতে গিয়ে মূল দায়িত্ব পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থবহ সময় বের করতে পারে না । আমাদের পরবর্তী আলোচনায় আমরা সময়ের সুষম বন্টন কীভাবে করা যায় – তা জানার চেষ্টা করবো ।

 

কার্যকরী সময় চিহ্নিতকরণ ও বরাদ্দকরণঃ

দৈনন্দিন অবশ্যকরণীয় কাজগুলো সম্পন্ন করার জন্য সময় রেখে পড়াশোনার জন্য প্রথমতঃ সর্বোচ্চ এবং পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করতে হবে এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে ।

quizbangla.com

 

এক্ষেত্রে সময়ের প্রেক্ষিতে সংগত আউটপুটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে । সুস্থ মস্তিষ্ক ও গভীর মনোনিবেশ কার্যকরী পড়াশোনার জন্য একমাত্র এবং অদ্বিতীয় শর্ত। আর এ জন্য ই সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল সময় কে চিহ্নিত করতে হবে যাতে অধ্যয়ণে প্রফুল্লচিত্তে মনোনিবেশ করা যায়।

 

নির্দিষ্ট রুটিন তৈরিকরণঃ

প্রতিদিনের পড়াশোনার জন্য একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করতে হবে এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিষয়গুলোকে সময়োপযোগীতার হিসেবে তালিকাভুক্তquizbangla.com করতে হবে অর্থাৎ দিনের যে সময়টিতে মস্তিষ্ক যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে পারে তার ভিত্তিতে ই রুটিনটি সাজানো উচিত ।  প্রয়োজনে সময়ের প্রেক্ষিতে আউটপুটের বিষয়টি মাথায় রেখে রুটিনে পরিবর্তন, পরিবর্ধন কিংবা পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে ।

 

প্রয়োজন অনুধাবন করাঃ

বিষয়ভিত্তিক গুরুত্ব কিংবা দুর্বলতার  ভিত্তিতে এবং ধারণক্ষমতা বিবেচনায় এনে ঠিক কতোটুকু সময় অধ্যয়ণের জন্য প্রয়োজন, তা অনুধাবন ও নির্ধারণ করা অতীব জরুরী বিষয় । মোটকথা, প্রয়োজন সাপেক্ষে সময় নির্ধারণ করতে হবে । এক্ষেত্রে কাউকে অনুকরণ করা নয় বরং নিজের চাহিদা কিংবা দুর্বলতাকে গুরুত্ব দিয়ে সবকিছু নির্ধারণ করা উচিত ।

 

অবসর সময় বের করাঃ

নিত্যদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে ও অনেক অলস সময় চিহ্নিত করা যায়, যে সময়কে মূলতঃ কোন কাজে লাগানো হয় না । সূক্ষ্ন বিচক্ষণতাবোধ কাজে লাগিয়ে এই ধরণের অবসর সময় খুঁজে বের করতে হবে এবং সময়ের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করতে হবে ।

 

সময়ের কাজ সময়ে সম্পাদনঃ

অলসতাবশতঃ আজকের কাজ আগামীকালের জন্য রেখে দেওয়াটা নিছক বোকামী ছাড়া আর কিছু ই নয় । অনেকসময় এই ধরণের অসম্পন্ন কাজ আর করা হয়ে উঠে না । ছাত্রজীবনে এই ধরণের অলসতা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে । পড়ার সময় পড়া আর খেলার সময় খেলা – এই নীতিটি মেনে চললে সহজে ই এ ধরণের বিপত্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় ।

quizbangla.com

সময়ক্ষেপণকারী বদঅভ্যাস পরিহারঃ

মানুষ অভ্যাসের দাস । তাই ছাত্রজীবন থেকে ই এমন কোন বদভ্যাস করা উচিত নয়, যা জীবন থেকে অনেক মূল্যবান সময় কেড়ে নেয় । প্রতিটি সময়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে উচিত । অসাবধানতাবশতঃ বা অজ্ঞতাবশতঃ যদি কালক্ষেপনকরী কোন বদভ্যাস গড়ে ও ওঠে, তা চিহ্নিত করতে হবে এবং অবশ্যই পরিহার করে  সময়ের যৌক্তিক ও অর্থবহ ব্যবহারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে হবে ।

পরিশেষে চিরসত্য বাক্যটি একবার স্মরণ করা যেতে পারে, সময় ও স্রোত কার ও জন্য অপেক্ষা করে না । ছাত্রজীবনের সূচনালগ্ন থেকে যে সময়কে মূল্যায়ণ করবে, সাফল্য তার জন্য ই । যে শিক্ষার্থী সময়ের সঠিক ব্যবহার ও সূষম বন্টন করতে পারবে, অবশ্যই সে লেখা পড়ায় ভাল করবে, সর্বোপরী জীবনে যশ, মান ও খ্যাতি তার কাছে ই ধরা দিবে ।

তথ্যসূত্রঃ http://www.camdencc.edu/advisement/successtopics.cfm