বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার সাথে সাথে  প্রযুক্তি ও প্রতিনিয়ত উন্নত থেকে উন্নততর হচ্ছে। আর এ সুবিধাগুলোর কারণে প্রতিনিয়ত মানুষের জীবনধারা বদলে যাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে যাচ্ছি আমরা। আপনার দক্ষতাই আপনাকে প্রতিযোগিতামূলক চাকরি বাজারে সবার চেয়ে ভাল অবস্থানে থাকতে সাহায্য করবে এবং বয়ে আনবে আপনার কর্মজীবনে সাফল্য

একজন প্রার্থীকে চাকরির জন্য যেই দক্ষতাগুলো দরকার সেগুলো ছাড়াও কিছু বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হয় নিজের প্রয়োজনেই। এই লেখাটিতে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ওইসব দক্ষতাকে তুলে ধরার চেষ্টা করবো যা আপনাকে অপ্রতিরোধ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে সাহায্য করবে।

সৃজনশীল চিন্তাভাবনা

মানুষের অসাধারন সৃজনশীল সব চিন্তা-ভাবনার ফসল হচ্ছে আমাদের আজকের উন্নত বিশ্ব। আপনি যখন নতুন কোন কাজ করবেন বা নতুন কোন অভিজ্ঞতা আপনার হবে তখন ই আপনার সৃজনশীলতার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটবে। কোন বিষয় সম্পর্কে পুরোপুরি না জানলে সে বিষয়ে সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা কখনই কারো মাথায় আসবেনা। কোনকিছুর উপর বিশেষ অভিজ্ঞতা থাকলে সেটা আপনাকে আপনার সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা

কর্ম ক্ষেত্রে বিশ্লেষনধর্মী চিন্তাভাবনা সম্পন্ন মানুষের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে। কোন সমস্যার খুঁটিনাটি  বিশ্লেষণ করে সেটার যৌক্তিক সমাধান বের করে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সেগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাই করাকেই বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাভাবনা বলে।

সমস্যার সহজ সমাধান

কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক কাজকর্মের পাশাপাশি জটিল ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর জটিল সমস্যার সহজ সমাধানের উপায় খুঁজে তার উপযুক্ত প্রয়োগ ই আপনার দক্ষতা নিরুপনে সহায়তা করবে। বাহ্যিক জ্ঞান, কাজের পরিধি এবং অভিজ্ঞতা এই ধরনের দক্ষতা অর্জনের সহায়ক।

সবার সাথে সমন্বয় সাধন

কর্মক্ষেত্রে অন্যান্য সবার সাথে সমন্বয়সাধন করার দক্ষতা অর্জন করা জরুরী। এজন্য কার্যকরী যোগাযোগে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি আপনার কথা অপরকে বোঝানোর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। দলীয় লোকদের মন-মানসিকতা বুঝতে হবে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর মানুষদের সাথে মেশার মানসিকতা থাকতে হবে।

মানসিক বুদ্ধিমত্তা

বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তারা মনে করছেন ভবিষ্যতে অনুপ্রাণিত করা, মানসিক বুদ্ধিমত্তা এবং শেখানোর মত গুন, এই দক্ষতাগুলোর খুবই চাহিদা থাকবে। মানসিক বুদ্ধিমত্তা আসলে একধরনের সাধারণ দক্ষতা। এই দক্ষতা মানুষের বৈচিত্র্যময় মানসিকতার মাঝে একাত্বতা সৃষ্টিতে সাহায্য করে।

আপনার এই দক্ষতা কতটুকু, তা বোঝা যায় নিজের এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব সহ চারপাশের মানুষজনের মানসিক অবস্থার সাথে আপনি নিজেকে ঠিক কতখানি মানিয়ে নিয়ে আচরণ করছেন তার উপর ভিত্তি করে। মানসিক বুদ্ধিমত্তা আমাদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অনেকাংশে প্রভাবিত করে। যারা ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে কাজ করতে চান, এই দক্ষতাটি তাদের অবশ্যই থাকতে হবে।

মানব ব্যবস্থাপনা

ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে গেলেও মানবিক দক্ষতাগুলোর সবসময় ই প্রয়োজন থাকবে। তাই মানব ব্যবস্থাপনার মতো দক্ষতার চাহিদা বাড়বে। মানুষ হিসেবে আমরা সৃজনশীল শক্তির অধিকারী- এ কথা যেমন সত্যি, তেমনি হতাশা, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তার মতো বিষয়গুলো যে আমাদের প্রভাবিত করে সে কথাও সত্যি।

তাই যিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদে থাকবেন, তাকে অবশ্যই জানতে হবে কীভাবে তার দলের সদস্যদের পরিচালনা করতে হয়, তাদের অনুপ্রাণিত করতে হয় আর সকলের প্রয়োজন বুঝতে হয়। সঠিক মানব ব্যবস্থাপনা হলো আশানুরূপ উৎপাদনের মূল চাবিকাঠি। এই দক্ষতাটি সবার জন্য, বিশেষ করে যারা অধিনায়ক স্থানীয় পদে কাজ করতে চান, তার অবশ্যই অর্জন করা প্রয়োজন।

সঠিক বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা

এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি দক্ষতা। প্রযু্ক্তির বদৌলতে তথ্য জোগাড় করাটা বর্তমানে খুবই সহজ, কিন্তু সেই তথ্যকে বিশ্লেষণ করে, যাচাই বাছাই করে তা থেকে সমাধান বা নতুন উপায় খুঁজে বের করার মতো লোকের ভীষণ অভাব। তাই সঠিক বিচার এবং সিদ্ধান্ত নিতে জানে এমন লোকের চাহিদা যে দিন দিন বাড়বে, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই দক্ষতা বাড়াতে হলে এখন থেকেই তথ্য যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করুন। এজন্য যেটা করতে পারেন সেটা হলো বিভিন্ন কেস স্টাডি ও তথ্য নিয়ে প্র্যাকটিস করতে পারেন। এগুলো থেকে সমাধান বা নতুন কোনো উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার সঠিক বিচার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা গড়ে উঠবে।

সেবামূলক মনোভাব

সেবামূলক মনোভাব মানে শুধু এই নয় যে আপনি অবিরত মানুষের সেবা করে যাবেন। বরং আপনাকে সেবা দিতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী। ভোক্তা আসলে কী চাইছেন, তার কী প্রয়োজন- সেটার উপর ভিত্তি করে যেমন পণ্য উৎপাদন করতে হয়, তেমনি করে আপনার প্রতিষ্ঠান বা সহকর্মী কিংবা ক্রেতার চাহিদা, মূল্যবোধ, পছন্দ অপছন্দ, আশংকা ইত্যাদি বিবেচনা করে সে অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করতে জানতে হবে এবং অবশ্যই কাজের জায়গায় সৎ হতে হবে।

সমঝোতা

এই সমঝোতা মানে সরাসরি দর কষাকষি না হলেও অনেকটা সেরকমই। সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যখন রোবট বা মেশিন টেকনিক্যাল কাজের অনেকটা অংশই দখল করে নেবে। যেহেতু রোবট বা মেশিনের আমাদের মতো মস্তিষ্ক নেই এবং তাদের থেকে বুদ্ধিমত্তা আমাদেরই বেশি, তাই সমঝোতা স্থাপনের কাজটি আমাদেরই করতে হবে।

অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সহকর্মী কিংবা ক্লায়েন্ট সবাইকে সামলাতে হলে আপনার অবশ্যই ভালো সমঝোতা করার দক্ষতা থাকতে হবে। সমঝোতা শব্দটা শুনে দর কষাকষির মতো একটা সহজ বিষয় মনে হলেও সেটা অফিসিয়াল কাজের বেলায় অতটা সোজা নয়। এজন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, সঠিক জ্ঞান আর যোগাযোগ দক্ষতা।

 

সবশেষে এটাই বলবো যে আপনি যদি নিজেকে সফল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তাহলে আপনার অবশ্যই কিছু দক্ষতা থাকা আবশ্যক। যদি নিজের কিছুই জানা না থাকে তাহলে পরিশ্রম করুন এবং দক্ষতা অর্জন করুন। পরিশ্রম হচ্ছে উন্নতির মুল চাবিকাঠি। খুব অল্প কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে কম সময়ের মাঝেই আপনি অনেক বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলতে পারবেন। আপনার উন্নত ভবিষ্যতের কামনা রইল সবসময়।

 

উৎসঃ

https://www.topuniversities.com/student-info/careers-advice/what-skills-will-you-need-future