নিজের যত্ন নেবার ইচ্ছা সবারই থাকে কিন্তু অভাব শুধু সময়ের। এই ব্যস্ত জীবনে সংসার, কাজ, লেখাপড়া ইত্যাদি শতেক ঝামেলা শেষে দেখা যায় নিজের যত্ন নেওয়ার মতো সময় বের করা হয় না। আর সেই কারণেই হয়ত অবসাদগ্রস্তদের দলে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেন, হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। জীবনে আমাদের নিজেদের যত্ন নেয়া একটা অত্যাবশ্যক বিষয়। নিজের অনুভুতি কে উপেক্ষা করলে তা সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই কঠিন চাপ বা পরিস্থিতি হওয়ার যেকোনো লক্ষণ দেখার সাথে সাথেই সেখান থেকে উত্তরণের উপায় আপনাকেই খুঁজতে হবে। চলুন জেনে নেই এমন কিছু অভ্যাস যেগুলোর দ্বারা সহজেই নিজের প্রতি যত্নবান হতে পারবেন।

অবসর সময়কে ভাগ করে নিন

জীবনের এই ব্যস্ততার ভীড়ে অবসর সময় বের করা একটু কঠিনই। তবুও যাই পাওয়া যায়, সেটুকুকে ভাল ভাবে কাজে লাগান। অবসর সময়কে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে নিন। অবসরের রুটিনে রাখুন খানিকটা খেলাধুলা, আড্ডা কিংবা একটু ইন্টারনেটে দুনিয়াটা দেখে নেওয়া। পরিবারকে ব্যস্ততার মাঝে সময় দেয়া হয়না তাই অবসরে তাদের সাথে ভাল কিছু মুহূর্ত কাটান।

দিনের শুরুটা হোক মেডিটেশনের মাধ্যমে

মানসিক প্রশান্তি শুধু সাফল্য লাভের জন্যই নয়, বরং সবক্ষেত্রেই প্রয়োজন। এটি হচ্ছে সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। মানসিক প্রশান্তি অর্জনের একটি অন্যতম উপায় হলো মেডিটেশন। তাই মেডিটেশন করুন, দেখবেন, মনকে কিছুটা হলেও শান্তি দিতে পারছেন। আমরা দৈহিক শক্তি বা সুস্থ্যতা নিয়েই বেশি সচেতন থাকি। কিন্তু মন ভাল না থাকলে শরীরও সুস্থ থাকে না। আর মনে খাবার হলো মেডিটেশন। খুব সকালে নিশ্চুপ প্রকৃতির সাথে কিছু সময়ের জন্যে একাত্ম হয়ে যান।

শারীরিক কসরত

অধিকাংশ সফল ব্যক্তিরা সকালের কাজ শুরুর আগে শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এটি শুধু পেশীর জন্যে নয়। সাধারন কিছু হালকা ব্যায়াম বা ভারী ব্যায়ামের পর কাজ শুরু করলে জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। কিছুই না পারলে অন্তত ১৫-২০ মিনিট হেঁটে আসুন, আপনার শরীর-মন দুইই জাগ্রত হয়ে যাবে দিনের শুরুতে। এটা প্রমাণিত যে নিয়মিত অনুশীলন মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায় এবং নিউরোজেনেসিসকে সমৃদ্ধ করে। এর মানে আপনি প্রত্যেকবার যখন অনুশীলন করেন আপনি মস্তিষ্কের নতুন কোষ তৈরি করছেন! তাই দিনের শুরুটা হোক শারীরিক কসরতের মাধ্যমে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান

ঘুমের বৈজ্ঞানিক উপকারীতা অসীম। ভালভাবে নিশ্চিন্ত মনের ঘুম নিজের যত্নের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। সঠিক মাত্রায় না ঘুমিয়ে নিজের সব কাজে প্রাণ পাওয়া যায়না। সারাদিনি অবসাদ লাগে। আপনার সর্বোত্তম কাজ করার জন্য, এটি আপনার ব্যাটারী গুলোকে অবিরতভাবে রিচার্জ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় আপনার শরীর কোষ তৈরি করে এবং সারা দিনে তৈরি হওয়া শরীরের সকল অবসাদ দূর করে।

বন্ধু এবং পরিবারের সাথে কথা বলুন

আপনার বন্ধু এবং পরিবার আপনার সবচেয়ে বড় সমর্থক। এমনকি যদি আপনি খুব চাপগ্রস্থ এবং ব্যস্ত দিনও পার করেন, তবুও এর মাঝে তাদের জন্য সময় বের করুন। তাও না পারলে কয়েক মিনিটের জন্য হলেও ফোন করে কথা বলুন। আপনার মা বা আপনার সবচেয়ে ভাল বন্ধুকে হাই বলুন, তাদের জীবনে ঘটতে থাকা ভাল জিনিসগুলি সম্পর্কে বলুন।

 

কাল্পনিক গল্প উপন্যাস পড়ুন

নিজের প্রতি যত্নবান হতে টিভি দেখা, খেলাধুলা করার পাশাপাশি পত্রপত্রিকা এবং ভালো ভালো গল্প ও উপন্যাস পড়ুন। এতে আপনার জ্ঞান বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চাপ কমে শূন্যের কোটায় গিয়ে ঠেকবে। গল্প উপন্যাস পড়ায় মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই সময় পেলেই পড়ে ফেলুন কিছু কাল্পনিক গল্প-উপন্যাস।

যোগব্যায়াম করুন

সংস্কৃত শব্দ Yoga এর মানে হচ্ছে স্রষ্টার সাথে এক হয়ে যাওয়া। টানটান করে শরীরের পেশিগুলোকে জাগিয়ে নেয়াটা আসলে হাজার বছর পূর্বে শরীর ও আত্মার প্রতি নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ আনতে মানুষ বের করেছিল। যখন এই শক্তি শিরদাঁড়ার ভিত্তি থেকে শুরু হয়ে মাথায় পৌঁছায় তখন আত্ম উপলব্ধি মানুষ অর্জন করতে পারে। এই যোগব্যায়াম বা YOGA নিয়মিত করার ফলে মন আর মস্তিষ্কের মাঝে প্রশান্তি লাভ করা সম্ভব। দিনের শুরুতে খানিকটা সময় যোগব্যায়ামের পিছনে ব্যায় করুন। দেখবেন খুব দ্রুত ভাল ফলাফল পাবেন।

নিজের সময়সূচী তৈরী করুন

সময় একটি অমূল্য সম্পদ। একে দাম দিয়ে কেনা সম্ভব নয়, তবে সময়ের সঠিক ব্যবহারে দ্রুত সাফল্য লাভ করা যায়। সময় কখনোই বাঁচানো যায় না। সময় শুধুই ব্যয় হতে থাকে। সময় একবার চলে গেলে তাকে আর কোনোবাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে সময়ের সঠিক ব্যবহারের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। নিজের সময়কে ভাগ করে নিন। কখন কি করবেন, ভাল ভাবে ভেবে সেগুলোর একটা তালিকা তৈরী করুন। তারপর সেই মতন করেই নিজেকে পরিচালিত করুন।

 

https://www.success.com/article/13-ways-to-take-care-of-yourself-every-day