ভাঙ্গা গড়া, চড়াই উৎরাই নিয়েই জীবন। সুখ যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি দুঃখও সারাজীবন ধরে থাকে না। প্রতিদিন সবার সমান যায় না। আজ হয়তো আপনার জীবনে আনন্দ বিরাজ করছে, কিন্তু কাল হয়তো আপনার জীবনে আনন্দের বদলে কান্নাও চলে আসতে পারে। কিন্তু তাই বলে কি জীবন থেমে যাবে? তাই বলে কি অন্যরা কাজ থামিয়ে দেবে। অন্যরা কেন? আপনিও আপনার কর্তব্য কর্মগুলো থেকে খুব বেশি সময়ের জন্য দূরে থাকতে পারবেন না। নেমে পড়তে হবে জীবনের আবাহনে। গা ভাসিয়ে দিতে হবে ব্যস্ততম জীবনে।

প্রতিকূলপরিস্থিতিতে মানুষ কখনো কখনো নিজেকে সামলাতে পারে না। কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে তা চিন্তা করার মত মানসিক শক্তি অর্জন করতে পারে না। আসলে মানুষ সবসময় চায় যেকোনো ধরনের ঝামেলা এড়িয়ে চলতে। একারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কি করতে হয়, কিভাবে তাকে সামাল দিতে হয় তা আগে থেকে কখনো ভাবতে চায় না। আর এটিই পরবর্তিতে তার জন্য আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করে।

কেউ একজন হয়তো বহু চেষ্টা করেও কোনো চাকরি পাচ্ছেন না। এদিকে তার পরিবারেচলছে আর্থিক অনটন। মানসিক চাপে তিনি চরম হতাশাগ্রস্ত। তার মনে হচ্ছে এ জীবন রাখার আর কোনো প্রয়োজন নেই।

কিন্তু সত্যি কি তাই? এই যে মৃত্যু চিন্তা, এটি কি তার দুর্বল চিত্তের প্রমাণ নয়? এটি কি জীবন যুদ্ধে একজন পরাজিতসৈনিকের ভাষা নয়? একই সাথে তিনি একজন কাপুরুষও বটে। পরিবারের এরকম অবস্থায় তিনি সকলকে অন্ধকারে ফেলে রেখে জীবন থেকে চলে যেতে চাচ্ছেন। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এরকমটি করবে না কখনো। যিনি খারাপ পরিস্থিতিতে নিজেকে সচল রাখতে পারেন, অন্যের সাহস যোগাতে পারেন তিনিই প্রকৃতপক্ষে সত্যিকারের সাহসী। তাকে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি হার মানাতে পারে না।

মানুষের মন স্বাভাবিকভাবেই কোমল। কখনো কখনো তারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারে না। তখন অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু কিছু সময় সেই অন্য কাউকে হুট করেই পাওয়া যায় না। তখন নিজেকেই নিজের মানসিক শক্তি যোগান দিতে হয়। তাই চলুন, যেগুলোর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিকূল পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারবেন তার কিছু নমুনা আমরা জেনে নেই।

১। নিজের মনকে কেন্দ্রিভুত করুন

বিক্ষিপ্ত মনে অশান্তি থাকে বেশি। তখন হাজারো চিন্তা মাথায় এসে ঘুরপাক খেতে থাকে। কিন্তু কোনো চিন্তাই শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না। এর কারণ হচ্ছে চিন্তা গুলোতে কোনো সামঞ্জস্য থাকে না। তাই সর্বপ্রথম আপনার কাজ হচ্ছে নিজের মনকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির করা। তারপর একটি একটি করে ভাবনাগুলোকে সাজিয়ে নিন।

২।নিজের মনে বলুন “আমি পারবোই”

নিজেরউপরবিশ্বাস রাখাটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভালো উপায়। আপনি যদি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের উপর বিশ্বাস না রাখতে পারেন, তাহলে কোনোঅবস্থাতেই আপনি সেসব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না। তাই যখনই কোনো বিরূপ পরিস্থিতি এসে উপস্থিত হবে তখন ভেঙ্গে না পড়ে নিজেকে বলুন, “আমি পারবো। আমি এই পরিস্থিতিকে সামাল দিতে পারবোই। সে ক্ষমতা আমার আছে”। তাহলেই দেখবেন আপনি মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছেন।

৩।পরিস্থিতিকে গ্রহণ করতে শিখুন

পরিস্থিতি ভালো হোক বা খারাপ, তা হাতের বাইরেই থাকুক বা ভিতরে, সেটিকে গ্রহণ করতে হবে। এই গ্রহণ করতে পারা শিখলেই দেখবেন এর ভয়াবহতা অনেকাংশে কমে গিয়েছে। পরিস্থিত সবসময় খারাপ থাকবে না। তাই ভবিষ্যতে ভালো কিছুর আশা মনে টিকিয়ে রাখুন।

৪।মেডিটেশন করুন

মেডিটেশন বা যোগাসনের মাধ্যমে মনকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল জানা যায়। এর মাধ্যমে মনে একধরণের প্রশান্তি চলে আসে। যা আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত মনকে শান্ত করে রাখতে সক্ষম। প্রতিদিন মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি মনের শক্তি খুঁজে পাবেনএবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার আগ্রহ খুঁজে পাবেন।

 

 

[Self Writing ]