স্কুল হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভিত্তি। নতুন স্কুলের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া অনেক উত্তেজনাপূর্ণ এবং খানিকটা ভয়ের একটি কাজ। যখন আপনি নতুন একটি স্কুলে যাবেন আপনার কাছে মনে হতে পারে যে আপনি কাউকে চেনেন না বা আপনি পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন না।

আপনার মনে হতে পারে যে সবকিছুর মধ্যে আপনি হারিয়ে যেতে পারেন বা স্কুলের শিক্ষকগন অনেক বদ মেজাজি হতে পারে। আসলে স্কুলের নতুন মুখ হিসেবে নিজেকে চিহ্নিত করতে কারই ভালো লাগে না। যার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে, কেউ কেউ দয়া দেখায়, আবার প্রতি ক্লাসে সবার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিতে হয়, যেটা খুব ই অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

কিন্তু যতই আপনি আপনার স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে থাকবেন, আপনি দেখবেন আপনার নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হচ্ছে এবং জীবন অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। আপনার স্কুলের ব্যাপারে সবকিছু জেনে নেয়া, প্রথম দিনের জন্য নিজেকে তৈরি করা এবং নতুন বন্ধু বানাতে শিখতে পারলে এই পুরো ব্যাপারটিকেই খুব সহজ মনে হবে।

আপনার স্কুলকে ভালোভাবে জানুন

আপনার স্কুলের মধ্যেই চারপাশ ঘুরে দেখুন। স্কুল শুরু করার আগে আপনার বাবা-মার সাথে স্কুলে ঘুরতে যেতে পারেন। আপনার ক্লাসরুম কোথায় হতে পারে, ক্যাফেটেরিয়া, অডিটোরিয়াম, ব্যায়ামকক্ষ এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো চিনে নিন।

শিক্ষকদের সাথে দেখা করুন। আপনার শিক্ষকদের সাথে দেখা করলে এটা আপনাকে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে। নিজের পরিচয় দিন এবং হাসি-খুশি থাকুন। আপনার শিক্ষকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আপনাকে তাদের সাথে একটি ভালো অবস্থানে রাখবে এবং আপনার পরিবেশের সাথে তখন মানিয়ে নেয়ার কাজ টাও অনেক সহজ হয়ে যাবে। তাদের ব্যাপারে কিছু মুল বিষয় জেনে রাখুন যেমন, তারা কে কোন বিষয় পড়ান, কোথায় পড়ান, তাদের নাম ইত্যাদি।

স্কুলের বিবরণপত্র বা হ্যান্ডবুক টি পড়ে দেখুন। স্কুলের নিয়ম-কানুন গুলো ভালোভাবে জেনে নিলে স্কুলের সংস্কৃতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া খুব সহজ হবে। স্কুলের অফিস অথবা স্বীকৃত ওয়েবসাইট থেকে এই হ্যান্ডবুকটি সংগ্রহ করতে পারবেন। বই টিকে আপনার বাবা-মার সামনে বসে পড়ুন যাতে কঠিন বিষয়গুলো তারা আপনাকে সহজে বুঝিয়ে দিতে পারে।

যদি আপনার নতুন স্কুলের কোন হ্যান্ডবুক না থাকে তাহলে স্কুলের নিয়ম-কানুন গুলো জেনে নিন এবং স্কুলের ডায়রির পেছনেও অনেক তথ্য খুঁজে পাবেন যেটা আপনাকে ভবিষ্যতে অনেক সাহায্য করবে। স্কুলের হ্যান্ডবুকে আপনি স্কুলের অতীতের অনেক তথ্য পাবেন, অতীতের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্পর্কে জানতে পারবেন।

স্কুলের বাৎসরিক দেয়ালপঞ্জিকা টা জেনে রাখা উচিত। এটা আপনার জন্যই অনেক সুবিধার হবে যদি আপনি আপনার স্কুলের ছুটির দিনগুলো সম্বন্ধে জেনে রাখতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দিনগুলো ও চিনে রাখা উচিত। আপনি আপনার রুমের নিজস্ব দেয়ালপঞ্জিকা তে এই দিনগুলো টুকে রাখতে পারেন যাতে করে খুব সহজেই আপনি আগে থেকেই আপনার স্কুলের এই দিনগুলোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারেন।

প্রথমদিনের জন্য নিজেকে তৈরি করে নিন

প্রথমদিনের জন্য মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করার কাজটি খুব জরুরী কাজ। আপনি প্রথমদিনের জন্য স্কুলে যাওয়ার অনুশিলন করতে পারেন যাতে সময়মত আপনি সেখানে পৌঁছাতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার ক্লাসে পৌঁছাতে ঠিক কতক্ষন সময় লাগবে।

আপনার স্কুলে নেয়ার জন্য যা যা লাগবে সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন। স্কুল ব্যাগ সহ আপনার বই-খাতা, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, পানির পাত্রসহ আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অবশ্যই সাজিয়ে রাখতে হবে।

আপনার স্কুলের প্রথম দিনটি অবশ্যই আগের দিন রাতের একটি সুন্দর ঘুমের পড়ে অনেক ভালোভাবে যাবে। ভালো ঘুম আপনার শরীর ও মনকে সতেজ রাখবে। আপনার বয়স অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৮ থেকে ৯ ঘন্টা ঘুম প্রয়োজন যদি আপনি ১২ বছরের বেশি বয়স্ক হয়ে থাকেন আর ১০ থেকে ১১ ঘন্টার ঘুম প্রয়োজন যদি আপনার বয়স ৭ থেকে ১১ বছরের মধ্যে হয়ে থাকেন।

এছাড়াও স্কুলে যাওয়ার আগে আপনার স্কুলের পোশাক সঠিকভাবে পরিধান করা, ভালো খাবার খাওয়া, স্কুলের উদ্দেশ্যে একটু জলদি বের হওয়া এই বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

আপনার বাবা মার সাথে আপনার মনের ভাবগুলো ভাগাভাগি করে নেন। কিছু জানার থাকলে তাদেরকে প্রশ্ন করুন। কারণ তারা অবশ্যই আপনার থেকে অনেক বেশি অভিজ্ঞ।

সবশেষে এটাই মনে রাখবেন যে স্কুলে যাওয়ার পরে সবকিছু আপনার নিজের হাতে থাকবে। আপনি সবকিছু সঠিকভাবে পালন করবেন। নিজের পড়াশোনা, ব্যবহার, আচার-আচরন সবকিছু সঠিকভাবে খেয়ালে রাখবেন। নিজের সবচেয়ে সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন, আপনি যতক্ষণ নিজের সত্যিকার দিক এবং ভালো দিকগুলো তুলে ধরবেন ততোক্ষণ

আপনি অন্নতি করতে থাকবেন। ভালো বন্ধু বানান, তাদের সাথে মেলামেশা করুন। স্কুলে যা যা হচ্ছে সেই ব্যাপারে নিজের শিক্ষক এবং বাবা-মার সাথে কথা বলুন। আপনার নতুন স্কুলের নতুন জীবনের জন্য অনেক শুভকামনা রইল।

Wiki How