যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান বিশ্বের চাকরির বাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি কি? তাহলে আপনি কি উত্তর দিবেন? এক্ষেত্রে উত্তর দেয়ার সময় কয়েকটি পক্ষের উত্থান হবে। একটি পক্ষ বলবে, একমাত্র একটি উচ্চতর ডিগ্রী আপনার চাকরি পাবার প্রথম শর্ত। আরেকটি পক্ষ বলবে, যার জ্ঞান যত বেশি সে তত ভালো চাকরি পাবে। আবার আরেকটি পক্ষ সরাসরি বলেই বসবে, মামা-খালু ছাড়া চাকরি পায় কে!

প্রথম দুটি পক্ষের উত্তরে বেশ জোরেশোরে একটি যুক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সেটি হচ্ছে, যারা চাকরি দেয় তারা অবশ্যই যোগ্য লোককেই চাকরি দিতে চায়। সে ক্ষেত্রে একটি উচ্চতর ডিগ্রী হচ্ছে সেই যোগ্যতার প্রথম মাপকাঠি। আমাদের দেশে আমরা ধরেই নেই, যার ডিগ্রী যত বড়, তার জ্ঞান ততই বেশি। একথা অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে খাটে না। সে যাই হোক। আমরা সেদিকে যাবো না। আমরা আমাদের পথেই হাঁটি। আমরা দেখতে পেলাম যে, প্রথম দুই পক্ষের কথায় বেশ ভালো যুক্তিই খাড়া আছে।

এবার যাই বাকি পক্ষটির দিকে। তাদের মতে মামা-চাচা-খালু ছাড়া চাকরি আজ পাওয়াই যায় না। এ কথাটির সত্যতা আসলে কতটুকু? এর উত্তর জানার জন্য আরেকটি প্রশ্ন চলে আসতে পারে। সেটি হলো এসব কথা কারা বলছে? খুঁজে বের করলে দেখা যাবে, এই পক্ষটির প্রায় সবাই হচ্ছে বেকার যুবক। শুধু বেকার বললেও অবশ্য পুরোপুরি বোঝানো যাবে না। কারণ এরা হচ্ছে শিক্ষিত বেকার।

মানে শিক্ষা এবং সার্টিফিকেট নিয়ে যারা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আরও সঠিকভাবে বলতে হলে, “ঘুরে বেড়াচ্ছে” না, “ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে” শুধু চাকরির জন্য। তারাই বলছে এই “মামা-চাচার” কথা। কথাটি যতটুকু না আসছে যুক্তি থেকে, তার থেকেও বেশি আসছে হতাশা থেকে।

এবার আমরা একটু অন্যদিকে মোড় নেই। মানে অন্যান্য দেশের দিকে খানিকটা তাকানোর চেষ্টা করি। বর্তমান যুগে, যেকোনো দেশেই চাকরি পাওয়াটা সোনার হরিণ এর মতই। পশ্চিমা দেশগুলোতে শিক্ষিতের হারও অনেক বেশি। সেখানেও কাকে ফেলে কাকে চাকরি দিবে এই নিয়েই চলছে যুদ্ধ। এই যুদ্ধে চাকরি প্রার্থিরাও যেমন অতিষ্ঠ, তেমনি চাকরির নিয়োগকর্তারাও বিরক্ত।

আর এই সমস্যার সমাধানের জন্যই তারা নতুন এক উপায় বর্তে দিয়েছে। এতে করে যেমন উপকার হয়েছে চাকরি প্রার্থিদের, তেমনি উপকার হয়েছে নিয়োগকর্তাদেরও। উপায়টি হচ্ছে “নেটওয়ার্কিং”। এর বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়, যে উপায়ে একজন মানুষ অন্য মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে এবং সম্পর্ক তৈরি করতে সক্ষম হয়। তাহলে চাকরির সাথে এর কি সম্পর্ক?

এখানেই হচ্ছে মূল কথা। চাকরি পাওয়া থেকে শুরু করে, চাকরির স্থায়িত্ব, নতুন সুযোগ সৃষ্টি, ভালো থেকে আরও ভালো প্রতিষ্ঠানে এবং পদে যাওয়া… এ সকলকিছুর মূলেই সাহায্য করতে পারে এই “নেটওয়ার্কিং”। কিন্তু কিভাবে? ছোট একটি উদাহরণ দিয়ে দেয়া যাক। ধরুন আপনি একটি ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেন। সেই প্রতষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে আপনার ভালো একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁরাও আপনার ব্যাপারে বেশ ভালো ধারণাই রাখেন।

এক্ষেত্রে তাঁরা চাইবেন, যাতে করে সে প্রতিষ্ঠানের অংশ হিসেবে আপনি কোনো একটি ভালো জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। তাই তারা হয়তো আপনার নামটি তাদেরই পরিচিত কোনো এক চাকরি নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানকে রেফার করতে পারে। সেই প্রতিষ্ঠানটিও হয়তো আপনার মতই কাউকে চায়। আর এ জিনিসটি হয়ে গেলো খুব সহজেই। আর এতেই খুলে যেতে পারে আপনার ভাগ্য। অন্যদের মত আপনাকে দিনের পর দিন চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না।

এখানে কি কিছুটা “মামা-চাচার” গন্ধ পাচ্ছেন? সত্যিই কিন্তু তাই। কিন্তু জিনিসটি হচ্ছে খুব নিখুঁতভাবে। এতে কোনো ধরণের বে-আইনি কিছু তো হচ্ছেই না, বরং কাজটির ভিতর রয়েছে বেশ সৃজনশীলতা।

তাই ছাত্রজীবন থেকেই এই নেটওয়ার্কিং গড়ার প্রস্তুতি শুরু করুন। আপনি যদি আপনার যোগ্যতা এবং দক্ষতাগুলোকে অন্যের সামনে উপস্থাপিত করতে পারেন, তাহলে সেটিই হবে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।