এইতো! সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি হটাত আপনাকে জেঁকে বসেছে। আপনি চান সব পড়া এখন ই শেষ করে ফেলতে, কিন্তু আপনি জানেন হটাত কিছুক্ষন পরেই কি হবে। আপনার ইচ্ছাগুলো সব নেতিবাচক চিন্তার মধ্যে হারিয়ে যাবে। ব্যাপারটা ঠিক এমন যে আপনার চোখটা বন্ধ ছিল এতোক্ষন, হটাত করেই কি হল? চোখ খুলে দেখলেন আপনি অন্য আরেক জগতে।

আপনি পড়তে ঠিক ই চাচ্ছেন কিন্তু হটাত করে আপনি সঠিকভাবে চিন্তা ও করতে পারছেন না যে এখন কি করতে হবে। ঠিক এমনটাই হয়না আপনার সাথে? আপনি যদি আপনার এই নেতিবাচক চিন্তাগুলোর সাথে লড়তে না জানেন তাহলে এই এক ই সমস্যার সম্মুখীন আপনাকে বার বার হতে হবে। আপনি বার বার এভাবে বাস্তবতার সামনে এসে দাঁড়াবেন এবং বাস্তবতা আসলেই অনেক কঠিন।

আপনার কাছে পড়াশোনাকে পানসে মনে হতে পারে, কিন্তু তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব এবং পড়াশোনাকে উপভোগ করতে শেখাও সম্ভব। পড়াশোনার জন্য একটি সাচ্ছন্দনীয় স্থান নির্ধারণ করে নিন এবং কিছু দিন পরপর তা পরিবর্তন করুন। এর জন্য একজন উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে নিতে পারেন। এভাবে পড়াশোনাকে একটি সামাজিক কার্যক্রমে পরিণত করুন। মাঝে মাঝে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে ক্লান্তি দূর করে নিতে হবে অবশ্যই এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য নিজেকেই পুরষ্কৃত করুন। একটা সময় দেখবেন, অন্য কিছুর চাইতে আপনি পড়াশোনাকে বেশি ভালেবাসতে শুরু করেছেন!

একটি সাচ্ছন্দনীয় স্থান নির্ধারণ করা

এলোমেলো জিনিসপত্র মনোযোগ নষ্ট করতে পারে, পড়াশোনায় নিরুৎসাহিত করতে পারে। পড়ার টেবিল অথবা অন্য যেখানে পড়াশুনা করবেন, সে জায়গাটি পরিষ্কার করে নিন এবং প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখুন।

পড়াশোনার সময়টাকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে নিশ্চিত করুন যে মনোযোগ নষ্টকারী কোন বিষয়ই যাতে না থাকে। টিভি, রেডিও, কম্পিউটার বন্ধ করে রাখুন এবং ফোন, ভিডিও গেইমস এবং অপ্রয়েজনীয় পড়ার বিষয়গুলো দূরে সরিয়ে রাখুন। এই কাজগুলো করতে পারলে আপনি পড়াশোনাকে উপভোগ করতে পারবেন। যদি আপনি কম্পিউটারে পড়াশোনা করেন তবে, ব্রাউজারে মনোযোগ নষ্টকারী ওয়েবসাইটগুলো ফিল্টার করতে প্রয়োজনীয় এ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে নিন।

পড়াশোনাকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা

পড়াশোনার জন্য রঙিন উপকরণ ব্যবহার করুন। সর্বদা নোট টুকে রাখার জন্য উজ্জল এবং বিভিন্ন রঙের কলম, কাগজ, নোট কার্ড, স্টিকার, হাইলাইটার ইত্যাদি ব্যাবহার করুন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এভাবে বিভিন্ন রঙের ব্যবহার কাজটিকে মজার আর আপনার মস্তিষ্ককে আরো সক্রিয় করে তুলবে, যা পড়াশোনাকে আরো ধারণ করতে সাহায্য করবে।

পড়াশোনার সময় আবহ সঙ্গীত বাজাতে পারেন। হালকা সঙ্গীত পড়াশোনাকে আরো উপভোগ্য, এবং মনোযোগকে স্থির রাখতে সাহায্য করবে। ধীরগতির গান অথবা সিনেমার হালকা গানগুলো বাজাতে পারেন স্বাভাবিক শব্দে, তবে উচ্চ আওয়াজে কিংবা কর্কশ কিছু মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।

শিক্ষণীয় ভিডিও দেখতে পারেন। পাঠ্যবই এবং ক্লাস নোট থেকে পড়াশোনা অনেক সময় বিরক্তিকর, তাই উন্নতির জন্য সেই বিষয়ে বিভিন্ন ভিডিও খুঁজে নিন। শেখার ক্ষেত্রে ভিডিও অনেক প্রভাব রাখে, কারণ এটি শিক্ষর্থীরদের আরো বেশি মনোযোগী করে তুলতে পারে।

অন্যান্য মানুষদের সাথে মিলে পড়াশোনা

পড়াশোনার জন্য একটি গ্রুপ তৈরী করুন। একটি সাধারণ লক্ষ্যে, যেমন বড় কোন পরীক্ষার জন্য কিছু সহযোগীকে জড়ো করুন। নিয়মিত দেখা করার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করুন, যেমন লাইব্রেরী।

গ্রুপের সুবিধাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে ভাগাভাগি করে কোন বিষয়ের উপর পড়াশুনা করে একসাথে জটিল কোন বিষয় সমাধান করুন। অনেকের সাথে মিলে পড়াশোনা করলে অনেক বিরক্তিকর অথবা কঠিন বিষয়গুলো সহজেই আয়েত্তে আনা যায়। এটি সামাজিক ভাবে পড়াশোনাকে আরো মজার করে তুলবে, তাছাড়া এটি নতুন বন্ধু তৈরী করারও একটি মাধ্যম বটে।

নিজেকে বিশ্রাম এবং পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে

পড়াশোনার সময় নিয়মকরে বিরতির ব্যবস্থা করুন। এই বিশ্রাম চাপ কমিয়ে আনবে এবং পড়াশোনাকে মনে রাখতে সাহায্য করবে। যদি সহযোগীর সাথে মিলে পড়াশোনা করেন, তবে এই বিরতিগুলো পড়াশোনার সময় মনোযোগ নষ্ট হওয়ার বিষয়টি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

পড়াশোনার সময় হাত ঘড়ি কিংবা এলার্ম ব্যবহার করুন, সময় নির্ধারণের জন্য। বিরতির সময়টুকুতে ছোটখাটো কাজ যেমন হালকা ব্যায়াম, অথবা একটু হেটে আসা, হালাকা কিছু খাওয়া অথবা বন্ধুদের সাথে ফোনে কথা বলা যেতে পারে।

পড়াশোনার শুরুতে কিছু লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিন যেগুলো অর্জন করলে আপনি নিজেই নিজেকে পুরস্কৃত করবেন। সেটা হতে পারে খাওয়া-দাওয়া, অথবা কোন বিনোদন অথবা অবসর কাটানো।

এমন পুরস্কার নির্ধারণ করুন, যা উপভোগ করতে বেশি সময় লাগবে যেমন প্রতি ২ ঘন্টা পড়াশোনার জন্য, আধ ঘন্টা করে কোন এপিসোড দেখা। যদি খাবার-দাবার নির্ধারণ করেন, তবে সুস্বাস্থকর খাবারগুলো নির্ধারণ করুন।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে বড় কোন লক্ষ্য পূর্ণের জন্য নিজেকে উৎসাহিত করতে, আপনার কঠোর পরিশ্রমের জন্য বড় কোন পুরস্কার নির্ধারণ করুন। মনে এইরকম উত্তেজনাপূর্ণ অনুপ্রেরণা পড়াশোনার বিষয়টাকে আরো উপভোগ্য করে তুলবে।

Wiki How