বর্তমানে পৃথিবীতে বিষণ্ণতা একটি ভয়াবহ মানসিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন মানুষ এই মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। এই ব্যাধির দরুন অনেক সময় মানুষ আত্মহত্যা পর্যন্ত করে। সাধারণত মহিলারা পুরুষদের থেকে বেশি আক্রান্ত হয়। আমরা আজকে এই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা নিয়ে কথা বলব। কারন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে ডিপ্রেশনের রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে টিনেজ এবং তরুন বয়সেই মানুষ বেশি ডিপ্রেশনের স্বীকার হচ্ছে।

প্রথমেই জেনে নেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা কি?সহজ ভাষায় কোন কারন ছাড়াই অতিরিক্ত মন খারাপ থাকা। কোন কিছুতে মন না বসা। টিনেজ বয়সে সাধারণত সবাই উৎফুল্ল আর প্রানবন্ত থাকে। কিন্তু টিনেজে যখন কেউ ডিপ্রেশনে ভুগে তখন ব্যাপারটি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠে। কারন এই বয়সে ডিপ্রেশনের ফলে তাদের মানসিক পরিবর্তনের সাথে সাথে আচার আচরনও পরিবর্তন হয়। তাদের চিন্তা ভাবনা, অনুভূতি সব কিছুর উপর প্রভাব পড়ে। এবং অনেকসময় তার পরিনতি হয় আত্মহত্যা। কেউ বা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। কেউ বা অন্যান্য অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে।

ডিপ্রেশনের লক্ষনঃ

১। প্রতিনিয়ত মন খারাপ থাকা, রাগান্বিত থাকা।

২। কোন কিছুতে আগ্রহ না পাওয়া।

৩। কোন কাজে মনোযোগ দিতে না পারা।

৪। নিজের সম্পর্কে উচ্চধারনা না থাকা বরং নেতিবাচক ধারনা থাকা।

৫। অতিরিক্ত ঘুমানো কিংবা নিদ্রাহীনতা।

৬। খাওয়াতে অনীহা কিংবা অতিরিক্ত খাওয়া।

৭। কোন কারন ছাড়াই কাঁদতে চাওয়া।

৮। নিজের উপর বিরক্ত থাকা। নিজেকে দোষী মনে করা।

৯। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার হতে দূরে সরে পরা। একা থাকতে পছন্দ করা।

১০। সবসময় ক্লান্তি অনুভব করা।

১১। মাথা বেথা সহ অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগা।

১২। নিজের প্রতি নজর না দেওয়া। নিজের কাজে অনীহা। এবং মৃত্যু কামনা।

উপরের লক্ষণগুলো থাকলে যে কারও উচিত সতর্ক হওয়া এবং পদক্ষেপ নেওয়া। টিনেজ বয়সে সাধারণত কেউ ডিপ্রেশনে ভুগলে পরিবারের অনেকেই ব্যাপারটি তেমন আমলে নেন না। ভাবেন আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। অনেক সময় বাচ্চাদের উলটো আরও অপমান এবং লাঞ্ছনা করা হয়। যার ফল আরও মারাত্মক। তাই ডিপ্রেশনে ভুগলে কোনভাবেই তা অগ্রাহ্য করা যাবেনা।

ডিপ্রেশনের ফলাফলঃ

১। ভয়াবহ শারীরিক সমস্যা।

২। মাদকাসক্ত হওয়া।

৩। মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়া।

৪। নিজের কাজের অবনতি। পড়াশুনা বা নিজের কাজে খারাপ ফলাফল।

৫। পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি।

৬। আত্মহত্যা করতে চাওয়া।

ডিপ্রেশনের প্রতিকারঃ

১। বন্ধু বানানঃ একা থাকলেই মনের মধ্যে বিভিন্ন চিন্তা আসে। তাই উচিত বন্ধু অথবা পরিবারের সাথে থাকা। তাদের সাথে নিজের অবস্থান এবং চিন্তা তুলে ধরতে হবে।

২। নিজের পছন্দের কাজ করুনঃ নিজের শখের কাজ করুন এবং সেগুলোতে সময় দিন। খেলাধুলা ও বিভিন্ন কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।

৩। ভরসা করার মত কাউকে মনে কথা বলুনঃ ভরসা করার মত কোন বড় মানুষকে আপনার কথা বলুন। যে আপনাকে বুঝবেন এমন কেউ। হতে পারে সেটা বাবা ,মা, বড় ভাই বোন, মামা, চাচা, দাদি বা নানি। যাকে মনে হয়ে আপনার। দেখবেন মন যেমন হাল্কা হবে তেমন অনেক ভাল পরামর্শ পাবেন।

৪। ধর্মীয় অনুশাসন মানুনঃ ধর্মীয় ব্যাপারগুলো মেনে চললে ডিপ্রেশন অনেকাংশে দূর হয়।

৫। বড় বা বিখ্যাত মানুষদের জীবনী পরুনঃ যত বিখ্যাত এবং সফল মানুষ আছেন সবাই জীবনের একটা সময় কষ্ট করেছেন। তাঁদের জীবনী পড়লে অনেক নতুন কিছু জানা ও শেখা যায়। মানুষ উৎসাহ পায়। তাই তাঁদের জীবনী পড়ুন এবং ভাবুন তিনি পারলে আপনিও পারবেন।

এখন আত্মহত্যা থেকে মাদক এবং অপরাধে আমাদের তরুন কিশোররা জড়িয়ে পরছে। যার অন্যতম একটি কারন এই ডিপ্রেশন। আমাদের তরুণদের আমাদেরই সাহায্য করতে হবে। তাই ডিপ্রেশন দূর করতে এগিয়ে আসুন। এবং সবাই যেন একটি সুন্দর জীবন পায় সেই ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন। আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়।

তথ্যসূত্রঃ http://www.rcpsych.ac.uk/healthadvice/parentsandyoungpeople/youngpeople/depressioninyoungpeople.aspx

https://www.helpguide.org/articles/depression/teenagers-guide-to-depression.htm

http://www.mentalhealthamerica.net/conditions/depression-teens