যদি কাজ জমা দেবার শেষ দিনে কিংবা পরীক্ষার আগে আপনার হৃদস্পন্দন ও দুশ্চিন্তা বেড়ে যায় তবে জেনে রাখুন আপনি একা এর ভুক্ত ভূগী নন। এমন কাওকে পাওয়া দুষ্কর যার এমন সমস্যা হয় না। প্রতি বৎসর হাজারো ছাত্র ভাল মেধা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরীক্ষার চাপ এবং মানসিক চাপের কারনে পরিক্ষায় ভাল ফলাফল করতে পারেনা। কিন্তু এমন অনেকগুলা উপায় আছে যেগুলা অনুসরণ করে আপনি এই চাপ সামলে উঠতে পারেন খুব সহজে।

রুটিন তৈরি করুন এবং সে হিসাবে পড়ুন

রুটিন মেনে চলা এই কথাটি বলা যতটা না সহজ, তার থেকে এটা করা অনেক বেশি কঠিন। কিন্তু সংগঠিত হলে এবং পরীক্ষার আগে থেকেই যদি প্রস্তুতি শুরু করা যায় তবে চাপটা সামলে উঠা সম্ভব। অনেকেই ঢিলেমি করেন, কিন্তু ঢিলেমি ছেড়ে রুটিন মোতাবেক চলাই শ্রেয়।

আপনার কি কি করা দরকার তার একটা তালিকা তৈরি করুন এবং সে গুলোকে এমন ভাবে সাজান যেন খুব সহজে সেগুলো সম্পূর্ণ করতে পারেন। একই পড়া কয়েকবার করে পড়ুন এবং লিখুন যাতে আপনি ভুলে না যান।

লক্ষ্য ঠিক করুণ এবং সেটা পূরন করুন

শুধু কাজের পর কাজ করেই যাবেন তার কোন মানে হয় না। প্রত্যেক কাজের মাঝেই বিরতি প্রয়োজন, যখন আপনি নিজের কাজ গুলোকে সাজিয়ে নিতে পারবেন তখন দেখবেন আপনি আরাম করার জন্য সময় বের করতে পারছেন। লক্ষ্য স্থির করুণ, দেখবেন গড়িমসি করার সুযোগ পাবেন না। লক্ষ্য স্থির থাকলে যে কোন কাজে পূর্ণ মনোযোগ পাওয়া যায় এমনকি সেটা যদি আপনার পছন্দের বই পড়া কিংবা পার্কে হেঁটে বেড়ানোও হয়।

ধ্যান এবং অন্যান্য প্রশান্ত থাকার উপায়গুলো অনুশীলন করুন

প্রচুর পদ্ধতি আছে নিজেকে চাপ মুক্ত রাখার এবং বলতে গেলে সবগুলোই ফ্রি। রাতে খুব ভাল একটা ঘুম, প্রচুর পানি পান করা, কিছুক্ষন শারীরিক ব্যায়্যাম করা, ভাল খাবার খাওয়া এ সব ই মানসিক চাপ মুক্ত থাকার সহজ পদ্ধতি। এনার্জি ড্রিংক খেয়ে যদি আপনি সারারাত পড়তে থাকেন তবে আপনি নিজেকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, জেনে রাখুন।

শান্ত থাকার কিছু পদ্ধতি যেমন ইয়োগা বা ধ্যান অনুশীলন আপনাকে আর মনযোগী করে তুলবে। আবার ও বলি টাকা-পয়সা নষ্ট করে ক্লাসে যোগদান করার প্রয়োজন নেই (যদি না আপনি চান) যেখানে আপনি অনলাইন থেকে বিনামুল্যে এ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন, এছাড়াও প্রচুর মোবাইল এপস আছে এই বিষয় গুলোর উপর।

নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না

আমাদের প্রত্যেকেরই  পড়ার পদ্ধতি আছে এবং একজনের পদ্ধতি অন্যের কাছে ভাল নাও লাগতে পারে। হয়তো আপনার কোন বন্ধু লাইব্রেরী তে পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সেটা যে আপনার ক্ষেত্রেও ফলদায়ক হবে এমন নয়।

আপনার যদি কোন নির্দিষ্ট সময় পড়তে বেশী ভাল লাগে তবে আপনি ওই সময়টাতেই পড়তে বসুন। একটানা না পড়ে পড়ার মাঝে বিরতি নিন যেটা আপনার জন্য অনেক বেশি ফলদায়ক হবে।

গৃহশিক্ষক এর কাছ থেকে সাহায্য এবং উপদেশ নিতে পারেন

কিছু বিষয় যদি আপনার বোধগম্য না হয় তবে কারো কাছ থেকে সাহায্য নিতে দুইবার ভাববেন না। হয়তোবা আপনি কিছু বুঝতে পারছেন না বা কোন প্রোজেক্ট নিয়ে ঝামেলায় আছেন, আপনার গৃহশিক্ষক আছে আপনাকে সাহায্য করার জন্য।

আপনি কোন ঝামেলাতে পরলে আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা শ্রেনীশিক্ষক এর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন। সবার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী হিসেবে একসাথে এত চাপ নেয়া সম্ভব হয় না। এজন্য যখন ই যে সুবিধা পাবেন সেটা লুফে নিবেন, নিঃশব্দে কস্ট করে যাবার কোনো মানে হয় না। আর যেখানে আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষকরা আপনাকে সাহায্য করার জন্য সদা প্রস্তুত।

পরীক্ষার দিন করনীয়

এমন অনেকেই আছে যারা অন্যদেরকে অযথাই বিরক্ত করে, সেসব মানুষদের কে এড়িয়ে চলুন। কারন এরা আপনার মানসিক শান্তি বিনষ্ট করতে পারে। যথাসম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। প্রশ্ন পাবার পর সেগুলো খুব খেয়াল করে পড়বেন। উত্তরগুলো মনে মনে সাজিয়ে ফেলবেন এবং লেখা শেষ হলে রিভিশন দিবেন।

পরীক্ষারদিন গুলোতে সবারই কম বেশী দুশ্চিন্তা হয় এবং এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই দুশ্চিন্তার জন্য অনেকের ই ফলাফল খারাপ হয়। এজন্যেই সহজ কিছু উপায় জানানো হল যাতে আপনারা দুশ্চিন্তা থেকে রেহাই পান এবং ভাল ফলাফল করতে পারেন।

 

https://www.topuniversities.com/blog/how-survive-exam-season-stress