আমাদের দেশে সাধারণত বেশ কিছু নির্দিষ্ট পেশার বাইরে অন্য কিছু করাকে অনেকেই অসম্মানজনক মনে করেন। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার কিংবা সরকারি চাকরি ছাড়া অন্য বেশিরভাগ পেশা নিয়ে মানুষের মধ্যে অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যায়। কৃষিশিক্ষা হল এমনি একটি বিষয়। অনেকেই মনে করে কৃষি নিয়ে পড়া মানেই মাঠে ধান চাষ করতে হবে। গরু মুরগী নিয়ে পড়ে থাকতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এই ক্ষেত্রটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুব ভাল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ এই ক্ষেত্রে রয়েছে। আমাদের এই নিবন্ধটি কৃষিশিক্ষা এবং তার খুঁটিনাটি নিয়ে।

প্রথমেই জানা যাক কেন কৃষিশিক্ষা নিয়ে আপনি পড়বেন। কেন আপনি এই পেশাকে বেছে নিবেন। আসুন জেনে নেই কারণগুলো।

  • এই পেশায় চাকরির বাজার অনেক বিশাল। শুধু আমাদের দেশে নয়। বরং বিদেশেও এই পেশার অনেক মূল্য রয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে এই ক্ষেত্রে প্রায় ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৬০০০০ লোক দরকার। তাই পেশা হিসেবে এটি খুব ভাল অবস্থানে আছে।
  • কর্মক্ষেত্র অনেক সুন্দর এখানে। আপনি কৃষিবিদ হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন খুব সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে। অনেক ভিন্নরকম জীবন যাপনের সুযোগ এখানে রয়েছে।
  • আপনি এখানে দীর্ঘমেয়াদী কাজের সুযোগ পাবেন। কারন মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে খেতে হবে। আর তাই এই ক্ষেত্রে আপনাকে কখনো কাজের অভাবে পড়তে হবেনা।
  • কর্মক্ষেত্রে আত্মতৃপ্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর বেশিরভাগ কৃষিবিদ তাদের কর্মজীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে।
  • এছাড়াও এই ক্ষেত্রে বেতন সহ অন্যান্য সুবিধা বেশ ভাল। আপনি দেশ বিদেশ সব জায়গাতেই এর সমাদর পাবেন।

তো আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন কৃষিশিক্ষা পেশা হিসেবে মোটেও ফেলনা নয় বরং খুব ভাল একটি পেশা। এবং সবচেয়ে ভাল ব্যাপার এই পেুল্লর সারা দুনিয়াতে খুব ভাল চাহিদা আছে। এবার আমরা জানি এখানে কি ধরনের কাজ রয়েছে। কৃষিশিক্ষা অনেক বড় একটি বিষয়। এখানে বিভিন্ন বিষয় এবং ধরন রয়েছে। আপনি চাইলে পছন্দমত বিষয় নিয়ে পড়ে কাজ করতে পারবেন। আমরা নিছে কাজগুলো সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

  • খামারিঃ খামারি হিসেবে যারা কাজ করেন তারা শস্য অথবা গবাদিপশু অথবা দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করেন। তারা সরাসরি মাঠে কাজ করেন। এই কাজের জন্য শারীরিক ক্ষমতা দরকার। এখানে কাজের ধরন বদলায়। সময়ের সাথে সাথে। এখানে শস্য দানা চাষ করা, বীজ রোপণ, কিটনাশক দেওয়া এবং ফসল তোলার মত কাজগুলো করতে হয়। আর পশুপাখি নিয়ে কাজ করলে সেগুলর দেখভাল করা, তাদের থেকে উৎপন্ন সামগ্রী সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার মত কাজ করতে হয়।

·       খামার ব্যবস্থাপকঃ খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে যারা থাকে তাদের কাজ হল পরিকল্পনা করে খামারের যাবতীয় কাজের দেখভাল করা এবং হিসাব রাখা। খামার ব্যবস্থাপকের খুব ভাল ব্যবসায়িক দক্ষতা থাকা লাগবে এবং খামারের কাজ নিয়ে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। কারন খামারের অর্থনৈতিক হিসাব তাকে দেখতে হবে।·       খামার পরামর্শকারী ঃ খামার পরামর্শকারীদের কাজ হল কৃষক এবং খামারিদের পরামর্শ দেওয়া। কোন ধরনের শস্য চাষ করলে ভাল লাভ হবে। কীভাবে পশুদের খাওয়াতে হবে, বৃষ্টির সময় ফসলের কি করতে হবে ইত্যাদি পরামর্শ  দিবে।

  • কৃষিবিদঃ কৃষিবিদগণ কৃষকদের সাথে কাজ করেন এবং ফসলের বীজের গুনাগুণ নিশ্চিত করেন। তাদেরকে “ শস্যের ডাক্তার” বলা হয়। তারা কোন বীজে ভাল ফসল হবে এবং বেশি ফসল পাওয়া যাবে এই বিষয়গুলো দেখেন।

উপরোক্ত বিষয় ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয় রয়েছে কৃষিশিক্ষায়।

আপনি কৃষিশিক্ষায় পড়ে বিদেশে বৃত্তি নিয়ে পড়তে যেতে পারবেন। কাজের জন্য অনেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষন করে। আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে আপনি খুব ভাল কাজ পেয়ে যেতে পারেন।

তাই কৃষিশিক্ষাকে আপনি খুব ভাল একটি পেশা হিসেবে ভাবতে পারেন। আমাদের দেশে খুব ভাল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মান খুব ভাল। ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে এখানে পড়ার সুযোগ পেতে হয়।

তথ্যসূত্রঃ https://ypard.net/news/beginner%E2%80%99s-guide-careers-agriculture-and-farming