গৃহশিক্ষক বা টিউটর শব্দটি অচেনা হবার কথাই নয়। বহু আগে থেকেই মানুষ তাদের স্কুলে যাওয়া ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার অগ্রগতির জন্য গৃহশিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কিন্তু এখন গৃহশিক্ষকের যেমন অভাবও নেই, তেমনি শিক্ষার্থীরও কোন অভাব নেই। তাই গৃহশিক্ষকতাও এখন প্রতিযোগিতার বাজারে নেমে পড়েছে। তাই একজন ভাল গৃহশিক্ষক হওয়া এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি নিজে ভাল ছাত্র বা ছাত্রী হয়েও থাকেন, তাহলে কিন্তু ভেবে থাকবেন না যে আপনি একজন ভাল গৃহশিক্ষকও হবেন। পিছনের বেঞ্চে বসা, পরীক্ষায় কম নাম্বার পাওয়া অনেকেই কিন্তু গৃহশিক্ষক হিসাবে সুনাম কুড়াতে পারে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, ভাল গৃহশিক্ষক হবার জন্য কিছু কলাকৌশল আছে এবং সেগুলো সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে পারলেই আপনি দশে দশ পাবেন।

চলুন, ভাল গৃহশিক্ষক হবার জন্য এবার আপনাদের কিছু কলাকৌশল শিখিয়ে দেয়া যাক।

 

১ম পর্ব: শিক্ষার্থী মূল্যায়ন

 

১। প্রথমেই জানার চেষ্টা করুন আপনার ছাত্র/ছাত্রী ইতিমধ্যে কি জানে: পরিচিতি পর্বটা সবার আগেই সেরে ফেলুন। তারপর আপনার ছাত্র/ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করুন সে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে কতটুকু জানে। এতে করে আপনার সময় অনেকটাই বেঁচে যাবে এবং একই সাথে আপনি তার পড়াশোনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাকে জিজ্ঞেস করুন ঐ নির্দিষ্ট বিষয়ের কোন অংশে সে নিজেকে ভাল মনে করে এবং কোন কোন অংশগুলো সে উপভোগ করে।

 

২। জিজ্ঞেস করুন কোন কোন অংশে সে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে: শিক্ষার্থীরা ভাল করেই জানে তারা নিজে কোথায় দুর্বল। তাই তাদের কাছ থেকে ভাল করে জেনে নিন তারা কোন কোন অংশে নিজেকে দুর্বল মনে করে। তারপর নিজের সুবিধার জন্যই সেগুলোর একটা তালিকা করে নিন।

 

৩। দুজনে মিলে কিছু লক্ষ্য ঠিক করুন: বড় এবং ছোট লক্ষ্যগুলোকে ঠিক করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করুন। এখানে অবশ্যই শিক্ষার্থী এবং গৃহশিক্ষক দুজনকেই একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। বড় লক্ষ্যগুলোর জন্য কিছুটা বেশি সময় এবং ছোট লক্ষ্যগুলোর জন্য তুলনামূলক কম সময় নিয়ে কাজে নেমে পড়ুন।

 

৪। শিক্ষার্থীর অগ্রগতিগুলো চিহ্নিত করুন: একটি তালিকা প্রস্তুত করুন যা আপনাকে এবং আপনার ছাত্র/ছাত্রীকে বুঝতে সহায়তা করবে যে সে আপনার সেশনে এবং ক্লাসে কতটুকু উন্নতি করতে পেরেছে।

 

২য় পর্ব: পড়ানোর গঠনকৌশল

 

১। সর্বশেষ যা পড়ালেন তার উপর কিছু প্রশ্ন তৈরি করুন: একটি বিষয়ের নতুন কোন অংশ শুরু করার পূর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনার শিক্ষার্থীকে আগে যা পড়ানো হয়েছে তার সবটুকু সে ভালভাবে বুঝতে পেরেছে। এর জন্য পূর্ববর্তী অংশ থেকে তাকে কিছু প্রশ্ন করুন। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন পূর্বের অংশগুলো বুঝতে তার কোন সমস্যা হয়েছে কিনা।

 

২। স্কুল থেকে দেয়া বাড়ির কাজে শিক্ষার্থীকে সাহায্য করুন: শুধু নিজের দেয়া পড়াগুলোর দেখভাল করলেই হবে না। একজন ভাল গৃহশিক্ষক হিসেবে আপনার উচিৎ শিক্ষার্থীর স্কুল থেকে দেয়া বাড়ির কাজ বা এসাইনম্যান্টগুলো তৈরিতে তাকে সাহায্য করা। এতে করে তার স্কুলের পড়াশোনার উন্নতি হবে এবং আপনি আরও ভাল গৃহশিক্ষকের খেতাব পাবেন।

 

৩। সফল হবার সুযোগ দিন: শিক্ষার্থীকে নিরুৎসাহ করে কখনো আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না। তাই মাঝে মাঝে কিছু সহজ প্রশ্ন করে তাকে সফল হতে দিন। এতে করে সে নিজের প্রতি আস্থা হারাবে না।

 

৪। পড়ানোর মাঝে কিছুটা সময় বিরতি দিন: অনেকক্ষণ পড়াশোনা করলে পড়ায় মন বসতে সমস্যা হয় বইকি। তাই পড়ানোর মাঝে শিক্ষার্থী কে মিনিট পাঁচেক বিরতি দিন। এতে করে সে কিছুটা সময় চাপমুক্ত হবে এবং সতেজ হবে।

 

৫। শিক্ষার্থী যেভাবে শিখতে চায়, আপনার শেখানোর ধরণ সেভাবে তৈরি করুন: সব শিক্ষার্থী একই পদ্ধতিতে শিখতে পারে না। কিছু শিক্ষার্থীকে সময় দেয়া হলে তারা নিজেরাই নিজেদের পড়া সম্পন্ন করতে পারে। আবার কিছু শিক্ষার্থী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে যদি আপনি কোন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে তাদের শেখান। আপনার শিক্ষার্থী যদি শুনতে বেশি পছন্দ করে, তাহলে তাকে কথা বলতে বলতে বোঝানোর চেষ্টা করুন। যদি কেউ আঁকিবুঁকির মাধ্যমে শিখতে বেশি পছন্দ করে তাহলে তাকে বিভিন্ন ছবি, গ্রাফিক্স বা চার্টের মাধ্যমে শেখানোর চেষ্টা করুন।

 

৩য় পর্ব: সম্পর্ক তৈরি

 

১। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন: আপনি যদি কড়া প্রকৃতির গৃহশিক্ষক হন তাহলে আপনার এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হবে। তাই তার সাথে একজন বন্ধু হিসেবে আচরণ করুন। এতে করে সে আপনার সাথে তার ব্যর্থতার বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে লজ্জা পাবে না।

 

২। শিক্ষার্থীর পিতা-মাতার সাথে খোলাখুলি আলোচনা করুন: শিক্ষার্থীর পড়াশোনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পিতা-মাতাকে অবগত করুন। শিক্ষার্থীরা নিজ বাসায় মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে কিনা তা জানার চেষ্টা করুন।

 

এসব কৌশল যদি আপনি যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি আপনার এই পেশায় উন্নতি করতে পারবেন।

সুত্রঃ উইকি হাউ