আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক কিছু নিয়েই আমরা চিন্তিত থাকি। কিছু সমস্যা থাকে আমাদের আয়ত্তের মধ্যে। কিছু থাকে আয়ত্তের বাইরে। আমরা এখানে এমন কিছু সমস্যার কথা বলব যেগুলো আমরা ইচ্ছা করলেই এবং একটু চেষ্টা করলেই সমাধান করতে পারি। আসুন আমরা জেনে নেই এমন কিছু বিষয় যা আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলতে পারে।

১। ঘর বাড়ি খুবই অগোছালো আর অপরিষ্কার? ঃ আপনি যদি আপনার ঘর নিয়মিত পরিষ্কার না করেন এবং কাজকর্ম গুছিয়ে না করেন তাহলে ঘর অগোছালো খুব সহজেই হবে আর ঘর নোংরা থাকবে। জামাকাপর প্রতিদিনের তা গুছিয়ে রাখুন। তাহলে খুব বেশি জামা কাপড় হয়ে ঝামেলা হবেনা। সপ্তাহে একদিন ঠিক করুন ঘর খুব ভালভাবে পরিষ্কার করবেন। বাথরুম ধুবেন। একটি রুটিন করে নিন। যেকোনো কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় জিনিশপত্র ঠিক জায়গায় সাথে সাথে রাখুন। কাপড় ধোয়ার কাপড় একজায়গায় ফেলে না রেখে ঝুরিতে রাখুন। ইস্ত্রি করা কাপড় সাথে সাথে আলমারি অথবা আলনায় গুছিয়ে রাখুন। মোবাইল ল্যাপটপের চার্জার নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন এমনভাবে যেন ওলট পালট না থাকে। দরকারি জিনিস হাতের কাছে রাখুন।

২। প্রযুক্তির উপর আসক্ত? ঃ বর্তমানে পৃথিবীটা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেছে। সব ক্ষেত্রেই আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। এখন হাতে হাতে স্মার্ট ফোন দেখা যায়। কিন্তু এর খারাপ দিক হল আমরা অনেকেই মাত্রারিক্তভাবে প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছি। ফলে যেটা হচ্ছে আমরা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। সামাজিকতা হারিয়ে যাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের সময় নষ্ট করছে। সময়মত কাজ করা যাচ্ছেনা। এজন্য আমাদের এই আসক্তি হতে মুক্ত হতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সময় বের করুন যখন আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করবেন। পরিবারের সাথে সময় কাটানোর সময় খুব দরকার ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন না। যত পারুন এসব প্রযুক্তির যন্ত্রগুলো দূরে রাখবেন। অপ্রয়োজনীয় সাইটগুলো আন্সাবস্ক্রাইব করুন অথবা আনফলো করুন যেন সেসব তথ্য না আসে। আপনার জন্য দরকার এমন বিষয়গুলো নিয়ে আপনার মোবাইল বা ল্যাপটপ সাজান। মাঝে মাঝে ওয়াই ফাই বন্ধ করে রাখুন।

৩। ঘুম হয়না?ঃ আমাদের শরীরের জন্য ঘুম খুবই দরকার। শারীরিক এবং মানসিক উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের ঘুমের একটা প্রভাব পড়ে। এখন অনেকেই নিদ্রাহীনতায় ভুগেন। সারারাত বিছানায় এপাশ অপাশ করেন। এই সমস্যার সমাধান হল প্রথমেই বিছানায় আপনার ফোন নিবেন না। ঘর একদম অন্ধকার করে ঘুমাতে যান। রাতে খাবার হালকা ধরনের গ্রহন করুন। চা কফি সন্ধার পর খাবেন না। সকাল সকাল উঠার অভ্যাস করুন এবং চেষ্টা করুন সারাদিন কাজের মধ্যে থাকতে। দুপুরের ঘুম বাদ দিবেন। দেখবেন রাতে আপনি ঠিকই ঘুমাতে পারছেন।

৪। কাজে অনীহা?ঃ কাজ করতে ভাল লাগছেনা একদম? অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্লান্তি চলে এসেছে? অনেকেই আমরা এই ব্যাপারটি ঠিক ধরতে পারিনা। কাজে এরকম অনীহা আসলে শরীর এবং মনে অনেক পরিবর্তন আসে। যেমন প্রায় মাথা ধরে, ঘুম আসেনা, বুকে ব্যথা করে। মনের মধ্যে ভয় ঢুকে, কোন কিছুতে আগ্রহ আসেনা, দুশ্চিন্তা, হতাশায় ভুগা শুরু হয়, কাজে মনোযোগ আসেনা। এমনকি অনেকের খাওয়ার রুচি চলে যায়। এসব ক্ষেত্রে আপনাকে যা করতে হবে তা হল কাজ থেকে কিছুদিনের বিরতি। দূরে কোথাও ঘুরতে যান। সাগর অথবা পাহাড় অথবা প্রকৃতির কাছাকাছি। পছন্দের বই পড়ে সময় কাটান। কাজ থেকে একদম দূরে থাকুন। দেখবেন এরপর কাজ করতে অত কষ্ট হবেনা। আগের থেকেও ভাল কাজ করতে পারবেন।

৫। আপনি অনেক মোটা তাই চিন্তিত?ঃ আপনি যদি অনেক মোটা হন এবং এটা নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগেন তবে বলব সব মানুষের শারীরিক গঠন এক নয়। তাই মোটা হওয়া নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগবেন না। আপনি যদি সত্ত্যি চান আপনি অজন কমাবেন তবে আপনি ডায়েট এবং ব্যায়াম শুরু করুন। নিয়মিত ডায়েট এবং ব্যায়াম করলে শরীর ফিট থাকবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আর অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ফল্মুল শাক সবজি বেশি করে খান।

সমস্যাগুলোর সমাধান করতে মনোবল অনেক দরকার। আপনার মনোবল ঠিক থাকলে আপনি খুব সহজেই কাজ করতে পারবেন এবং সফল হবেন।

তথ্যসূত্রঃ https://lifehacker.com/5781093/top-10-solutions-to-real-lifes-most-annoying-problems