দেশে ক্রমবর্ধমান ব্যায়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি আয়মূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থী দের অংশ নেওয়াটা জরুরী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরিবারের প্রতি স্বাবলম্বিতা কমিয়ে নিজে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা করে। তবে তা যেন শিক্ষার্থী দের আসল উদ্দেশ্য লেখাপড়া থেকে চোখ সরিয়ে না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি খন্ডকালীন চাকরি যে পরিপূর্ণ পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায় তা মানেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও। তবে অন্য উপায় না থাকায় পড়াশোনা ও কাজের মধ্যে কীভাবে সেরা সমন্বয় সৃষ্টি করা সম্ভব তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এ লেখনীর উদ্দেশ্য একটি আর তা হলো এ সমন্বয় সাধনে সহায়তা করা।

১. প্রথমে দেখুন আদৌ আপনার খন্ডকালীন চাকরী প্রয়োজন কিনা:

প্রথমে অনুধাবন করুন যে আসলেই আপনার বাড়তি আয়ের উৎস সৃষ্টি করা প্রয়োজন কিনা। যদি একান্ত প্রয়োজন না হয় তবে পূর্ণ মনোযোগ পড়াশোনার প্রতি নিবদ্ধ করাই শ্রেয়। আর যদি প্রয়োজন হয় তবে নিজের প্রয়োজন মাফিক যথাসম্ভব কম সময় কাজের পেছনে দেয়া উচিত।

২. বেশি কাজ থেকে বিরত থাকা:

ছাত্রজীবনে বা প্রথম প্রথম আয় করার অনুভূতি সবসময় ই অসামান্য। তবে তা যেনো প্রলোভন না হয়ে যায় সেদিকে সচেষ্ট থাকতে হবে। প্রয়োজনের অধিক সময় কর্মক্ষেত্রে না দেয়াটাই শ্রেয়।

৩. নিজের ক্যালেন্ডার তৈরী:

নিজের একটি ব্যাক্তিগত সময়সূচি, রুটিন, ক্যালেন্ডার বা নির্ধারিত শিডিউল তৈরী করাটা অবশ্য করণীয়। ফলে পড়াশোনার প্রতি মনোনিবেশ ও একই সাথে কাজে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। এ শিডিউল হতে হবে ক্লাসসূচি ও কর্মসূচির সমন্বয়ে গঠিত। এক্ষেত্রে সিনিয়রদের ও শিক্ষকদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে যা খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

৪. সময়ের সঠিক ব্যবহার :

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার প্রতি সবথেকে বেশি সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে তা হলো সময়ের সঠিক ব্যবহার। কাজের সময়ে কাজ ও পড়ার সময়ে পড়া। একটির সাথে অপরটির ক্রস কানেকশন হলে তা খারাপ ফল বয়ে আনবে যদিও এর থেকে দূরে থাকা বেশ চ্যালেঞ্জিং। সময়ের কাজ সময়ে করতে না পারলে তা ভবিষ্যতে চাপ বাড়াবে ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। যা আত্মবিশ্বাস হীনতায় ভোগাতে পারে। সুতরাং সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৫. ক্লাস উপস্থিতি ভাল করা ও তা ধরে রাখা:

কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ক্লাস করে যাওয়াটা প্রায় অসম্ভবের কাছে তবে চেষ্টা করতে হবে যতটা সম্ভব অধিক ক্লাসে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। কোনো ক্লাস লেকচার যদি মিস হয়ে যায় তবে পরবর্তীতে তা পুনরায় পড়া বেশ সময়লব্ধ ব্যাপার ও ফল ও আশানুরুপ হবে না। তাই যতটুকু পারা যায় চেষ্টা করতে হবে ক্লাস মিস না করার।

৬. অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার:

গ্রীষ্মকালীন, শীতকালীন সহ বছরের বিভিন্ন সময়ে বড় ধরনের অবকাশ পাওয়া যায়। এই অবকাশ কে উপযুক্তভাবে কাজে লাগাতে হবে। কর্মক্ষেত্রে অথবা পড়াশোনায় কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা এই সুযোগে পূরণ করতে হবে। সুতরাং অবকাশে নিজের জন্য সময় রাখার পাশাপাশি পূর্বের ঘাটতি ও পূর্ণ করতে হবে যাতে তা ভবিষ্যতে কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে।

৭. নিজের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা:

কেবলমাত্র কাজ ও পড়াশোনার জন্য জীবন নয়, জীবন উপভোগ করার জন্যেও বটে। কেবলমাত্র ভবিষ্যত নিয়ে ছোটাছুটি করাটা সমীচীন নয়, কখনো কখনো বর্তমান কে ও উপভোগ করতে হয়। নিজের জন্য বরাদ্দ করতে হয় আলাদা কিছু সময়। অন্যথায় বাড়তি মানসিক চাপ স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাঘাত ঘটাবে। সুতরাং হাজার ব্যাস্ততা ও চাপের মাঝে ও নিজের জন্য আলাদা করে সময় বরাদ্দ রাখা উচিত যা জোগাবে বাড়তি মানসিক প্রশান্তি।

Life is not a bed of roses. জীবন চরাই-উতরাই এ পূর্ণ। ভাল সময়ের পাশাপাশি আসবে কঠিন সময় বা বাজে সময় ও। এ সময়ে চাপ, কষ্ট শেয়ার করা যেতে পারে কাছের মানুষদের সাথে যা বোঝা অনেকটাই লাঘব করে দেয়। কঠিন সময়ে প্রিয় মানুষগুলোর সান্নিধ্য সময়টাকে বদলে দেয়। সুতরাং, এসময়ে কঠিন কোনো পদক্ষেপ একা নেয়া কষ্টকর হতে পারে তাই, কাছের মানুষদের সাথে আলোচনা করে সমস্যা অতিক্রম করাই শ্রেয়।

 

Source:

https://www.savethestudent.org/student-jobs/balancing-a-job-and-study-at-university.html