উগান্ডার প্রেসিডেন্ট এর নাম কি? হুনুলুলু কোথায় অবস্থিত? বিরিয়ানিতে কি সালাদ খায়? পানি কতক্ষন ধরে ফুটানো ভাল? এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নিমিষেই পেয়ে যাই আমরা। শুধু কষ্ট করে একটু কম্পিউটার বা মোবাইলে টাইপ করতে হয়. Google নিমিষেই আমাদেরকে উত্তর দিয়ে দেয়। কীভাবে এই জাদুর কাঠি কাজ করে? কখনো ভেবেছি কি? আসুন একটু জেনে নেই।

প্রথমেই বলি ইন্টারনেট হল একটি বিশাল জাল এর মত।তাই তো আমরা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বলি। এখানে আছে লক্ষ্য লক্ষ্য ওয়েবসাইট। গুগল কাজ করে বিভিন্ন ধাপে। প্রথমেই আসা যাক ক্রাওলিং নিয়ে। ক্রাওলিং শুরু হয় ওয়েব এড্রেস এর কিছু লিস্ট নিয়ে। এই লিস্ট তৈরি হয় আগের করা সার্চ এবং কিছু সাইটম্যাপ নিয়ে। যখন কেউ এসব সাইট এ যায় তখন তারা আরও কিছু লিঙ্ক ব্যাবহার করে যেন নতুন পেজ এ যাওয়া যায়। গুগল সফটওয়্যার নতুন সাইট এবং পুরনো সাইটগুলোতে বিশেষ নজর দেয় এজন্য যেন সে বুঝতে পারে কোন সাইট বেশি ব্যাবহার হয় এবং কোন সাইট প্রায় বিলুপ্ত। এভাবে কম্পিউটার ঠিক করে কোন সাইটের কোন পেজ সে দেখাবে। ক্রাওলিং ছাড়াও  ইন্ডেক্সিং করে কাজ করা হয়। গুগল সার্চ ইঞ্জিনে রয়েছে কয়েকশ বিলয়ন ওয়েব পেজ। একটি পেজকে ইন্ডেক্সিং করা মানে হল ওই পেজ এর সব শব্দগুলো এন্ট্রি করা। নলেজ গ্রাফ দিয়ে কী ওয়ার্ড মাচিং থেকেও বিশাল কাজ করা হয় যেন খুব সহজেই যেকোনো জিনিস বের করা যায়। যার ফলেই গুগল আজ সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার করা হয়।

Google এজন্যই খুব দ্রুত কাজ করতে পারে  তার আরেকটি কারণ সে একটি এলগরিদম মেনে কাজ করে যার নাম pagerank. এই এলগরিদমের সাহায্যে Google প্রতিটা ওয়েবপেজ এর একটি রেঙ্ক দেয় যার ফলে সুবিধা হয় কাঙ্খিত সাইটটি খুঁজে পেতে। গুগল প্রথমে আমাদের দেওয়া কুয়েরি থেকে গুরুত্বপূর্ণ শব্দগুলো বিশ্লেষণ করে। এজন্য গুগল একটি ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বানিয়েছে। এর ফলে বানান ভুল হলেও এবং সংক্ষিপ্ত কুয়েরি লিখলেও গুগল সেখান থেকে তথ্য নিতে চেষ্টা করে। এরপর আমাদের দেওয়া কুয়েরি অনুযায়ী যে যে ওয়েবপেজ আছে সেগুলা খুঁজে বের করে। এবং কুয়েরি থেকে প্রাপ্ত শব্দগুলোকে ম্যাচ করে। এরপর পেজ রেঙ্কিং এর মাধ্যমে যে যে পেজ আমাদের দরকার সেই পেজগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরে। গুগল চেষ্টা করে যেন আমরা সবচেয়ে ভাল তথ্য পাই।এজন্য রেঙ্কিং এর মাধ্যমে দেখে কোন পেজে সবচেয়ে বেশি ভাল তথ্য দেওয়া আছে এবং বেশি কোন পেজ দেখা হয়েছে। সেই অনুযায়ী গুগল আমাদের সামনে তার উত্তর তুলে ধরে।

হাজার হাজার বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলরা চেষ্টা করে যাচ্ছে কীভাবে গুগলকে আরও ভাল করা যায়। কীভাবে আরও কম সময়ে আরও নির্ভুল তথ্য দেওয়া যায়। তাই দিন দিন গুগলের সেবা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ

https://www.google.com/search/howsearchworks/