নারীর ক্ষমতায়ন এর জন্য সর্বপ্রথম যা করা প্রয়োজন, তা হল তাঁদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে করে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমরা এধরনের উদাহরণ দেখতে পাই। নারীরা আগে যা করতে পারতো না, এখন তা করতে পারে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় তাঁরা প্রতিযোগিতা করছে পুরুষের সাথেই।

ঘরে বাইরে সর্বত্র নারীদের আনাগোনা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে। চাকরি বা ব্যবসা যাই হোক না কেন, তাঁদের খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায়। কিন্তু এসব ক্ষেত্র সবসময় নারীদের সহজ পথ তৈরি করে দেয় না। বাধা বিপত্তি থেকেই যায়। তাই কিছু বিষয়ে তাঁদের বাড়তি নজর রাখতেই হয়। আর এসব নিয়েই আজ আমাদের এই লেখা।

উদ্দেশ্য ঠিক রাখা

নারী বা পুরুষ, সকলকেই তাদের উদ্দেশ্য ঠিক রাখতে হবে। আর নারীদের ক্ষেত্রে তা তো আরও খানিকটা বেশি। স্বাভাবিক ভাবেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদের পথ চলাটা বেশ বন্ধুর এবং অনেক সময় তা কণ্টকাকীর্ণও বটে। এসব ক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার উদ্দেশ্যে অটল থাকেন এবং বিশ্বাস রেখে সেই উদ্দেশ্যের পেছনে ছুটতে থাকেন, তাহলে খুব সহজেই বন্ধুর পথ পেড়িয়ে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত সাফল্যে।

উপস্থিতির জানান দিতে হবে

“মেয়েদের জন্য এ চাকরি ভালো না”, “মেয়েদের ব্যবসা করা উচিৎ না”… এধরণের কথা আমাদের সমাজে খুবই প্রচলিত। আর আমরাও খুব সহজে এসব মেনে নিই। যেন মেনে নেয়াই হচ্ছে মেয়েদের একমাত্র কাজ। কিন্তু আমরা একবারও কি ভেবে দেখেছি, এভাবেই নারীরা পিছিয়ে যাচ্ছে? একেকটি ক্ষেত্র একেকটি সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। তাই, “হবে না”- এ কথাটি কে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে হবে। দেখবেন, আপনাকে দেখেই আরও দশজন নারী সেখানে পদার্পণের সাহস দেখাবে।

প্রস্তুতি নিতে হবে

শুধু পুরুষরাই সর্বচ্চো আসনে আসীন হবে, এভাবে চিন্তা করার দিন ফুরিয়ে গিয়েছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সে আসনে বসার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে অনেক আগে থেকেই। যেকোনো পরীক্ষার জন্য আমরা যেভাবে বারবার প্রস্তুতি নেই, ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতের জন্য নারীদের প্রস্তুত হতে হবে। সর্বচ্চো আসনে বসার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিতে হবে।

মনের শক্তিই বড় শক্তি

যেকোনো কিছু অর্জনের জন্য সবার আগে যা প্রয়োজন তা হল মনের শক্তি বা দৃঢ়তা। শারীরিক শক্তি এখানে অনেকাংশেই অকার্যকর। আপনি হয়তো পরপর বেশকিছু কাজে ব্যর্থ হয়েছেন, তাতে ভেঙ্গে না পড়ে পূর্ণ উদ্যোমে এগিয়ে চলতে হবে। আজ পর্যন্ত নারীরা যা যা অর্জন করেছে, তার সকল কিছুই এসেছে মনের শক্তি থেকে।

ইতিবাচক মনোভাব

পারিবার, সমাজ, কর্মক্ষেত্র… যাই হোক না কেন আর যাদের সাথেই চলাফেরে হোক না কেন, সকল কিছুতেই আপনাকে অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগাবে। আর আপনি যদি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে চারপাশকে দেখার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে তা হবে আপনার জন্য আপনার সাফল্যের পথে প্রথম বাধা। নারীদের ছোট বেলা হতেই এমন সব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় যে, যেগুলো খুব সহজেই মনের এককোণে নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি করে থাকে। কিন্তু আপনি যদি নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য কিছু করতে চান, কিছু দিতে চান, তাহলে আপনাকে সব নেতিবাচক মনোভাবকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাফল্যের পথে পা রাখতে হবে।

আমাদের সমাজে সবসময় নারীদের প্রাপ্য অধিকারটুকুও দেয়া হয় না। এর মূলে রয়েছে সামাজিক গোঁড়ামি এবং ভয়। নারীরা কখনো পুরুষের থেকে পিছিয়ে থাকতে পারে না। তাদেরও আছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে কখনো বাধা না দিয়ে আমাদের উচিৎ তাদের এই চলার পথে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা। মনে রাখবেন, যে জাতির মায়েরা যত শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত।