আমরা এখন সবসময় বিদ্যুতের মধ্যে থাকি। সন্ধ্যা হলেই বা অন্ধকার হলেই ঘরে ঘরে জ্বলে উঠে বাতি। আর এই বাতির কথা মনে হলেই যার নাম মনে আসে তিনি হলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী থমাস আল্ভা এডিসন। আজকে আমরা এই বিজ্ঞানী সম্পর্কে জানব।

১৮৪৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও রাজ্যের মিলান শহরে জন্ম নেন থমাস আল্ভা এডিসন। বাবা ছিলেন ডাচ বংশীও সামুএল এডিসন এবং ক্যানাডিয়ান মা নেন্সি এডিসন। ছোটবেলা থেকেই এডিসন অনেক কৌতূহল প্রবণ ছিলেন। একবার তাঁর মাকে তিনি জিজ্ঞেস করেন হাঁসেরা কিভাবে ডিম ফোটায়। 

মা বুঝিয়ে দিলেন কিভাবে। এরপরদিন এডিসনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলোনা। পরে দেখা গেল সে চুপচাপ হাঁসের ডিমের উপর বসে আছে। ডিম ফোটানোর জন্য। একবার খড়ের গাদায় আগুন লাগিয়ে দেন বুঝার জন্য কি ঘটে। এডিসন ছোটবেলা থেকেই একটু অসুস্থ ছিলেন। তাই সাধারন স্কুলে না পড়ে তিনি তাঁর মায়ের কাছে পড়াশুনা করেন। ১২ বছর বয়স থেকেই তিনি নিজে নিজে উপার্জন শুরু করেন। রেলগাড়িতে  তিনি খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, নাস্তা বিক্রি শুরু করেন। এভাবে বিভিন্ন সময় তিনি টেলিফোন অপারেটর, টেলিগ্রাফ অপারেটরের কাজ করেন এবং ১৭ ১৮ বছর বয়সে বাড়ি ফিরে আসেন।

এডিসন তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন একজন উদ্ভাবক হিসেবে। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জিনিস আবিস্কার করেন। তিনি প্রচুর পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি সময় নষ্ট করতেন না। তাঁর সবচেয়ে বড় আবিস্কার ছিল গ্রামোফোন। ১৮৭৭ সালে তিনি এটি আবিস্কার করেন। শব্দ তোরঙ্গ রেকর্ড করা তখনকার দিনে অকল্পনীয় ছিল। লোকজনের কাছে তাঁর নাম হয়ে যায় এরপর “ মেনলো পার্কের জাদুকর”।

এডিসনের এছাড়া অন্যতম বড় আবিস্কার বৈদ্যুতিক বাল্ব। যা দীর্ঘ সময় জ্বলে। চলচ্চিত্রের আবিষ্কারকও তাকে বলা যায়। কাইনেটোস্কোপ তিনিই আবিস্কার করেন। যা আধুনিক চলচ্চিত্রের পূর্বসূরি। এছাড়া তিনি ইলেকট্রিক ভোট গণনা যন্ত্র, গোল্ড কোটেশন মুদ্রন যন্ত্র ইত্যাদি আবিস্কার করেন। এমনকি টেলিফোন আবিস্কারেও তিনি আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেলকে সাহায্য করেন।

থমাস আল্ভা এডিসনের নামে ১০৯৩ টি পেটেন্ট রয়েছে আমেরিকাতে। এছাড়া ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানিতেও কিছু আছে। তিনি একজন ভাল ব্যবসায়ী ছিলেন। নিওইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপে তাঁর প্রথম বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এছাড়া তিনি ব্যাটারি, রাবার ও খনির ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেন। তিনি “ এডিসন ওর মিলিং কোম্পানি”,”এডিসন স্টোরেজ ব্যাটারি কোম্পানি” প্রতিষ্ঠা করেন।

এডিসন ডি সি কারেন্ট নিয়ে কাজ করেন। সেই সময় আরেকজন বিজ্ঞানী নিকলা টেসলা যিনি এডিসনের হয়ে একসময় কাজ করেছেন তিনি এ সি কারেন্ট নিয়ে গবেষণা করেন। এডিসনের সাথে টেসলা এক বিবাদে জড়িয়ে পরেন। কারন দুই পক্ষই নিজেদের গবেষণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে  যান। যেটি “তড়িৎ যুদ্ধ” অথবা war of current নামে পরিচিত।

এডিসন প্রথমে বিয়ে ১৮৭১ সালে বিয়ে করেন মেরি নামের একজন মহিলাকে যিনি তাঁর দোকানে কাজ করতেন। তাঁর তিনটি সন্তান হয়। মেরি ১৮৮৪ সালে মারা যান। ১৮৮৬ সালে এডিসন পুনরায় বিয়ে করেন মিনা মিলারকে। মিনা উদ্ভাবক লুইস মিলারের মেয়ে ছিলেন। এই ঘরেও তাঁদের তিনটি সন্তান হয়। তিনি শাকাহারি ছিলেন। অহিংসা ছিল তাঁর নীতি। তিনি বিশ্বযুদ্ধের সময় শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক হাতিয়ার নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলতেন তিনি গর্বিত কারন তিনি কোন হাতিয়ার উদ্ভাবন করেননি যেটি প্রাণ নাশক।

এই মহান বিজ্ঞানী ডায়াবেটিস রোগে ভুগেন এবং এই রোগে ১৮ অক্টোবর ১৯৩১ সালে মৃত্যুবরন করেন। তাঁর শেষ নিঃশ্বাস একটি টেস্টটিউবে সংরক্ষণ করা হয়। ওয়েস্ট অরঞ্জের তাঁর বাড়ির পেছনে তাকে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ