পড়াশুনা করতে ভালো লাগে- এই কথা বলেন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল| সত্য কথা হল, পড়াশুনা করতে কারোরই ভালো লাগে না| এমনকি আপনার ক্লাসের সেই ফার্স্ট বই যে কিনা পড়তে পড়তে চোখের মাথা খেয়েছে, তারও একদম ভালো লাগেনা পড়াশুনা করতে| কিন্তু কি আর করার বলুন? কথায় আছে, “পড়ালেখা করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে!” তা মশাই আপনি গাড়ি-ঘোড়াতেই চড়তে চান অথবা মানুষের মতো মানুষ হতে, পড়াশুনা তো করতেই হবে| আর যেহেতু পড়াশুনা করতেই হবে, সেহেতু আসুন সময় থাকতেই ভালো মানুষের মতো জেনে নেয়া যাক কিভাবে পড়াশুনায় নিজেকে আরো বেশি উৎসাহী এবং তার চেয়েও বেশি মনোযোগী করবেন|

 

১. পড়াশুনার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলুন

একটি সুশৃঙ্খল, সাজানো-গোছানো পরিবেশ শুধুমাত্র পড়াশুনায় আপনাকে উৎসাহী করবেনা, আপনার সাফল্যকেও প্রভাবিত করবে| গবেষণায় দেখা গেছে যে, পারিপার্শিক পরিবেশে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অগ্রগতিতে ২৫% বেশি প্রভাব ফেলতে পারে (তথ্যসূত্র- ১)| তাই, খেয়াল রাখুন আপনার পড়ার রুমে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা আছে কিনা| যে চেয়ার-টেবিলে দীর্ঘক্ষণ ধরে বসে পড়াশুনা করছেন সেটা আরামদায়ক এবং সাস্থসম্মত ভাবে ডিজাইন করা তো? এছাড়াও নিশ্চিত করুন আপনার স্টাডিরুম কোলাহল মুক্ত|

 

২. ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করুন

ইতিবাচকতা একটি সক্রিয় এবং সহায়ক শিক্ষা পরিবেশের মূল ভিত্তি। ইতিবাচক মনোভাব এবং পদক্ষেপগুলি একটি সুখময় শিক্ষা অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে, সমস্যা-সমাধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে, ভাল কর্মক্ষমতা ও উন্নত সামাজিক পরিবেশের দিকে পরিচালিত করে, এবং প্রতিটি ছাত্রকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সহায়তা করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, ইতিবাচক মনোভাব শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়াকে খুব একটা প্রভাবিত না করলেও, নেতিবাচক মনোভাব সক্রিয়ভাবে শিক্ষাগ্রহণ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে (তথ্যসূত্র-২)| তাই, মন থেকে বিশ্বাস রাখুন যে আপনি পারবেন| আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ়কণ্ঠে বলুন, “আমি পারবোই”|

 

৩. বোরিংপড়াগুলোকে মজার এবং কঠিন পড়াগুলোকে সহজ করে তুলুন

নিরস কোনো বিষয়েই আমরা শেখার আগ্রহ খুঁজে পাইনা| আবার কঠিন পড়াগুলোকে ভয় লাগে বলে আমরা স্বভাবজাতভাবেই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি| এতে করে লাভ তো কিছু হয়ই না, বরং যেটা হয় তা হলো – পড়তে বসা হয় না| আর তাই, মজার পড়াগুলোও পড়ে দেখার সুযোগ হয়না| এভাবে পড়াশুনায় পিছিয়ে যেতে থাকি সবাই| কাজেই, একটু বুদ্ধি করে বোরিং এবং কঠিন পড়াগুলো শেষ করে ফেলতে হবে, ফেলে রাখলে চলবে না| বোরিং পড়াগুলোকে মজার কিভাবে করবেন তা জানতে পড়তে পারেন এই আর্টিকেলটি | আর কঠিন পড়া গুলো সহজ করতে বড় ভাই-বোন, ক্লাসের সবচেয়ে ট্যালেন্টেড বন্ধুটির অথবা শিক্ষকদের সহায়তা নিতে পারেন| এরপরেও যদি এমন কোনো কঠিন পড়া থেকেই যায়, যা কোনোভাবেই আর সহজ বানানো গেলো না, তখন সেটা মুখস্ত  করে ফেলাই শ্রেয়|

 

৪. ছোট ছোট করে, গ্যাপ দিয়ে পড়ুন

একটানা পড়তে থাকলে পরে মনোযোগ দেয়া আসলেই কঠিন| কাজেই, পড়াগুলো কে ছোট ছোট ভাবে ভাগ করে নিন| প্রতিটি ভাগের জন্য সময় নির্ধারণ করুন| একটি কাগজে নির্ধারিত সময় গুলো লিখে রাখুন| সময় অনুযায়ী পড়াশুনা শেষ করতে পারার মাঝে কিন্তু পরীক্ষায় কতটা ভাল ফলাফল করবেন তা নির্ধারণ করে| একটা পড়া শেষ করে একাধিকবার রিভিশন দিলেই সেই পড়াটা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়| শুধুমাত্র রিভিশন না দেয়ার কারণে, আমরা অনেক সময়েই পড়া জিনিসটাই পরীক্ষার খাতায় ঠিকঠাক লিখে আসতে পারিনা| তাই, পড়াশুনা কে পরিমিত ও অর্জনীয়ভাবে সাজিয়ে, তাকে সাধনযোগ্য সময়ের পরিসরে আনতে পারাটাও কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না| পড়াশুনার ক্ষেত্রে সময়-ব্যবস্থাপনা কিভাবে করবেন টা পূর্ণাঙ্গভাবে জানতে এই  আর্টিকেলটি পড়ে ফেলুন|

 

৫. পুরস্কার নির্ধারণ করুন

পড়াশুনার যে ছোট ছোট লক্ষ্য গুলো পরিকল্পনা করেছেন, তার সমষ্টিগত অর্জনের পর নিজেকে কিভাবে পুরস্কৃত করবেন তা আগেভাগেই ভেবে রাখুন| যেমন ধরুন, আপনি প্রতিদিন রাত ৯টায় একটি টেলিভশন প্রোগ্রাম দেখেন| সেই টেলিভশন প্রোগ্রাম না দেখলে আপনার চলেই না| তাহলে সেই টেলিভশন প্রোগ্রামটিকেই নিজের পুরস্কার হিসেবে নির্ধারণ করতে পারেন| পড়াশুনার পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হলেই শুধুমাত্র টেলিভশন প্রোগ্রামটি দেখুন| পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে টেলিভশন প্রোগ্রামটি দেখা থেকে বিরত থাকুন| মনে রাখবেন, আপনার ইচ্ছাশক্তিই আপনাকে আপনার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে|

 

পড়াশুনায় আরো উৎসাহী এবং মনোযোগী হবার জন্য এই উপায় গুলো অনুসরণ করে কোনো উপকার পেয়েছেন কি? এর বাইরে আপনি আর কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন পড়াশুনায় নিজেকে আরোও উৎসাহি করার জন্যে? আমাদের পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না কিন্তু!

 

সুত্র ১

সুত্র ২