যখন কোন ব্যক্তি নিজের দেশ তথা নিজস্ব সংস্কৃতি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো সংস্কৃতিতে গিয়ে উপস্থিত হওয়ায় প্রাপ্ত অভিজ্ঞতাই হল কালচারাল শক বা সাংস্কৃতিক ধাক্কা।

স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অপরিচিত কোনো জায়গায় গিয়ে নিজেকে তাৎক্ষনিকভাবে খাপ খাওয়াতে পারে না। কিছুটা সময় লেগেই যায়। সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দেশ, ভাষা, আবহাওয়া, মানুষ, আচার-আচরণ, সংস্কৃতিতে ভিন্নতা এবং এরকম নানান অপিরিচিত পরিবেশ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেকে খাপ খাওয়ানো একটু মুশকিলই বটে।  আর এই ভয় থেকেই মানুষ সাংস্কৃতিক ধাক্কা বা কালচারাল শক- এর অভিজ্ঞতা পেয়ে থাকে।

আপনি যেকোনো কারণেই অন্য একটি দেশে যেতে পারেন। হয়ত ভ্রমণের জন্য, কিম্বা উচ্চতর শিক্ষা বা দেশান্তরের উদ্দেশ্যে। তবে সেটি যতই দীর্ঘতর সময়ের জন্য হবে, আপনি তত বেশি কালচারাল শকের অভিজ্ঞতা হবে। ভিন্ন দেশের খাবারও আপনি খুব সহজে গ্রহণ করতে পারবেন না। আর আবহাওয়ার কথা না বললেই নয়। কেউ হয়তো গ্রীষ্মপ্রধান দেশের মানুষ। কিন্তু তিনি যখন একটি শীতপ্রধান দেশে যাবেন, আবহাওয়াগত দিকটি তার জন্য একটি চিন্তার বিষয় পরে পরে। এর মানে হচ্ছে, প্রতি পদক্ষেপেই আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে।

কিন্তু তাই বলে কি সাংস্কৃতিক ধাক্কার ভয়ে অন্য কোন পরিবেশ বা সংস্কৃতিতে মানিয়ে নিতে পারবেন না? অবশ্যই পারবেন। তবে কিছুদিকে বিশেষ নজর রাখলে আপনি অনেক তাড়াতাড়ি এই ধাক্কা সামলে নিতে পারবেন।  আসুন এমনই কিছু কৌশল জেনে নেয়া যাক।

১। আপনার পারিপার্শ্বিকতাকে গ্রহণ করুন

আপনার চারপাশে যা ঘটছে তা মেনে নেবার মত করে নিজের মনকে তৈরি করুন। বাইরের ব্যাপারগুলো কখনো চাপ হিসেবে নিবেন না। যে মুহূর্তে যেখানেই থাকুন না কেন সেটিকে নিজের ভাবার চেষ্টা করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি নতুন পরিবেশকে নিজের ভাবা শুরু করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি মনে স্বস্তি খুঁজে পাবেন না।

২। আপনার মনের অবস্থা কারও সাথে শেয়ার করুন

নতুন জায়গায় আপনি নিজেকে হতাশ ভাবতেই পারেন। প্রথম কিছুদিন সব কিছুকেই আপনার কাছে বিরক্তিকর মনে হতে পারে। খুব সহজ একটি বিষয়কেই হয়তো আপনার কাছে জটিল মনে হতে পারে। তাই ঘরের এক কোণে একলা বসে না থেকে অন্যদের সাথে কথা বলুন। সেই অন্য কেউটা হতে পারে নতুন দেশের নতুন কোনো বন্ধু, আপনার রুমমেট বা আপনার প্রফেসর। তাদের কাছে আপনার মনের অবস্থা শেয়ার করুন। দেখবেন আপনার মনের ভার কিছুটা কমে গিয়েছে।

৩। বাড়ির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন

আপনি যেখানেই যান না কেন, নিজ বাড়ি বা পরিবারের মানুষের সাথে যোগাযোগ করবেনই। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ নতুন দেশে হুটহাট করেই নতুন বন্ধু পাওয়া যায় না। তাই নিজ বাড়ির মানুষের সাথে নতুন জায়গা নিয়ে গল্প করুন। নিজেকে যখনই একা মনে হবে তখনই আপনজনদের সাথে কথা বলুন। প্রয়োজনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের একবার দেখেও নিন। তবে মনে রাখবেন, এই যোগাযোগটি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাতে কখনো না হয়। কারণ এতে করে বাড়ির প্রতি আপনি খুব বেশি দুর্বল হয়ে পরবেন।

৪। সকলের সাথে মেশার চেষ্টা করুন

নতুন পরিবেশে আপনার আশেপাশের মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করুন। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ বা প্রতিবেশীদের সাথে পরিচিত হোন। তাদের জানতে চেষ্টা করুন। তাদের কাছেই তাদের দেশ এবং সংস্কৃতি নিয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করুন। দেখবেন তারা আপনাকে কিভাবে সাদরে গ্রহণ করে।

৫। ভ্রমণ করুন

নতুন দেশে গিয়েছেন, কিন্তু সে দেশের কোনো দর্শনীয় স্থান যদি ঘুরে না দেখেন, তাহলে আপনার জীবনের সবটুকুই বৃথা। ছোটখাটো একটি গ্রুপ বা দল করুন। আর সেই গ্রুপে যদি সে দেশেরই একজন বন্ধুকে সাথে রাখতে পারেন, তাহলে সেটা খুবই ভাল হয়। তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যান এবং সেই স্থান সম্পর্কে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করুন। মন ভরে সবকিছু উপভোগ করুন। দেখবেন সাংস্কৃতিক ধাক্কা আপনি কিভাবে সামাল দিচ্ছেন।

নতুনদেশ বা সংস্কৃতিকে কখনো ভয় হিসেবে মনে করবেন না। এটিকে সহজভাবে নিন। ভিন্ন সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখুন। অন্যদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। নতুনকে সাগ্রহে গ্রহণ করুন এবং উপভোগ করুন। নতুন পরিবেশ বা সংস্কৃতিকে ধাক্কা হিসেবে না নিয়ে আলিঙ্গন করুন।

সুত্র