ঘটনা ১:

মিসেস ফারজানা। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ছোট একটি ঘটনা থেকে সমস্যাটা শুরু। সেটি মিটমাট হয়ে গেলেও কোনো এক অজানা কারণে বেশকিছু দিন যাবৎ সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছে না। একারণে অফিসের কাজেও মন বসছে না ঠিক মত। তাই বারবার মনে হচ্ছে, এই খারাপ সময় থেকে কি বের হওয়া যাবে না?

ঘটনা ২:

কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সিহাব। গতবছর হঠাৎ করেই তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাবাকে নিয়ে দুই মাস হাসপাতালে ছোটাছুটি করে কলেজ কামাই হয়ে যাওয়াতে কলেজ থেকে ভর্তি বাতিল করে দিয়েছে। কিন্তু সামনেই এইচ এস সি পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহে রয়েছে সে। পরিবারে আর্থিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা যখন চলছে, তখন তার মনে হলো এগুলো থেকে রেহাই পাবার কি কোনো পথ নেই?

প্রায় সব মানুষের জীবনেই কখনো কখনো এরকম পরিস্থিতি হঠাৎ করে এসেই উপস্থিত হয়। তখন মানুষ মানসিকভাবে এমনই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে যে, কি করলে ভালো হবে তা বুঝে উঠতে পারে না। তাই সেই মুহূর্তে যেকোনো পরিস্থিতিকেই তার কাছে খারাপ মনে হয়।

উপরের দু’টি ঘটনা তারই সাক্ষী। বেশ বড় কোনো খারাপ ঘটনার রেষ কাটতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। আর তখন নিজের সাথে ঘটে যাওয়া অন্য যেকোনো ছোট ব্যাপারগুলোও বেশ বড় মনে হয়। এটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একজন মানুষের মনের ভয়। মনের ভয় থেকেই এধরণের নেতিবাচক চিন্তার আবির্ভাব ঘটে।

কিন্তু এসময়টি থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়? হুট করে চাইলেই তো আর সম্ভব হচ্ছে না। এসব খারাপ পরিস্থিতির উদয় হলে নিজে নিজেই খুব তাড়াতাড়ি এর থেকে বের হয়ে আসা যায় না। প্রয়োজন কাছের কোনো মানুষের সাহচর্য।

চলুন জেনে নেয়া যাক, এসব পরিস্থিতির আবির্ভাব হলে কি কি পদক্ষেপ নিয়ে আপনি খারাপ সময় থেকে সামন্য হলেও বেরিয়ে আসতে পারবেন।

সাহস হারাবেন না

খারাপ সময় মানুষের জীবনে আসবেই। চড়াই উৎরাই মানুষের জীবনেরই একটি অংশ। তাই বলে এমন কোনো পরিস্থিতি আসলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। মনে সাহস বজায় রাখতে হবে। খারাপ পরিস্থিতি থেকে বেরুতে হলে নিজেকে মানসিকভাবে দৃঢ় করা প্রয়োজন সবার প্রথমে।

খারাপেরও শেষ আছে

কোনোকিছুই চিরকাল ধরে চলতে থাকে না। সবকিছুরই শেষ আছে। কণ্টকবিহীন জীবন যেমন হয় না, তেমনি পুরো জীবন কণ্টকপূর্ণ হবে তাও কাম্য নয়। তাই বর্তমানের কিছু খারাপ সময়ের জন্য কখনোই মনে করা উচিৎ না যে, জীবনের সবকিছু এখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে।

আপনজনদের সাথে মন খুলে কথা বলুন

বিপদে কখনো একা থাকা উচিৎ নয়। একা থাকলে হতাশা গ্রাস করে ফেলতে পারে খুব সহজেই। তাই খুব কাছের কিছু মানুষকে পাশে রাখুন। তাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। এসময় আপনজনদের কাছ থেকে কিছু সান্ত্বনা বাণীও মনে সাহস যোগাতে বেশ কার্যকরী।

নিজেকে প্রেরণাদান করুন

খুব খারাপ সময়ে মানুষ এতটাই ভেঙ্গে পড়ে যে, সামনে এগোবার সাহসটুকু হারিয়ে ফেলে। কিভাবে কি করবে তাও বুঝে উঠতে পারে না। আর হঠাৎ করেই তো পাশে কাউকে নাও পাওয়া যেতে পারে। তাই সবার আগে প্রয়োজন নিজেকে সাহস দেয়া। নিজেকে প্রতি মুহূর্তে প্রেরণা দিতে হবে সামনে এগিয়ে চলার। আত্মপ্রেরণাই আপনাকে মানসিকভাবে দৃঢ় করতে সবার প্রথমে কাজ করবে।

 

আশাবাদী হোন

আশাবাদী মানুষ সকল বাধা বিপত্তি জয় করবেই। আপনি যেকোনো বিপদেই পড়ুন না কেন, আশা বেঁচে থাকলে আপনি সেখান থেকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে পারবেন। সামনে ভালো কিছু হবে, সকল খারাপের নিষ্পত্তি ঘটবে, এমন কিছুর স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে।