জীবনে নতুন করে সাজিয়ে তোলার জন্য আপন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা অতি গুরুত্তপুর্ন একটি বিষয়। আপন জীবন সফলরুপে সাজাতে স্বশিক্ষিত হওয়া একটি অন্যতম পন্থা। স্বশিক্ষিতই সুশিক্ষিত। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- কেউ কি নিজেকে নিজেই শিক্ষিত করে তুলতে পারে? স্বদিচ্ছা আর গতানুগতিকতার বাইরে একাগ্রতা নিয়ে কাজ করে গেলেই তা সম্ভব। বিস্তারিত আলাপ করা যাক।
১। কৌতূহল বৃদ্ধি করুনঃ

যেকোন কিছু নিয়ে জানবার পূর্বশর্ত হল কৌতূহল। প্রশ্নের জাগরণ ঘটে কৌতূহলে। এই প্রশ্ন-কৌতূহলের আনাগোনায় আপনি নানান বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠবেন। প্রশ্নের ব্যাপ্তি অসীম। যতবেশী কৌতূহলী হয়ে উঠবেন, জ্ঞানের পরিসীমা ততবেশী বৃদ্ধি পাবে।

২। অজানাকে জানুন

নিজের পরিমন্ডল থেকে বেরিয়ে জানার পরিধি বিস্তৃত করুন। অন্যেরা কিভাবে ভাবছে জানুন, নিজের গন্ডিকে ছাড়িয়ে যেতে এটি সহায়ক। হয়ত এখন পর্যন্ত স্রেফ কমিকস্‌ পড়েছেন, এবারে উপন্যাসের দিকে মন এগিয়ে দিন; ফিকশন সিনেমাগুলো থেকে এবার ডকুমেন্টারি চেখে দেখুন। ক্লাসেও মনোযোগ দিন; বিখ্যাত ব্যক্তিদের লেকচারগুলো দেখুন।

৩। নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন

নিজেকে চ্যালেঞ্জ করুন, বড় কাজে হাত দিন যা আপাতপক্ষে আপনার কাছে অসম্ভব মনে হয়। আপনার বর্তমান চিন্তাভাবনা ও কাজের ধারাকে নিজ গণ্ডি ছাড়িয়ে নিয়ে যান যা আপনার ভেতরের সম্ভাবনাকে আরো প্রস্ফুটিত করে তুলবে।

৪। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানুন

বিশ্বের নানান প্রান্তের ভাষা সম্পর্কে জানবার ও সেগুলো শেখার চেষ্টা করুন। বিভিন্ন দর্শন আর সংস্কৃতি জানবার চেষ্টা করুন। পড়ার পরিধি বাড়ানোর মাধ্যমে আপনার ভাষা ও ভাবনার পরিধি বৃদ্ধি করতে পারবেন; আর এই বৈচিত্রে স্থীর থেকে এগিয়ে যাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন নতুন ভাষা শিখবার মাধ্যমে নিজেকে বিভিন্ন সংস্কৃতির দ্বারে এনে জ্ঞান বৃদ্ধি ও যোগাযগের পরিসর বিস্তৃত করা।

৫। ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই সব নয়’

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বর্তমানে মানুষের জ্ঞানচর্চার একটি ভিত্তি হলেও বাস্তবতা আরো ব্যাপক পরিসরে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ভিত্তিকে কাজে লাগাবার পাশাপাশি এই সীমাকে অতিক্রম করুন। প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বিষয়বস্তু সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হউন এবং ভালোভাবে সে সম্পর্কে গবেষণা করুন। পরীক্ষায় পাশের ক্ষেত্রে এগুলো কাজে না লাগলেও, বাস্তব জীবনে এগুলো সবসময়েই ব্যবহার করতে পারবেন।

৬। প্রতিদিন পড়ুন

একঘেয়ে জীবনের বিকল্প হল নতুন নতুন বিষয়ে পড়া। প্রতিদিনই পড়বার অভ্যাস গড়ে তুলুন- সে যেকোন বিষয়েই হতে পারে। বিশ্বের বর্তমান ও অতীত সম্পর্কে জানুন, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক জ্ঞানীজনেরা নানান তত্ত্ব প্রদান করছেন হরহমেশাই- এগুলো সম্পর্কে খুঁতিয়ে দেখুন। স্বশিক্ষিতের গুণ হল তিনি তার স্ব-অর্জিত জ্ঞান ব্যাহিক প্রভাবমুক্ত রাখতে পারেন; নিজে আত্মসমালোচনায় তাদের কোন প্রকার দ্বিধা কাজ করে না এবং তারা অন্যের সমালোচনাও সহজেই গ্রহণ করে নেন অর্থাৎ একজন সুশিক্ষিত ও সদাচারনকারীর সকল গুণাবলীই তার মাঝে বিরাজমান।

৭। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন করুন

কথায় বলে গ্রহণের প্রক্রিয়ার মাঝেই গতি হারাবার সম্ভাবনা প্রবল। তাই নিজেকে যথাসম্ভব সুশৃঙ্খল উপায়ে নিজ আগ্রহ ও কৌতুহল অনুযায়ী কাজ করে গেলেই সফলতার চূড়ায় পৌঁছতে পারবেন।

৮। তর্ক নয়, মতের বিনিময়ে জ্ঞান প্রসার ঘটে

একজন স্বশিক্ষিতের কখনই অন্যের জানার পরিধিকে ছোট করে দেখবার প্রবণতা থাকে না; বরং নিজের জানাটুকু নিয়ে আলোচনা ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে নিজের পরিধির প্রসার তাদের লক্ষ্য। বিভিন্ন গুণীজন, শিক্ষকদের কথা, তাদের লেকচার কিম্বা বই পর্যালোচনা করে তাদের সাথে আলাপ করুন- জানার চেষ্টা করুন তাদের অভিমতের পেছনে যুক্তিটি কি।
স্রেফ উপরোক্ত উপায়গুলো একাগ্রতার সাথে অনুসরণ করলেই যে স্বশিক্ষিত তথা সুশিক্ষিত হয়ে ওঠা যাবে তা নয়- বরং এভাবেই আপনি আপনার জন্য আরো অনেক উপায় খুঁজে পাবেন আর নিজে নিজে কিছু শিখবার স্বাদ আহরণ করতে পারবেন।