শিক্ষা জীবন শেষে আসে কর্মজীবন। কর্মজীবনে সফল হবার জন্য শিক্ষা জীবনেই একটু একটু করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। তা হতে পারে বিভিন্ন ভাবে। আমরা এখানে ভ্রমণ এর মাধ্যমে কর্মজীবনের সফলতা নিয়ে আলোচনা করবো। ভ্রমণ কেবল এডভেঞ্চার বা মজার জার্নি নয়। এ থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে। তো কিভাবে তা নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হল:

১) বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতার সাথে পরিচয়:

চীনের কোনো এক পাণ্ডা অভয়ারণ্যে কাজ করা বা আমেরিকায় সামার ক্যাম্প করা অথবা বার্সেলোনার কোনো ক্যাফেতে কাজ করা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। এ অভিজ্ঞতা কীভাবে কাজে লাগতে পারে? ভ্রমণরত অবস্থায় দেশের বাইরে কাজ পাওয়াটা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। তবে এ অভিজ্ঞতা যদি নিজের সি.ভি এর সাথে যোগ করা যায় তবে তা বড় সম্পদ হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে পরিচয় মেলে যে আপনি যেকোনো চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং বিরুদ্ধ পরিবেশে বা যেকোনো পরিস্থিতিতে কাজ চালিয়ে যেতে ও উপার্জন করতে প্রস্তুত। যা নিশ্চিত করবে আপনার কর্মদক্ষতা ও অভিযোজন ক্ষমতা।

২) নতুন ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচয়:

দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণের সাথে সাথে আপনার পরিচয় হবে বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠী ও বিভিন্ন জনপদের সাথে। ভিন্ন ভিন্ন ভাষা শিক্ষার সাথে সাথে ভিন্ন ধারার সংস্কৃতি, লোকালয়ের সাথে পরিচিতি আপনার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে যা পরবর্তীতে হাজারো প্রার্থীর ভিড়ে আপনাকে ভিন্ন ও অসাধারণ সুবিধা দেবে, নিজেকে ভিন্নভাবে প্রকাশের জন্যে।

৩) অবসন্নতা বা কঠিন সময় চলতে শেখা:

ভ্রমণে যেমন মজা, আনন্দ ও উপভোগ্য অনেক বিষয় থাকে তেমনি থাকে বিভিন্ন ধরণের ভোগান্তি। বিশেষত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, বৈদেশিক মুদ্রা পরিবর্তনসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ভোগান্তির পাশাপাশি আছে অসাধু লোকের প্রতারণার ভয়। তবে এসব ভোগান্তি বা কঠিন সময়কে অতিক্রম করে নিতে হয় পরবর্তী পদক্ষেপ যা অবসন্নতা বা ভোগান্তি কাটানোর পাশাপাশি কঠিন সময় পার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে।

৪) অপরিচিতদের সাথে সম্পর্ক করা:

চলার পথে বা ভ্রমণের বিভিন্ন সময়ে পৃথক পৃথক দেশের ভিন্ন জনপদ ও বিভিন্ন ধাঁচের ও ব্যাক্তিত্বের মানুষের সাথে পরিচয় হয়। যার থেকে যেকোনো আগন্তুকের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে এক অগ্রাধিকার দেয়। আর এ অগ্রাধিকার হলো অভিজ্ঞতা। ভ্রমণের সময়ে বিভিন্ন লোক এর সাথে চলাফেরার যে কৌশল রপ্ত করা যায়, তা কাজে দেয় কর্মজীবনে নতুনত্বের সাথে মানিয়ে নিতে।

৫) বৈশ্বিক বন্ধুত্ব সৃষ্টির সুযোগ:

যেহেতু আপনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করছেন সেহেতু সুযোগ রয়েছে বিশ্বজুড়ে বন্ধু তৈরী করার। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধুনিকতায় ঘড়ে বসে বিশ্বজোড়া বন্ধু বানানো যায়। তবে, বাস্তবিক কোথাও যেয়ে বন্ধু করা আর ভার্চুয়াল বন্ধু করার মাঝে আকাশ পাতাল বিস্তর। ভিন্ন পরিবেশে সম্পূর্ণ অজানা ব্যাক্তির সাথে বন্ধুত্ব করাটা সবসময়ই বিচিত্র অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয় যা কর্মজীবনে বন্ধুত্ব তৈরীতে সহায়ক।

৬) অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি:

ভ্রমণকালে বিভিন্ন পরিবেশের সাথে, কখনো বা অনুকুল কখনো বা প্রতিকুল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তবে এ বাধা বিপত্তি অতিক্রম করেই পদচারণা সামনের দিকে নিয়ে যেতে হয়। যা বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে নিজস্ব অভিযোজনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ থেকে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭) অধিক দায়িত্ববান করে:

শিক্ষাজীবনে অধিকাংশই আমরা বাবা-মা এর প্রদত্ত অর্থের উপর নির্ভরশীল। তো দায়িত্বপরায়ণতা বোধ সহজে ভেতরে তৈরী হয় না যতদিনে না পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়। ভ্রমণকালে বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেয়া, অর্থের উপর লাগাম টানা সহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দেয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। যা কিনা পরবর্তীতে আপনাকে কর্মজীবনে অধিকতর দায়িত্ববান করে।

 

এ বিষয়টি বেশ পরিষ্কার যে দেশের বাইরে যখন ভ্রমণরত অবস্থায় থাকবেন তখন একাধিকবার বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হবে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে সমস্যা সমাধান ও হয়ে যাবে। তবে, এ থেকে বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখা ও প্রয়োজনীয় কর্তব্য সম্পর্কে পূর্ব অভিজ্ঞতা হয়। যা পরবর্তীতে কর্মজীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে ও আপনি পাবেন সবথেকে বেশি গ্রহণযোগ্যতা।

 

Source:

https://www.savethestudent.org/student-jobs/3-ways-travel-can-help-you-land-the-perfect-job.html