“কাল সকাল ৬টায় উঠবো আর পড়তে বসব” । “ কাল ভরে উঠে হাঁটতে যাব”। “ কাল সকাল ৮টার ক্লাস আমি করবই”। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই কথাগুলার বাস্তব রুপ আমরা দিতে পারিনা। দেখা যায় যার ভোর ৬ টায় উঠে পড়ার কথা সে সকাল ১০টায় চোখ মেলে। যার হাঁটতে যাওয়ার কথা তার সকাল শুরু হয় প্রচণ্ড তাড়াহুড়ায় অফিস লেট হবার ভয় নিয়ে। আর ৮ টার ক্লাস টা কেউ কেউ আর ধরতেই পারেনা। কারো সকাল আবার শুরু হয় বাবা মা কিংবা বড় ভাই বোনের ধমকের সুরে। কি করবে বাবা মা? আধা ঘণ্টা ধরে ডেকেও যে উঠেনা ঘুম থেকে কেউ কেউ।

এদিকে স্কুল কলেজ এর লেট। সকালে ঘুম থেকে উঠাটা খুব কঠিন আমাদের অনেকের জন্য। হাজার চেষ্টা, মোবাইল আর ঘড়িতে ১০ টা অ্যালার্ম দিয়েও কাজ হয়না। কীভাবে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠবেন? আজকে আমি সেই বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলব। তবে শুরুতেই বলে রাখি পুরো ব্যাপারটি নির্ভর করে ইচ্ছাশক্তির উপর। আপনার ইচ্ছাশক্তি আর সাথে একটু কৌশল দিয়ে আপনি এই মারাত্মক কঠিন অভ্যাসটি খুব সহজেই রপ্ত করে নিতে পারবেন।

১। ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ুন – আপনি যদি প্রতিদিন সকাল ১০টায় ঘুম থেকে উঠেন তাহলে প্রথম দিনেই সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠা আপনার জন্য কষ্টকর হবে। আপনি সারাদিন ক্লান্ত অনুভব করবেন। আর কোন কাজেই তেমন আগাতে পারবেন না। তাই ধীরে ধীরে সময় বদলান। প্রথমে ৯.৩০ এ উঠুন কিছুদিন। এরপর ৮.৩০। এরপর ৭টা। এভাবে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ুন।

২। উত্তেজনা নিয়ে উঠুনঃ ধরুন আপনার কাল ভোর ৭টায় কক্স বাজার যাওয়ার বাস। আপনি কি ওইদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমাবেন? আপনি কোন অ্যালার্ম ছাড়াই উঠে যাবেন ভোরবেলা। কারন আপনি উত্তেজিত এবং খুশি আপনার কালকের দিন নিয়ে। ঠিক এভাবেই রোজ রাতে এমন কিছু ভেবে রাখুন যা আপনি পরদিন করবেন যে জিনিস আপনাকে আনন্দ দেয়। আপনাকে খুশি করে। হতে পারে সেটা কিছু মজাদার রান্না কিংবা কোথাও যাওয়া, কোন বই পড়া।

৩। অ্যালার্ম দূরে রাখুনঃ অ্যালার্ম দূরে স্থাপন করুন। বেশ দূরে। যেন আপনাকে বেশ কিছু সময় হাঁটা লাগে অ্যালার্ম বন্ধ করতে। এর ফলে আপনি বিছানা থেকে উঠে যাবেন। এবং ঘুম অনেকটাই ভেঙ্গে যাবে। খুব ভাল হয় যদি অ্যালার্ম টোন খুব কর্কশ ধরনের শব্দ দেন।

৪। রাতে দ্রুত ঘুমাতে যানঃ রাতে দেরি করে ঘুমালে স্বাভাবিকভাবেই ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। তাই রাতে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে যাওয়া উচিত। তাছাড়া রাত জাগার অনেক কুফল রয়েছে। বেশি রাত জেগে থাকা উচিত নয়।

৫। ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র দূরে রাখুনঃ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ইলেকট্রিক যন্ত্র বিছানায় নিবেন না। কারন এই ইলেকট্রিক যন্ত্রগুলো অনেক সময় নষ্ট করে। আপনার রুমকে যথাসম্ভব ঘুমের উপযোগী করুন। যেন ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে।

৬। ব্যায়াম করুনঃ নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর যেমন ভাল থাকে, ঘুমের উপরও তার ভাল প্রভাব পড়ে। ব্যায়াম করলে রাতে ঘুম ভাল হয়। এবং সকাল এ শরীর ঝরঝরা এবং তাজা লাগে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন তারা সকালে উঠতে তেমন সমস্যা বোধ করেন না।

৭। ঘুম থেকে উঠে করনীয়ঃ ঘুম থেকে উঠেই পানি খাবেন। এরপর আপনার পছন্দমত কোন কাজ করুন। যদি বাইরে হাঁটতে যেতে ভাল লাগে তাহলে বাইরে যান। অথবা সুযোগ পেলে ছাদে। গাছ ভাল লাগলে বারান্দা অথবা ছাদে টবে গাছ লাগিয়ে সেগুলো নিয়ে কিছু সময় কাটাতে পারেন। অথবা নতুন কোন কিছু রান্না করতে পারেন নাস্তার জন্য। মোটকথা যেই কাজ আপনার ভাল লাগে সেই কাজটি কিছু সময় ঘুম থেকে উঠে করুন।

উপরোক্ত অভ্যাসগুলো একটু কষ্ট করে কিছুদিন করলেই দেখবেন আপনি খুব সহজেই ভোরে ঘুম থেকে উঠতে পারছেন। আপনার মনোবল দৃঢ় থাকলে তবেই আপনি সফল হতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ https://zenhabits.net/early/

http://www.keepinspiring.me/13-ways-to-wake-up-early-even-if-youre-a-night-owl/